‘সংসারে সুখ বজায় রাখতে একটু আধটু ঢপ মারতেই হয়!’ ‘প্রবীণদের সঙ্গে থাকাটাই একটা…’ পর্দার সামনে হোক বা পিছনে, সব ক্ষেত্রেই অভিনয়ে পটু দেবরাজ মুখোপাধ্যায়! রিল থেকে রিয়েল, নিজের জীবন নিয়ে কি বললেন অভিনেতা?

বর্তমান সময়ের পরিচিত অভিনেতা দেবরাজ মুখোপাধ্যায় (Debraj Mukherjee) তাঁর সাবলীল অভিনয় এবং চমৎকার ব্যক্তিত্বের জন্য দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। থিয়েটার বা নাটকের মঞ্চ থেকে উঠে আসা এই অভিনেতা সিনেমা এবং ছোট পর্দা উভয় মাধ্যমেই নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। চরিত্রকে বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর আলাদা একটি সুনাম রয়েছে। সম্প্রতি পরিচালক সায়নের একটি নতুন থ্রিলার ছবির শুটিং সেটে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের অভিনয় জীবন, সহ-অভিনেতাদের সাথে সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এক চমৎকার আড্ডায় মেতে ওঠেন তিনি।
অভিনেতা দেবরাজ জানান যে, তিনি খুব শীঘ্রই একটি মার্ডার মিস্ট্রি বা রহস্যধর্মী ছবিতে অভিনয় করতে চলেছেন। ছবির গল্পটি আবর্তিত হয়েছে একদল পুরোনো বন্ধুদের ‘রিইউনিয়ন’ বা পুনর্মিলনকে কেন্দ্র করে। সিনেমার গল্পে দেবরাজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে, যেখানে তিনি অন্যদের জেরা করবেন। বাস্তব জীবনেও বাবার কাছে, মায়ের কাছে বা স্ত্রীর কাছে বিভিন্ন সময় মজার ছলে জেরার মুখে পড়তে হলেও, সিনেমার পর্দায় এই জেরা করার অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য সম্পূর্ণ নতুন এবং রোমাঞ্চকর ছিল।
এই ছবিতে তাঁর সাথে কাজ করছেন দেবেশ রায়চৌধুরী, সঞ্জীব সরকার ও অপরাজিতা আঢ্যর মতো ইন্ডাস্ট্রির অত্যন্ত গুণী ও প্রবীণ অভিনয়শিল্পীরা। প্রবীণ এই তারকাদের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে দেবরাজ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, কলকাতা থেকে দূরে আউটডোর শুটিংয়ের অবসরে তাঁদের সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত ছিল শিক্ষণীয়। অভিনেতা হিসেবে তাঁরা যেমন অতুলনীয়, মানুষ হিসেবেও ঠিক ততটাই অসাধারণ। তাঁদের সাথে স্ক্রিন শেয়ার করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন তিনি।
শুটিং সেটের পরিবেশ নিয়ে কথা বলার সময় দেবরাজ এক অদ্ভুত জীবনদর্শন তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী, তাই অযথা টেনশন বা অহংকার না করে সবসময় হাসিখুশি ও চিল মুডে থাকা উচিত। তাঁর মতে, এখন আর ক্যামেরার সামনে অতিরিক্ত অভিনয় চলে না যত বেশি ন্যাচারাল বা স্বাভাবিক থাকা যায়, দর্শক তত বেশি পছন্দ করেন। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের অ্যাটিটিউড নিয়ে তিনি বলেন, অহংকার বা অ্যাটিটিউড দেখানোর জায়গা হলো ক্যামেরার সামনে অ্যাকশন থেকে কাট পর্যন্ত। বাস্তব জীবনে চায়ের দোকানে সাধারণ মানুষের মতো বসে আড্ডা দেওয়াতেই আসল আনন্দ।
আরও পড়ুনঃ ঘুরতে গিয়ে ভয়ংকর ফাঁদে গোটা বসু পরিবার! বাবা মাকে ফিরে পেয়েও কি হারিয়ে ফেলবে পারুল? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে মানুষ যখন ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে নিজেদের কৃত্রিম সুখের ছবি দেখাতে ব্যস্ত, দেবরাজ তখন সম্পূর্ণ উল্টো পথের পথিক। তিনি বর্তমান মুহূর্তকে উপভোগ করতে ভালোবাসেন এবং শুটিংয়ের বাইরে নিজের স্ত্রী ও পাড়ার পুরোনো বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষ একদিন চলে যাবে কিন্তু প্রকৃতি ও মানুষের ভালোবাসা রয়ে যাবে। তাই সামাজিক মাধ্যমের মেকি দেখনদারি এড়িয়ে প্রকৃতির মাঝে মন খুলে চিল করা এবং জীবনকে চেটেপুটে উপভোগ করাই তাঁর জীবনের মূল মন্ত্র।

