‘রাত হলেই খেতাম ২৫টা রুটি…’ ‘সপ্তাহে একদিন ১ কেজি খাসির মাংস!’ ‘দাদু আমাকে সবসময়…’ ১০ বছর বয়সে একাই খেতেন প্রায় পাঁচ জনের খাবার! ছোটবেলার স্মৃতি নিয়ে অকপটে অভিনেত্রী ছন্দা চট্টোপাধ্যায়!

বাংলা চলচ্চিত্র এবং নাট্যজগতের এক অত্যন্ত পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় মুখ হলেন ছন্দা চট্টোপাধ্যায় (Chhanda Chatterjee)। দশকের পর দশক ধরে তিনি তাঁর সাবলীল অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে রেখেছেন। সাদা-কালো যুগ থেকে শুরু করে আজকের ডিজিটাল মাধ্যম সর্বত্রই তাঁর অভিনয় প্রতিভার ছাপ স্পষ্ট। উত্তম কুমারের সময়কার একাধিক জনপ্রিয় সিনেমা থেকে শুরু করে কালজয়ী সব থিয়েটার ও বর্তমানের বহু ধারাবাহিক ও মেগা নাটকে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে বারবার নিজেকে প্রমাণ করা এই প্রবীণ অভিনেত্রী দর্শকদের কাছে আজও সমান জনপ্রিয়।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর একটি সাক্ষাৎকার ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। তিনি তাঁর ছোটবেলার এক অবিশ্বাস্য অথচ মিষ্টি স্মৃতির কথা শেয়ার করেছেন। সাক্ষাৎকারে কথায় কথায় উঠে আসে তাঁর ছোটবেলার খাদ্যাভ্যাসের গল্প। তিনি জানান, ১০ বছর বয়স পর্যন্ত তাঁর চেহারা দেখে মানুষ নাকি রীতিমতো চমকে যেত! আর সেই চেহারার পেছনে আসল রহস্য ছিল তাঁর ছোটবেলার দারুণ খাওয়ার ক্ষমতা।
অভিনেত্রী হাসিমুখে স্মৃতিচারণ করে জানান, ছোটবেলায় যখন তিনি মামাবাড়িতে থাকতেন, তখন তাঁর খাওয়ার বহর ছিল দেখার মতো। রাতের একবেলাতেই নাকি তিনি অনায়াসে ২৫টি আটার রুটি এবং পুরো এক কেজি খাসির মাংস সাবাড় করে দিতেন! একজন ১০ বছর বয়সী সাধারণ বাচ্চার পক্ষে যা ভাবাও অসম্ভব, ছন্দা দেবী তা রোজকার অভ্যাসে পরিণত করেছিলেন। তাঁর মতো পুঁচকে মেয়ের এমন রাজকীয় খাওয়া দাওয়ার কথা শুনে এখনকার নেটিজেনদের চোখও কপালে উঠেছে।
তবে নাতনির এই ভোজনরসিকতাকে দারুণ প্রশ্রয় দিতেন তাঁর দাদু। অভিনেত্রী জানান, তাঁর এই বিপুল পরিমাণ খাওয়ার সমস্ত জোগাড় এবং খরচ একহাতে সামলাতেন তাঁর দাদু স্বয়ং। শুধু ২৫টি রুটি আর এক কেজি মাংসেই শেষ নয়; রাত ৯টার দিকে বাইরে থেকে বাড়ি ফেরার পর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আরও আধ কেজি খাঁটি গরুর দুধ খেয়ে নিতেন তিনি। দাদুর এই অফুরন্ত ভালোবাসা আর প্রশ্রয়েই তাঁর ছোটবেলা কেটেছে ভীষণ আনন্দে।
আরও পড়ুনঃ রহস্যটা লুকিয়ে ছিল মায়ের আঁচলে! ‘আমি ছোট থেকেই সপ্তাহে অন্তত তিন দিন…’ কোন জাদুবলে এই বয়সেও নিজেকে ধরে রেখেছেন দীপান্বিতা হাজারী? ডাক্তার তথা অভিনেত্রীর অপরূপ ত্বকের আড়ালে লুকিয়ে কোন রহস্য?
ছোট নাতনির এমন খাওয়ার বহর দেখে অবশ্য বাবা-মায়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়াটাই স্বাভাবিক ছিল। ছন্দা দেবীর বাবা পেশায় একজন চিকিৎসক ছিলেন। মেয়ের এই মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া দেখে তিনি একদিন বেশ উদ্বেগের সঙ্গেই বলেছিলেন, এভাবে খেতে থাকলে শরীর তো অতিরিক্ত ভারী হয়ে যাবে, তাই এবার খাওয়া একটু কমানো দরকার। কিন্তু সেখানেও ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অভিনেত্রীর দিদিমা। আদর মাখানো কড়া গলায় জামাইকে ধমক দিয়ে দিদিমা বলেছিলেন, নাতনিকে যেন খাওয়ার ব্যাপারে একদম বারণ না করা হয়। ছোটবেলার সেই মিষ্টি ঝগড়া আর আদরের স্মৃতিই প্রবীণ অভিনেত্রী আজীবন পরম যত্নে বুকে আগলে রেখেছেন।

