রাজুর আসল নাম জানতেই উড়ল সম্রাটের ঘুম! সম্রাট ও রাজুর মধ্যে লুকিয়ে কোন গোপন সংযোগ? প্রশ্নের মুখে সম্রাটের মিথ্যে অজুহাত, কোন গোপন সত্যি আড়াল করছে সে?

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas)। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, রাতে ঘুমানোর ঠিক আগের মুহূর্তে ঝিনুক সম্রাটকে এক অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত জানায়। সে বলে যে, আজ রাতে সে তার দিদির সঙ্গে ঘুমাবে এবং সম্রাটকে ছোটদার সঙ্গে শুতে হবে। ঝিনুকের এই আচমকা কথাটি শোনা মাত্রই সম্রাটের মুখের ভাব মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায়। তার মাথায় অনবরত একটিই আশঙ্কার মেঘ জমতে থাকে যদি রাতে ঝিনুক তার দিদিকে সব সত্যি কথা বলে দেয়? বিশেষ করে সে যে সারাদিন ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখে, সেই রহস্য যদি ফাঁস হয়ে যায়, তবে কী হবে! নিজের আসল রূপ প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার এই তীব্র দুশ্চিন্তা সম্রাটকে ভেতরে ভেতরে ভীষণভাবে অস্থির ও দিশেহারা করে তোলে।
অন্যদিকে, গল্পের নাটকে এক নতুন কৌতূহল ও নাটকীয় মোড় তৈরি হয় পল্লবী আর আদিত্যের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে। আদিত্য আচমকাই পল্লবীকে জানায় যে, সে পুরো ঘটনাটা ধরে ফেলেছে এবং এটা আসলে পল্লবীরই সাজানো একটি সুনিপুণ পরিকল্পনা। শুধু তাই নয়, সে কমলা কাকিকে ডাকার কথাও উল্লেখ করে। আদিত্যের মুখ থেকে আসল সত্যিটা বেরিয়ে আসার উপক্রম হতেই পল্লবী চরম তাড়াহুড়ো করে তার মুখ চেপে ধরে, যাতে সে আর কোনো কথা বাড়িয়ে গোপন পরিকল্পনাটি ফাঁস না করতে পারে।
ঠিক সেই সময় দূর থেকে পল্লবী ও আদিত্যের এই অদ্ভুত ও রহস্যময় কাণ্ডকারখানা পুরোটাই দেখে ফেলে ঝিনুক। ওদের দুজনকে ওইরকম এক অপ্রস্তুত, ঘনিষ্ঠ অথচ সন্দেহজনক অবস্থায় দেখে ঝিনুকের মনে তীব্র প্রশ্ন ও খটকা জাগে। তবে পরবর্তীতে পল্লবীর মুখ থেকে সমস্ত ঘটনার আসল সত্যতা শোনার পর ঝিনুক পুরোপুরি অবাক হয়ে যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আদিত্যের শারীরিক বা মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে ঝিনুক তখন পল্লবীকে বলে, আর দেরি না করে আদিত্যকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যেতে।
আগামী পর্বের গল্পে দেখা যাবে এক নতুন চমক, যা সম্রাটকে এক গভীর সংকটে ফেলে দেবে। শ্রীনিবাস বাবু সম্রাটকে জানান যে, রাজু হলো তাদের কাছে ভগবানের দেওয়া সেরা উপহার, কারণ রাজুকে তারা দত্তক নিয়েছিলেন। উৎসুক হয়ে সম্রাট জানতে চায়, কোন আশ্রম থেকে তাকে আনা হয়েছিল? জবাবে শ্রীনিবাস বাবু যখন বলেন, “তুমি যেখানে ছিলে, সেখান থেকেই” তখনই সম্রাটের মনের ভেতর ভয়ের কম্পন শুরু হয়। এরপর রাজুর আসল নাম ‘অর্জুন’ শুনে সম্রাট রীতিমতো আঁতকে ওঠে এবং নিজের ঘরে ফিরে গিয়ে চরম চিন্তায় ভেঙে পড়ে।
আরও পড়ুনঃ ‘ক্যামেরার সামনের জায়গাটা আমার, অন্য কেউ…!’ ‘৪১ বছর বয়সে এসে এটা আমার…’, ‘হার মানতে শিখিনি…!’ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জুতোয় পা গলিয়ে কী বললেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়?
অতিরিক্ত মানসিক চাপে সম্রাটকে ঘামতে দেখে ঝিনুক ঘরে এসে জিজ্ঞেস করে, “কী ব্যাপার! তুমি এত ঘামছ কেন?” নিজেকে সামলে নিয়ে সম্রাট মিথ্যে অজুহাত দেয় যে, অফিস থেকে ফোন এসেছিল এবং কাজের জরুরি প্রয়োজনে তাদের আজই বাড়ি ফিরতে হবে। ঠিক তখনই দেখা যায়, ঘরের বাইরে আড়ালে দাঁড়িয়ে কেউ একজন তাদের লক্ষ্য করছে। এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলে যে, রাজু বা অর্জুনের অতীতের সঙ্গে সম্রাটের কোনো অন্ধকার সংযোগ রয়েছে হতে পারে অতীতে সম্রাট রাজু বা তার পরিবারের কোনো বড় ক্ষতি করেছিল, যা এখন তার পাপের শাস্তি হয়ে সামনে আসছে।

