‘আজকাল স্টেশনে রাত কাটানো ফ্যাশন হয়ে গেছে!’ ‘সবাই নিজেকে গরিব সাজাতে ভালোবাসে!’ ‘জীবনে কষ্ট থাকবেই, তাই বলে সেটা বিক্রি করে…’ বর্তমান প্রজন্মের স্ট্রাগল মানেই স্টেশনে ঘুমোনো! এমন অদ্ভুত গল্প নিয়ে কি বললেন তনিমা সেন?

বাংলা অভিনয় জগতের অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং প্রবীণ এক ব্যক্তিত্ব হলেন অভিনেত্রী তনিমা সেন (Tanima Sen)। থিয়েটার থেকে শুরু করে টেলিভিশন এবং বড় পর্দা সব মাধ্যমেই নিজের সাবলীল অভিনয় ও চমৎকার কমিক টাইমিংয়ের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের মন জয় করে রেখেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর স্পষ্টবক্তা ও সোজাসাপ্টা স্বভাবের জন্যও তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে বিশেষভাবে পরিচিত। যেকোনো বিষয়ে নিজের খোলামেলা ও সৎ মতামত প্রকাশ করতে তিনি কখনোই দ্বিধাবোধ করেন না।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তনিমা সেন বর্তমান সময়ের এক অদ্ভুত প্রবণতা নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, আজকাল অনেকেই নিজের কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলোর কথা বা অতীত জীবনের লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে নিজেদের অতিরঞ্জিতভাবে গরিব বা অসহায় হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, নিজেদের সংগ্রামকে বড় করে দেখানোর জন্য এই যুগে এক ধরণের গরিব সাজবার নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে, যা আদতে একেবারেই অনভিপ্রেত।
নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে প্রবীণ এই অভিনেত্রী প্রশ্ন তোলেন, আজকাল অনেকেই দাবি করেন যে তারা নাকি স্ট্রাগলের দিনগুলোতে স্টেশনে রাত কাটিয়েছেন। অথচ খোঁজ নিলে দেখা যাবে, তাদের হয়তো নিজস্ব বাড়ি রয়েছে বাগবাজার বা শ্যামবাজারের মতো খাস কলকাতা এলাকায়। তনিমা সেনের সহজ প্রশ্ন, যার বাড়ি এত কাছে, সে কেন অযথা শিয়ালদা স্টেশনে গিয়ে রাত কাটাতে যাবে? যেখানে একটা রিকশা চেপেই অনায়াসে বাড়ি ফিরে আসা যেত, সেখানে এমন অতিরঞ্জিত গল্প বলার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
কারও প্রতি কোনো ক্ষোভ না রেখে অভিনেত্রী নিজের জীবনের বাস্তব সংগ্রামের কথাও অকপটে ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি জানান যে, তাঁদের পারিবারিক গাড়ির ব্যবসা ছিল এবং একসময় কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে তিনি নিজে জঙ্গা জিপ চালিয়ে সল্টলেকের রাস্তা থেকে বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া-আসার কাজ করেছেন। জীবন চালানোর জন্য এই কাজ করতে গিয়ে তাঁকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে, কিন্তু সেই কঠিন সময়টাকে তিনি কখনও অন্যের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য বড় করে বা নাটকীয় করে দেখাননি।
আরও পড়ুনঃ সায়ন্তনের খেলা শেষ! উজির হাতের মুঠোয় দুই শ’য়তান! এক চালে ফাঁস হবে দুর্জয় ঘোষালের আসল রহস্য? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
সবশেষে প্রবীণ এই অভিনেত্রী অত্যন্ত সুন্দর ও বাস্তববাদী একটি বার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, খারাপ সময় বা জীবনের লড়াই প্রত্যেকের জীবনেই কম-বেশি আসে এবং সেটাকে অত্যন্ত সাধারণভাবেই গ্রহণ করা উচিত। নিজের অতীতকে অতিরঞ্জিত করে বা মিথ্যা গল্পের আশ্রয় নিয়ে লোকের সহানুভূতি কুড়ানোর মধ্যে কোনো মহত্ত্ব নেই। বরং জীবনের বাস্তবতাকে সহজভাবে মেনে নিয়ে সততার সাথে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকাই হলো আসল সংগ্রাম।

