‘ওখানেই বাবার ওপর একটা লাল কালি পড়ে গেল…’ ‘সিনেমার চেয়ে টলিউডের রাজনীতি ঢের বেশি নোংরা!’ ‘প্রযোজকেরা এখন শুধু ব্যবসা বোঝে!’ টলিউডে পা রেখে কি কি সহ্য করতে হয়েছে অভিনেত্রীকে? নিজের সঙ্গে ঘটা সত্য ঘটনা ফাঁস করলেন দেবিকা মিত্র!

বাংলা চলচ্চিত্র (Tollywood) এবং টেলিভিশন জগতের অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় এক নাম দেবিকা মিত্র (Debika Mitra)। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নিজের সাবলীল অভিনয় ও মায়াবী চরিত্রের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মন জয় করে রেখেছেন। নব্বইয়ের দশকের পারিবারিক টানাপোড়েনের ছবি থেকে শুরু করে আজকের যুগের মেগা সিরিয়াল সবখানেই নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন তিনি। সম্প্রতি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই গুণী অভিনেত্রী তার অভিনয় জীবন, ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহল এবং সমকালীন অভিনয়ের পরিবেশ নিয়ে অত্যন্ত অকপট ও আবেগঘন কিছু মন্তব্য করেছেন।

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই দেবিকা মিত্র ফিরে গিয়েছিলেন তার অভিনয় জীবনের শুরুর দিনগুলোতে। থিয়েটার এবং সিনেমার আঙিনায় তার প্রথম পদক্ষেপ ও কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন তিনি। অভিনেত্রী জানান, সেই সময় থিয়েটার ছিল অভিনয়ের আসল আঁতুড়ঘর, যেখানে কঠোর পরিশ্রম আর নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে একজন অভিনেতা নিজেকে গড়ে তুলতেন। সিনেমার সেটে তখন তাড়া থাকত না, থাকত শিল্প সৃষ্টির তাগিদ। তখনকার দিনে অভিনয়ের নিখুঁত মান এবং চরিত্রের গভীরতা ফুটিয়ে তোলার জন্য যে শৈল্পিক প্রচেষ্টা থাকত, আজকের দিনে দ্রুত কাজ শেষ করার ইঁদুরদৌড়ে তা অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি আফসোস করেন।

টলিউড স্টুডিও পাড়ার অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং অদৃশ্য রাজনীতি নিয়েও অভিনেত্রী নিজের স্পষ্ট মতামত তুলে ধরেছেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, সময়ের সাথে সাথে ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশ অনেকটাই বদলে গেছে। বর্তমানে টলিউডে লবি বা ছোট ছোট গ্রুপ তৈরির যে কালচার বা দলাদলি চলছে, তা শিল্পীদের কাজের স্বাধীনতায় বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই দলবাজি ও রাজনীতির কারণে অনেক সময় যোগ্য অভিনেতারা ভালো কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ইন্ডাস্ট্রির এই নেতিবাচক পরিবর্তন এবং একপেশে মনোভাব প্রবীণ এই অভিনেত্রীকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।

ইন্ডাস্ট্রির প্রাণভোমরা হলেন টেকনিশিয়ান ও কলাকুশলীরা। অভিনেত্রী তার সাক্ষাৎকারে অতীতে এবং বর্তমানে প্রযোজক, টেকনিশিয়ান ও অভিনেতাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের বিবর্তন নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। দেবিকা মিত্র জানান, একটা সময় পুরো শুটিং সেট একটি যৌথ পরিবারের মতো ছিল, যেখানে একে অপরের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়াতেন। প্রযোজকরা কেবল টাকা খাটাতেন না, বরং শিল্পীদের অভিভাবকের মতো আগলে রাখতেন। কিন্তু বর্তমান কর্পোরেট যুগে পেশাদারিত্বের নামে সেই মানবিক টান অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। এখন সব হিসেব-নিকেশ কেবল লাভ-ক্ষতির খাতায় গিয়ে ঠেকেছে, যা অভিনয়ের স্বাভাবিক পরিবেশকে যান্ত্রিক করে তুলেছে।

আরও পড়ুনঃ ‘মেয়ের টাকায় চলছি…’ ‘ধারদেনা আর লোনে জর্জরিত!’ ‘মোটা হলেও বাদ, রোগা হলেও বাদ, উপার্জনের রাস্তাটা…!’ কেমন আছেন শঙ্কর চক্রবর্তী? কিভাবে চলছে তাঁর জীবন? কঠিন সময় নিয়ে অকপটে অভিনেতা!

সাক্ষাৎকারের শেষভাগে দেবিকা মিত্র সমকালীন টেলিভিশন চ্যানেল এবং মেগা সিরিয়ালের ধারা নিয়ে কথা বলেন। আজকের যুগের ‘ফ্যামিলি ড্রামা’ বা পারিবারিক গল্পগুলোর ধরণ এবং ধারাবাহিকগুলোতে অভিনয়ের মান নিয়ে তিনি তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। তিনি মনে করেন, আজকের সিরিয়ালগুলোতে মেলোড্রামা বা অতি-নাটকীয়তা বেশি থাকলেও বাস্তব জীবনের অনুভূতির প্রকাশ কিছুটা কমে গেছে। তারপরও নতুন প্রজন্মের অনেক কলাকুশলীর ভালো কাজ করার একাগ্রতাকে তিনি সাধুবাদ জানিয়েছেন। সবশেষে নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজও অভিনয়ের প্রতি তার যে গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা রয়েছে, সেই বার্তাই তিনি তার দর্শক ও অনুরাগীদের উদ্দেশ্যে রেখে গেছেন।

Back to top button