‘বরের প্রাক্তন স্ত্রী এখনও আসে বাড়িতে!’ ‘লুকিয়ে চুরিয়ে কিছু নয়, যা হবে সামনে!’ ‘আমি না থাকাকালীন আমার বাড়িতে…’ বরের আগের পক্ষের স্ত্রীর অবাধ যাতায়াত! অনিশ্চয়তায় ভোগেন অভিনেত্রী? জানালেন কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়!

টলিউডের (Tollywood) জনপ্রিয় অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় (Koneenica Banerjee) তাঁর দুর্দান্ত অভিনয়ের পাশাপাশি সবসময়ই স্পষ্ট কথার জন্য পরিচিত। তবে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর একটি ইন্টারভিউয়ের অংশ ভাইরাল হতেই নেটদুনিয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে। স্বামীর প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং তাঁদের বাড়িতে আসা-যাওয়া নিয়ে কনীনিকা যে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন, তা আধুনিক দাম্পত্যের সমীকরণকে এক বিরাট বিতর্কের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

ভিডিওটিতে কনীনিকাকে বলতে শোনা গেছে, তাঁর বরের আগের পক্ষের স্ত্রী জীবিত এবং তাঁদের বিয়ের পরেও তিনি নিয়মিত বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। অভিনেত্রীর এই মন্তব্যের পর নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, একজন বর্তমান স্ত্রী কীভাবে স্বামীর জীবনে প্রাক্তনের এই অবাধ যাতায়াত মেনে নিতে পারেন? সমাজ যেখানে প্রাক্তনের ছায়া থেকে দূরে থাকাকেই সুস্থ সম্পর্কের চাবিকাঠি মনে করে, সেখানে কনীনিকার এই পারিবারিক সমীকরণ রীতিমতো চোখ কপালে তোলার মতো।

অভিনেত্রী অবশ্য নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, জোর করে নিজেকে উদার দেখানোর কোনো ইচ্ছে তাঁর ছিল না এবং তিনি জেনেশুনেই এই বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু বিতর্ক দানা বেঁধেছে তাঁর অন্য একটি মন্তব্যে, যেখানে তিনি বলেছেন প্রাক্তন স্ত্রী বাড়িতে এলে তিনি নিজে অনেক সময় সেখান থেকে সরে যেতেন বা আড়ালে চলে যেতেন। সমালোচকদের প্রশ্ন, যদি সম্পর্ক এতটাই স্বচ্ছ এবং ‘লুকোচুরিহীন’ হবে, তবে প্রাক্তন স্ত্রীর উপস্থিতিতে বর্তমান স্ত্রীকে কেন ঘর ছাড়তে হবে? এটা কি কোনো সুস্থ সহাবস্থান নাকি পরোক্ষ মানসিক চাপ?

আরও পড়ুন: ‘সমাজের কল্যাণে তাঁদের কী ভূমিকা?’ ‘বিয়ের পবিত্রতা নষ্ট করছে এরা…’ ‘এদেরকে এত প্রাধান্য দেওয়ার ফলে আজ…’ ‘বাড়বাড়ন্তেই বিয়ে পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে…’ এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় নিয়ে বি’স্ফোরক অনুরাধা পড়োয়াল! সমাজ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়!

এই জটিল পরিস্থিতি নিয়ে কনীনিকা নিজেই স্বীকার করেছেন যে, মানুষের মনে ইনসিকিউরিটি বা অনিরাপত্তাবোধ থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। তিনি চেয়েছিলেন, প্রাক্তন স্ত্রী যোগাযোগ করলে যেন তাঁর সাথেও সরাসরি কথা বলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই ত্রিমুখী মানসিক টানাপোড়েন থেকে বাঁচতে অভিনেত্রী যে রাস্তা বেছে নিয়েছেন, তা আরও বিতর্কিত। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই সমস্ত চ্যাপ্টার নিয়ে তিনি যত কম জানবেন, ততই ভালো এবং সুস্থ থাকবেন।

কনীনিকার এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি সমাজকে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। একদিকে প্রাক্তনের সাথে এমন যোগাযোগকে আধুনিকতা ও পরিপক্বতার তকমা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে একে নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে ‘মানসিক শান্তি’ খোঁজার এক ব্যর্থ চেষ্টা বলেও দাগিয়ে দিচ্ছেন অনেকে। বরের আগের পক্ষের স্ত্রীর এই উপস্থিতি মেনে নেওয়া কনীনিকার মহানুভবতা, নাকি এক চরম বাস্তববাদী আপস সেই বিতর্ক এখন টলিপাড়া থেকে ড্রয়িংরুম সর্বত্র বহাল।

Back to top button