‘আরশোলা খাওয়াটা কোনো…’ রোমান্স থেকে সোজা সাইকো থ্রিলার! ‘কমলা নিবাস’এ সম্রাটের আরশোলা খাওয়ার দৃশ্যে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া! ভাইরাল দৃশ্য নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা ধ্রুবজ্যোতি সরকার!

জি বাংলার (Zee Bangla) জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর (Kamala Nibas) একটি সাম্প্রতিক পর্ব ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। দেবশঙ্কর হালদার ও সোহিনী সেনগুপ্ত অভিনীত এই পারিবারিক মেগার সমান্তরাল ট্র্যাকে নতুন জুটি হিসেবে বেশ নজর কেড়েছেন অভিনেতা ধ্রুবজ্যোতি সরকার (Dhrubajyoti Sarkar) এবং অভিনেত্রী সংহতি বন্দ্যোপাধ্যায় (Samgati Banerjee)। গল্পে তাঁদের চরিত্রের নাম যথাক্রমে ‘সম্রাট’ এবং ‘ঝিনুক’। সাতপাক ঘুরে সদ্যই সম্রাটের ঘরে পা রেখেছে ঝিনুক। কিন্তু বিয়ের পর প্রথম রাতেই বাসরঘরের সেই মিষ্টি ও রোমান্টিক আবহ মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় চরম আতঙ্কে, যার মূল কেন্দ্রে ছিল একটি আরশোলা।
মূল দৃশ্যে দেখা যায়, বাসরঘরে সম্রাট ও ঝিনুক যখন পরস্পরের সঙ্গে কথা বলছিল, ঠিক তখনই একটি আরশোলা এসে কামড়ে দেয় ঝিনুককে। স্বভাববশতই ভয়ে আঁতকে ওঠে নতুন বউ। নিজের ভালোবাসার মানুষকে এভাবে ভয় পেতে দেখে মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় সম্রাটের চোখের চাউনি ও হাবভাব। তার অর্ধাঙ্গিনীকে কেউ বিরক্ত করবে, তা সে মানুষ হোক বা সামান্য পোকা—সম্রাট তা কোনোভাবেই সহ্য করতে পারে না। রাগে উন্মত্ত হয়ে সে খালি হাতে জ্যান্ত আরশোলাটিকে ধরে ফেলে এবং ঘরের টেবিলে রাখা দুধের গ্লাসে সেটিকে চুবিয়ে সটান চিবিয়ে খেয়ে নেয়। এই দৃশ্য দেখে পর্দার ঝিনুক যেমন শকে সংজ্ঞা হারানোর জোগাড় হয়েছিল, তেমনই টিভির ওপারে থাকা দর্শকদেরও চোখ চড়কগাছ হয়ে যায়।
টেলিভিশনের পর্দায় এমন অদ্ভুত ও অভাবনীয় দৃশ্য সম্প্রচারিত হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিং এবং সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটররা এই দৃশ্য নিয়ে মজার মজার ভিডিও তৈরি করতে শুরু করেছেন। সাধারণ নেটনাগরিকদের একাংশ চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, “আজকালকার সিরিয়ালে দর্শকদের শক ভ্যালু দেওয়ার জন্য আর কত কী আজব জিনিস দেখতে হবে?” অনেকেই আবার এই দৃশ্যটিকে ২০১১ সালের হিন্দি ধারাবাহিক ‘দিল সে দি দুয়া সৌভাগ্যবতী ভব’-এর কুখ্যাত খলনায়ক বিরাজ দোব্রিয়াল-এর আইকনিক ‘আরশোলা খাওয়ার’ দৃশ্যের সস্তা নকল বলে কটাক্ষ করেছেন।
তবে এই ব্যাপক ট্রোলিং ও সমালোচনা নিয়ে পর্দার সম্রাট অর্থাৎ অভিনেতা ধ্রুবজ্যোতি সরকার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃষ্টিকোণ তুলে ধরেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানান, আরশোলা খাওয়াটা তাঁর কাছে ব্যক্তিগতভাবে বড় বিষয় ছিল না, বরং পুরো দৃশ্যটির গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। তিনি বলেন, “চরিত্রটি তার স্ত্রীর প্রতি এতটাই অন্ধ এবং অতি-পজেসিভ যে সে তার জন্য যা খুশি করতে পারে। এই সাইকোলজিক্যাল দিকটি ফুটিয়ে তোলাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।” তিনি আরও যোগ করেন, শ্যুটিংয়ের সময় এত কিছু ভাবলে অভিনয় করা যেত না, তাই চরিত্রের মানসিকতায় ঢুকেই তিনি অবলীলায় এই কঠিন দৃশ্যটি ফুটিয়ে তুলেছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘ইমন আমার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী…ও আমার শত্রু!’ ‘একটু ভদ্রভাবে বলতে চেয়েছিলাম…’ ভদ্রতার মুখোশ সরিয়ে স্পষ্টভাষী গায়িকা! ইমনকে সামনে বসিয়েই ‘শত্রু’ তকমা লগ্নজিতা চক্রবর্তীর!
অন্য দিকে, পর্দার ঝিনুক অর্থাৎ অভিনেত্রী সংহতি বন্দ্যোপাধ্যায়ও সহ-অভিনেতার এই পারফরম্যান্সের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তিনি জানান, শ্যুটিংয়ের সময় ধ্রুবজ্যোতির সেই অদ্ভুত চোখের মুভমেন্ট এবং মুড শিফটিং দেখে তিনি নিজেও বাস্তবে বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। অভিনেত্রীর কথায়, ট্রোল বা নেতিবাচক মন্তব্য করা সহজ, কিন্তু শুধু একটি ছোট দৃশ্য বা প্রোমো দেখে জাজ না করে দর্শকদের উচিত পুরো এপিসোডটি দেখা এবং একজন অভিনেতা হিসেবে ধ্রুবজ্যোতি কতটা অসাধারণ কাজ করেছেন তা অনুধাবন করা। তবে সম্রাট চরিত্রের এই অদ্ভুত ও ক্ষ্যাপাটে পজেসিভনেস আগামী দিনে ঝিনুকের জীবনে কী চরম বিপর্যয় ডেকে আনে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা জানতে দর্শকেরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

