স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় মানসিকভাবে একপ্রকার অসুস্থ বীথি, শত অবহেলা সত্ত্বেও বীথি মাসীর পাশে এসে দাঁড়ালো মৌ, প্রশংসায় পঞ্চমুখ সকলে

স্টার জলসা(Star Jalsha)য় শুরু হাওয়া জনপ্রিয় ধারাবাহিক মেয়েবেলা(Meyebela)। অল্প দিনের মধ্যেই এই ধারাবাহিক দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। পাশাপাশি ধারাবাহিকের মূল চার চরিত্র মৌ ,নির্ঝর, চাঁদনী এবং বিথী। চারজনের জীবনের গল্পই যেন এখন দর্শকদের পছন্দের বিষয় হয়ে গেছে। আসলে চারজনের জীবনের আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে ভয়ংকর এক গল্প। যা নিয়ে এখন এগিয়ে চলেছে ধারাবাহিক। যারা এই ধারাবাহিক শুরুর থেকে দেখছেন তারা জানেন ডোডোর সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল তার ১২ বছরের প্রেমিকা চাঁদনীর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির চাপে তাকে বিয়ে করতে হয় মৌকে। তাদের একটা চুক্তির মাধ্যমে বিয়ে হয়। কিন্তু মৌকে শুরুর থেকেই সহ্য করতে পারে না বিথী। সে সব সময় চেষ্টা করে যায় কিভাবে নির্ঝরের থেকে তাকে আলাদা করা যায়।

আমরা সব সময় সবকিছু পাইনা। আর এই না পাওয়া গুলো থেকেই আমাদের মনে তৈরি হয় হাহাকার, তৈরি হয় ক্ষোভ। যখন সেই না পাওয়া গুলো অন্য কেউ পেয়ে যায় আর খুব সহজেই পেয়ে যায় তখনই কিছু কিছু মানুষের মন রাগে হিংসায় আগুনের মতো জ্বলে ওঠে। এর শুরুটা কিন্তু হয়েছিল কোন এক কালে তার কোন কিছুর না পাওয়া থেকে।

কিছু মানুষ থাকে যারা যত কিছুই পেয়ে যাক না কেন একটুখানি না পাওয়া কে ঘিরে অনেকখানি খারাপ থাকাকে আপন করে নেয়। এটা এক ধরনের মানসিক রোগ। যখন মানুষ কোন জিনিস পায় না কিন্তু অপর মানুষকে সেটা পেতে দেখে তখন তার মধ্যে যে প্রতিহিংসার সৃষ্টি হয় সেটা ধ্বংস করে দেয় তার চারপাশের থাকা সব কটা মানুষের জীবনকে। মেয়েবেলা ধারাবাহিকের বীথিকা সেই রোগেই আক্রান্ত।

সে বরাবরই মৌয়ের ক্ষতি করে আসার চেষ্টা করেছে কখনো ভাত ফেলে দিয়েছে কখনো বা সোনার চেয়ে নর্দমা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। কেবলমাত্র একসাথে থাকতে দেবেনা বলে অর্থাৎ মৌ আর ডোডো কে আলাদা থাকতে বাধ্য করেছে। তাদের ঘরে পাখা এসি খুলিয়ে নিয়েছে, এর জন্য একটি নির্দোষ ব্যক্তির চাকরিও চলে গেছে। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে কারোর অনিষ্ট করার চিন্তাভাবনা কখনোই কারোর উপকারে লাগতে পারে না। মৌকে এত অবহেলা করা সত্ত্বেও বিথী মাসির পাশে দাঁড়িয়েছে সে। সে প্রতিনিয়ত বীথিকে বোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে যে সে যেটা পেয়েছে সেটা নিয়েই যেন নিজেকে খুশি রাখে যেটা পায়নি সেটার পেছনে দৌড়ে অথবা যখন সেটা অন্য কেউ পাচ্ছে তাকে বাধা দিয়ে বা তার নষ্ট করে কখনো ভালো থাকা যায় না।

একটি গান আছে “সব পেলে নষ্ট জীবন”। এই একটা জীবনে সবকিছু সমান ভাবে পাওয়াটা সত্যিই অসম্ভব। তাই সবের পেছনে না ছুটে যেটুকুনি পাওয়া গিয়েছে সেটুকু নিজেই কিভাবে আগলে রেখে এগিয়ে চলতে হয় তারই বার্তা দিচ্ছে মেয়েবেলা। আর তার পাশাপাশি আর পাঁচটা ধারাবাহিকের মত শাশুড়ির সাথে যুদ্ধে না নেমে তার পাশে থেকে তাকে ভালো কথা দিয়ে বুঝিয়ে বিথিকাকে পাল্টানোর চেষ্টা করছে মৌ।

Back to top button