উজিকে বাঁচাতে ঋষির পাল্টা আঘাত! সায়ন্তনের নিখোঁজ রহস্যে নতুন মোড়! সায়ন্তনকে আটকে রেখে মোক্ষম চাল দিলো উজি! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) অন্যতম জনপ্রিয় এবং চর্চিত ধারাবাহিক হলো ‘জোয়ার ভাঁটা’ (Jowar Bhanta)। ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, ঋষি হাতের লেখা মিলিয়ে দেখার জন্য ডায়েরি আর চিঠি বাড়িতে পরীক্ষা না করে, চরম গোপনীয়তা বজায় রাখতে লুকিয়ে অফিসে নিয়ে যায়। কিন্তু ভাগ্য সহায় না থাকায়, ঠিক সেই মুহূর্তেই সায়ন্তন সেখানে এসে হাজির হয় এবং ঋষির এই গোপন তৎপরতা দেখে ফেলে। এই ঘটনাটি সায়ন্তনের মনের ভেতরের সন্দেহকে আরও উস্কে দেয়। অন্যদিকে, পরিস্থিতির জটিলতা বাড়িয়ে নিশা একটি ভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করলে উজি সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হতে পারে যে ওটা নিশারই ফোন ছিল। অথচ ঠিক একই পরিস্থিতিতে যদি জিৎ ফোন করত, তবে কিন্তু উজির মনে তীব্র সন্দেহ দেখা দিত। আবার ঋষির ঘরে সায়ন্তন ও খেয়া উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও উজি যেভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জানালার বাইরে থেকে চিরকুট ছুঁড়ে দিল, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য ও রোমহর্ষক।

ঘটনাপ্রবাহে উজি এবার সরাসরি সায়ন্তনকে আটকে রেখে সাফ জানিয়ে দেয় যে, এবার তার পলিগ্রাফ টেস্ট করানো হবে। শুধু তাই নয়, রহস্যের জাল ছিঁড়তে দুর্জয় ঘোষালের সঙ্গে সায়ন্তনের আসল সম্পর্কটা ঠিক কী, সেটাও খুঁটিয়ে বের করার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেয় উজি। এতদিন পর্যন্ত সায়ন্তন নিজেকে যতই শান্ত, ঠান্ডা মাথার আর ধীরস্থির দেখানোর চেষ্টা করুক না কেন, উজির মুখে পলিগ্রাফ টেস্ট তথা লাই ডিটেক্টর পরীক্ষার কথা শুনে এবার তার মুখের ভাব পুরোপুরি বদলে যায়। ধুরন্ধর সায়ন্তনকে এই প্রথম স্পষ্ট চিন্তিত ও আতঙ্কিত দেখায়, যা গল্পের মোড় ঘোরানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দর্শকদের মনে জমে থাকা দীর্ঘদিনের সব সন্দেহের উত্তর খুঁজতে উজি আর দেরি করেনি। সে দত্তবাবুর সাহায্য নিয়ে সায়ন্তনের পলিগ্রাফ টেস্টের সমস্ত ব্যবস্থা সম্পন্ন করে। পরীক্ষার শুরুতে নিজের স্বভাবসুলভ চতুরতায় অনেক চেষ্টা করেও সায়ন্তন শেষ পর্যন্ত আর সত্যিটা লুকিয়ে রাখতে পারে না। মেশিনের নিখুঁত রিপোর্টের সামনে তার মিথ্যের দেওয়াল ভেঙে পড়ে এবং সে নিজের মুখে সব অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য হয়। নিশার বিয়ের দিন থেকে শুরু করে একের পর এক করা সমস্ত অপরাধের খতিয়ান সে একে একে উগরে দেয়। এমনকি খেয়াকে সে কীভাবে ফাঁদে ফেলে ও ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করেছিল, সেই জঘন্য সত্যটাও সে মেনে নেয়, আর উজি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে এই পুরো কথোপকথনটি রেকর্ড করে রাখে।

সায়ন্তনের মুখ থেকে সমস্ত সত্য বের করে নেওয়ার পর উজি আর এক মুহূর্তও নষ্ট না করে সরাসরি নিশাকে ফোন করে। নিশার জীবনের এতদিনের অন্ধকার দূর করতে সে সায়ন্তনের স্বীকারোক্তির সব কথা নিশাকে জানিয়ে দেয়। অন্যদিকে, দীর্ঘক্ষণ পার হয়ে যাওয়ার পরও সায়ন্তন বাড়ি না ফেরায় তার স্ত্রী খেয়া তীব্র দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। সে কিছুতেই বুঝতে পারে না সায়ন্তন হঠাৎ কোথায় নিখোঁজ হয়ে গেল এবং তার সঙ্গে কোনো অঘটন ঘটল কি না।

আরও পড়ুনঃ ‘আমার ঠাকুমার কীর্তন তো হিট হয়নি, কিন্তু ইমনের পাঁচালী হিট!’ ‘ঘুরিয়ে আমাকে কমেডিয়ান বানিয়ে দিল!’ ইমন চক্রবর্তীকে নিয়ে রসিকতায় মাতলেন সজল ঘোষ? প্রত্যুত্তরে কি বললেন গায়িকা?

সায়ন্তনের এই আকস্মিক নিখোঁজ হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে যেন উজির ওপর কোনো বিপদের আঁচ না আসে, তার জন্য ঋষি আগে থেকেই একটি চাল চালি খেলে রেখেছিল। ঋষির একটি কথা থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, এবার আর আইনি বা সামাজিকভাবে কেউ উজির দিকে আঙুল তুলতে পারবে না। কারণ সায়ন্তন নিখোঁজ হওয়ার পরপরই ঋষি নিজে থানায় গিয়ে তার নামে একটি অফিশিয়াল মিসিং ডায়েরি করে আসে। ঋষির এই দূরদর্শিতা উজিকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করে দেয় এবং আগামী পর্বগুলোকে এক দারুণ ও রোমাঞ্চকর পরিণতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

Back to top button