‘আজও আমি সেই মাটিতেই নিজের…!’ ‘মা আমায় বলেছিলেন, সবসময় মাথা নিচু করে চলবে’, যশ-খ্যাতির শীর্ষে থেকেও নেই কোন অহংকার! মায়ের দেওয়া মন্ত্রে আজও নিজেকে সাধারণের মাঝেই ধরে রেখেছেন মিঠুন চক্রবর্তী!

ভারতীয় চলচ্চিত্র দুনিয়ার অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ও আপামোর বাঙালির প্রিয় ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। দশকের পর দশক ধরে নিজের অসাধারণ অভিনয়, সিগনেচার স্টাইল আর নাচের জাদুতে কোটি কোটি মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু রুপোলি পর্দার এই জাঁকজমক আর আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক অত্যন্ত সাধারণ মনের মানুষ। সম্প্রতি নিজের জীবনের এক অন্তরঙ্গ সত্য তুলে ধরে অভিনেতা জানালেন যে, শত খ্যাতি আর সাফল্যের মাঝে দাঁড়িয়েও তিনি আজও নিজের মাটিকে ভুলে যাননি। তাঁর এই চিরকালীন বিনম্র স্বভাব আজও সাধারণ মানুষকে নতুন করে তাঁর প্রেমে পড়তে বাধ্য করে।

মিঠুন চক্রবর্তী অকপটে স্বীকার করেছেন যে, আজ তিনি দেশজোড়া সুপারস্টার হতে পারেন, কিন্তু মনের দিক থেকে তিনি এখনও সেই আগের মতোই আছেন। তিনি বলেন, আজও তাঁর মনের ভেতর সেই পাড়ার রকে বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া সাধারণ ছেলেটি একইভাবে বেঁচে রয়েছে। সময়ের সাথে সাথে তাঁর চারপাশের পরিস্থিতি বদলেছে, বদলেছে তাঁর জীবনযাত্রার মান, কিন্তু তাঁর ভেতরের খাঁটি মানুষটির বিন্দুমাত্র পরিবর্তন ঘটেনি। আজও সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যেতে বা তাঁদের সুখ-দুঃখে শামিল হতে তাঁর মনে কোনো দ্বিধা বা আড়ষ্টতা কাজ করে না।

অভিনেতার এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের পরও পা মাটিতে রাখার পেছনের আসল রহস্যটি হলো তাঁর মায়ের দেওয়া এক অমূল্য শিক্ষা। মিঠুন জানান, তাঁর মা তাঁকে জীবনের এক পরম সত্য শিখিয়েছিলেন। মা বলেছিলেন, জীবনে তুমি যতই বড় হও না কেন, যত সাফল্যই পাও না কেন, সবসময় মাথা নিচু করে চলবে। কখনো যেন নিজের মনে অহংকারকে এতটুকু জায়গা দিও না। মায়ের সেই সহজ-সরল কিন্তু গভীর উপদেশটিকেই মিঠুন চক্রবর্তী তাঁর জীবনের মূল মন্ত্র করে নিয়েছেন, যা তাঁকে প্রতি মুহূর্তে মাটিতে পা দিয়ে চলতে এবং সবার সাথে সমানভাবে মিশতে সাহায্য করেছে।

মিঠুন চক্রবর্তীর জীবন সংগ্রাম আজ আর কারোর অজানা নয়। একেবারে শূন্য থেকে শুরু করে কঠোর পরিশ্রম আর জেদের জোরে তিনি আজ ভারতীয় সিনেমার এক অবিসংবাদিত নাম হয়ে উঠেছেন। বলিউডে নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করার পাশাপাশি একাধিক জাতীয় পুরস্কার থেকে শুরু করে সম্মানজনক ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কার সবই এসেছে তাঁর ঝুলিতে। সাধারণত এই পর্যায়ের বিপুল সাফল্য যেকোনো মানুষের মনেই কিছুটা অহংকারের জন্ম দিতে পারে, কিন্তু মিঠুন এখানেই সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি মনে করেন, এই সমস্ত যশ-খ্যাতি সাময়িক, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা আর নিজের বিনম্র ব্যক্তিত্বই চিরকাল মানুষের মনে থেকে যায়।

আরও পড়ুনঃ ‘আমিই সেদিন ১ ঘণ্টা দেরি করেছিলাম, মুনমুন দি আমার সঙ্গে…’ ‘টাকা হলে আগে ওটা কেনো…’ ‘ওনার ব্যবহারে আমি…’ স্টুডিওয় ১ ঘণ্টা দেরিতে কাঞ্চনা মৈত্র! সেটে অভিনেত্রীকে দেখে কি বলেছিলেন মুনমুন সেন?

বর্তমান যুগে যখন সামান্য সাফল্য পেলেই বহু মানুষ নিজের অতীত ও শিকড়কে ভুলে যায়, তখন মিঠুন চক্রবর্তীর এই সরল জীবনদর্শন সত্যিই এক বড় শিক্ষণীয় বিষয়। কোটি কোটি ভক্তের কাছে তিনি শুধুমাত্র একজন দুর্দান্ত অভিনেতাই নন, বরং একজন আদর্শ মানুষও বটে। মায়ের শেখানো পথ ধরে আজও তিনি যেভাবে নিজেকে ‘মাটির মানুষ’ হিসেবে ধরে রেখেছেন, তা প্রমাণ করে যে আসল মহত্ব কেবল বড় কাজ করার মধ্যে নয়, বরং নিজের মনটাকে সাধারণ ও বিনয়ী রাখার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।

Back to top button