‘রচনা যেটা বলতে চেয়েছিল সেটা বোঝাতে পারেনি!’ ‘পলিটিক্স করে ফ্ল্যাট কেনেনি, বোঝাতে গিয়ে ও যোগ্যতা নিয়ে…’ ‘রাগের মাথায় দু-এক লাইন এদিক-ওদিক হতেই পারে…’ বিতর্কের মাঝে অভিনেত্রীর পাশে ভরত কল! রচনা ব্যানার্জিকে নিয়ে কি বললেন অভিনেতা?

বাংলা বিনোদন দুনিয়ার অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় মুখ ভরত কল (Bharat Kaul)। বিগত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শক মনে জায়গা করে নিয়েছেন। টেলিভিশন মেগা সিরিয়াল থেকে শুরু করে বড় পর্দা কিংবা বর্তমানের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সব মাধ্যমেই তাঁর অবাধ যাতায়াত। সম্প্রতি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা, ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি এবং আর্টিস্ট ফোরামকে কেন্দ্র করে চলা বিভিন্ন বিতর্ক নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা ও স্পষ্ট বক্তব্য রেখেছেন এই প্রবীণ অভিনেতা। তাঁর এই সাক্ষাৎকারটি বর্তমানে টলিপাড়ার অন্দরে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ভরত কল অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, তিনি আদতে একটি রাজনৈতিক সচেতন কংগ্রেস পরিবারের সন্তান। তাঁর শিকড় কাশ্মীরে এবং জওহরলাল নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধীর মতো কাশ্মীরি পণ্ডিতদের আদর্শ ও দেশের প্রতি অবদানকে তিনি মনেপ্রাণে শ্রদ্ধা করেন। তবে কংগ্রেসের আদর্শে বিশ্বাসী হলেও তিনি সক্রিয়ভাবে দলীয় রাজনীতি বা কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনী কেন্দ্র সামলানোর পথে হাঁটেননি। অভিনেতা জানান, একের পর এক টেলিভিশন মেগা সিরিজ, সিনেমা এবং ওটিটি-র কাজের ব্যস্ততার মাঝে কোনো নির্বাচনী এলাকার দায়িত্ব নেওয়া বা সক্রিয় রাজনীতি করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব। তবে ইন্ডাস্ট্রির যেকোনো মানুষের প্রয়োজনে তিনি সবসময়ই দলমতনির্বিশেষে পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।
ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনীতি এবং কাজ পাওয়া নিয়ে যে সমস্ত গুঞ্জন চলে, তারও কড়া জবাব দিয়েছেন ভরত কল। তাঁর দীর্ঘ ৩৪ বছরের কেরিয়ারে তিনি বাংলায় বামফ্রন্টের শাসন দেখেছেন, তৃণমূলের শাসন দেখছেন, আবার কেন্দ্রের বিজেপি শাসনও দেখছেন। তাঁর স্পষ্ট মত, কোনো শিল্পীই রাজনীতি করে বা কোনো বিশেষ দলের চাটুকারিতা করে কাজ পান না। একজন অভিনেতা কাজ পান সম্পূর্ণ নিজের যোগ্যতা এবং দর্শকপ্রিয়তার জোরে। ভোট বা রাজনীতিতে কে জিতল আর কে হারল, তা দিয়ে কোনো প্রকৃত শিল্পীর কেরিয়ার নির্ধারিত হয় না। যারা সদ্য নির্বাচনে জয়ী হয়ে এসেছেন, তাঁদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েও তিনি মনে করিয়ে দেন যে, যোগ্যতাই একজন শিল্পীকে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকিয়ে রাখে, কোনো রাজনৈতিক রঙ নয়।
বর্তমান সময়ে অভিনেত্রী ও সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেশ কিছু মন্তব্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যে তুমুল চর্চা চলছে, সেই প্রসঙ্গে রচনার পাশে দাঁড়িয়েছেন ভরত কল। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান যে, রচনা অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং নিজের যোগ্যতায় আজ এই জায়গায় পৌঁছেছেন। রচনার বক্তব্যকে সমর্থন করে তিনি বলেন, অনেক সময় মানুষ রাগের মাথায় বা ক্ষোভের বশে কথা বলতে গিয়ে দু-একটি লাইন এদিক-ওদিক বলে ফেলতে পারেন, কিন্তু রচনা আদতে যা বোঝাতে চেয়েছিলেন তা অত্যন্ত সাধারণ ছিল। পলিটিক্স করে যে তিনি টাকা রোজগার করেননি এবং নিজের ক্ষমতাবলেই আজ ফ্ল্যাট বা গাড়ি কিনেছেন, সেটাই হয়তো বোঝাতে চেয়েছিলেন। রচনার এই লড়াই ও যোগ্যতার প্রতি সম্মান জানিয়ে ভরত কল বলেন, তিনি শতবার রচনার পাশে আছেন এবং এ বিষয়ে কোনো দ্বিধা নেই।
আরও পড়ুনঃ সৌমিত্রর সম্পত্তির নতুন ওয়ারিশ পারুল! পারুল-গায়ত্রীকে অপমান করলো শিরিন! রেগে গিয়ে শিরিনকে সজোরে চড় পারুলের! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে টলিউডের বর্তমান কাজের পরিবেশ, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের উত্থান এবং আর্টিস্ট ফোরামের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন অভিনেতা। তিনি বলেন, সুজিত সরকার, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো গুণী পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার খিদে শিল্পীদের সবসময়ই থাকে। ওটিটি আসার ফলে বাংলা কনটেন্টের পরিধি আরও বেড়েছে এবং ভালো কাজের মাধ্যমে টিকে থাকার লড়াইও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আর্টিস্ট ফোরাম নিয়ে ওঠা বিতর্কের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ফোরাম কোনো এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ নয় যে সবাইকে কাজ জোগাড় করে দেবে। বরং শিল্পীদের পারিশ্রমিক আটকে যাওয়া, জিএসটি সমস্যা বা আইনি জটিলতায় আইনি ও নৈতিক সাহায্য করার একটি নিঃস্বার্থ মঞ্চ এটি। তিনি আশ্বস্ত করেন, যতদিন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মতো অভিভাবকেরা মাথার ওপর আছেন, ততদিন আর্টিস্ট ফোরামে কোনো রাজনৈতিক রঙ লাগতে দেওয়া হবে না।

