‘পয়সার জন্য গামছা পরে নেত্য…’ ‘টানা দু-বছর কোনো কাজ ছিল না!’ ‘আমার খিদে পায়, চরিত্র বেছে কাজ করতে গেলে ভাত জুটবে না…!’ কাজ না থাকায় সহ্য করেছেন চরম দুর্দশা! বি’স্ফোরক কাঞ্চন মল্লিক!

বাংলা অভিনয় জগতের অন্যতম পরিচিত ও জনপ্রিয় এক মুখ হলেন কাঞ্চন মল্লিক (Kanchan Mullick)। বহু বছর ধরে কৌতুক চরিত্র থেকে শুরু করে খলনায়ক কিংবা সিরিয়াস চরিত্র সব ধরনের অভিনয়েই তিনি দর্শকদের মন জয় করে আসছেন। সম্প্রতি স্টার জলসার ‘সংসারের সংকীর্তন’ ধারাবাহিকে এক ধনী প্রমোটারের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আবার নতুন করে চর্চায় এসেছেন। কাজের চাপ যতই থাকুক না কেন, ক্যামেরার সামনে বা পেছনে তাঁর প্রাণখোলা আড্ডা ও রসিকতা দর্শকদের সবসময়ই টানে। তবে হাসিখুশি এই মানুষটার পর্দার পেছনের জীবন এবং স্ট্রাগল কিন্তু অন্য কথা বলে, যা সম্প্রতি তাঁর একটি সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে।

সেই সাক্ষাৎকারে সিনেমা, থিয়েটার এবং মেগা সিরিয়ালের তুলনা করতে গিয়ে কাঞ্চন মল্লিক নিজের পেশাদারিত্বের এক চমৎকার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, একজন প্রকৃত অভিনেতার হওয়া উচিত জলের মতো তাঁকে যখন যে পাত্রে রাখা হবে, সেই আকারই ধারণ করতে হবে। সিনেমার কাজ অল্প কিছুদিনে শেষ হয়ে যায়, কিন্তু মেগা সিরিয়াল চলে মাসের পর মাস, যা অনেকটা বোর্ডিং স্কুলের মতো এক বড় পরিবার তৈরি করে। মাধ্যম যা-ই হোক না কেন, সব জায়গার নির্দিষ্ট নিয়মের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াটাই একজন দক্ষ শিল্পীর আসল পরিচয় বলে তিনি মনে করেন।

কাজের বাছ-বিচার হওয়া প্রসঙ্গে টলিউডের এই অভিনেতা অত্যন্ত সততার সাথে ইন্ডাস্ট্রির এক রূঢ় সত্যকে সামনে এনেছেন। তিনি পরিষ্কার জানান যে, তিনি একজন পেশাদার অভিনেতা এবং অভিনয়ই তাঁর একমাত্র জীবিকা। তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমার খিদে পায়, চরিত্র বেছে কাজ করলে খাবার জুটবে না আমার।” প্রতিদিনের সংসার চালানো এবং জীবনধারণের জন্য কাজ করাটা অত্যন্ত জরুরি। তাই খুব বেশি বেছে কাজ করতে গেলে যে ঘরে খাবার জুটবে না, সেই বাস্তবকে স্বীকার করতে তাঁর কোনো দ্বিধা নেই। অভিনয়কে ভালোবেসেও পেটের তাগিদে সব ধরনের চরিত্রেই নিজেকে সঁপে দেন তিনি।

ইন্ডাস্ট্রির অনিশ্চয়তা ও শিল্পীদের কঠিন স্ট্রাগল নিয়ে কাঞ্চনবাবু এক বড় বাস্তবকে তুলে ধরেছেন। মেগা সিরিয়াল চলাকালীন বহু অভিনেতা-অভিনেত্রী আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পান, এমনকি তাঁদের চরিত্রের নামে বাজারে শাড়িও বিক্রি হয়। কিন্তু সেই সিরিয়াল শেষ হওয়ার পর যখন বছরের পর বছর কাজ থাকে না, সেই কঠিন সময়ের খবর কেউ রাখে না। কাঞ্চন মল্লিক নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে জানান যে, ২০২১ সালের আগেও এমন সময় গেছে যখন তিনি টানা দেড় থেকে দুই বছর কোনো কাজ না পেয়ে পুরোপুরি বাড়িতে বসেছিলেন। একজন সৃষ্টিশীল মানুষের পক্ষে কাজ ছাড়া ঘরে বসে থাকার এই দিনগুলো যে কতটা যন্ত্রণাদায়ক ও লড়াইয়ের, তা তিনি খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘ওখানেই বাবার ওপর একটা লাল কালি পড়ে গেল…’ ‘সিনেমার চেয়ে টলিউডের রাজনীতি ঢের বেশি নোংরা!’ ‘প্রযোজকেরা এখন শুধু ব্যবসা বোঝে!’ টলিউডে পা রেখে কি কি সহ্য করতে হয়েছে অভিনেত্রীকে? নিজের সঙ্গে ঘটা সত্য ঘটনা ফাঁস করলেন দেবিকা মিত্র!

এই সমস্ত পেশাগত ব্যস্ততা ও লড়াইয়ের মাঝে কাঞ্চন মল্লিকের ব্যক্তিগত জীবনের আনন্দ লুকিয়ে রয়েছে তাঁর ছোট্ট মেয়ে কৃষভিকে ঘিরে। বর্তমানে মেয়ে বেশ বড় হয়ে উঠছে, আধো আধো কথা বলছে এবং সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখছে। কাঞ্চনবাবু মজার ছলে জানান যে, বাইরে তিনি যতই জনপ্রিয় হোন না কেন, ঘরের ভেতরে কিন্তু মেয়ের কঠোর শাসনের নিচেই তাঁকে থাকতে হয়। এমনকি টিভিতে বাবা-মাকে একসাথে অভিনয় করতে দেখে ছোট্ট কৃষভি যেমন অবাক হয়, তেমনই মায়ের বকুনি থেকে মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে অভিনেতা নিজেই মাঝে মাঝে বকা খেয়ে যান। সব মিলিয়ে, ইন্ডাস্ট্রির হাজারো অনিশ্চয়তার মাঝেও এই মিষ্টি পারিবারিক মুহূর্তগুলোই কাঞ্চন মল্লিককে প্রতিদিন নতুন করে কাজ করার শক্তি জোগায়।

Back to top button