রায়ানের নতুন তথ্যে ঘুরল মামলার মোড়! মায়ের অপমানের চরম প্রতিশোধ নিতে বড় ঝুঁকি নিল পারুল! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, আদালতের দেওয়া সীমিত সময়ের মধ্যেই আসল সত্যিটা খুঁজে বের করতে পারুল আর রায়ান সরাসরি পৌঁছে যায় সাউথ ইন্ডিয়ায়। সেখানে শুরুতে স্থানীয়দের থেকে খুব একটা সহযোগিতা না পেলেও, শেষ পর্যন্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি তাদের হাতে আসে। আর সেই নথিপত্রগুলো দেখার সময়ই পারুলের চোখে পড়ে একটা অদ্ভুত বিষয় যাদের পুলিশ বলা হচ্ছে, তাদের প্রত্যেকের পায়েই ছিল সাধারণ চটি। অথচ আসল পুলিশ টিমের পোশাক বা জুতো এমন হওয়ার কথা নয়। এই একটা খটকা থেকেই পারুলের মনে সন্দেহ আরও জোরালো হয় যে, পুরো ঘটনাটাই আসলে গায়ত্রীকে ফাঁসানোর জন্য সাজানো একটা নাটক।
তদন্তের পরের ধাপে রায়ান, পারুল ও তাদের পুরো টিম যখন ওই নির্দিষ্ট গ্রামে পৌঁছায়, তখন আসল সত্যটি সামনে আসে। তারা জানতে পারে, যে চারজন নিহত ব্যক্তির কথা বলা হচ্ছে তারা আদতে কোনো পুলিশকর্মী ছিলেন না, বরং ওই গ্রামেরই হারিয়ে যাওয়া চারজন সাধারণ মানুষ। পারুল স্পষ্ট বুঝতে পারে এটা একটা বিরাট বড় ষড়যন্ত্র। অন্যদিকে, শিঞ্জিনী যখন সংযুক্তাকে সতর্ক করে বলে যে পারুল সব সত্যি জেনে ফেললে তাদের সব পরিকল্পনা শেষ হয়ে যাবে, তখন সংযুক্তা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় উত্তর দেয় যে তেমনটা হলে আরও একটা চাল বা তাস তার হাত থেকে বেরিয়ে যাবে।
এরপর পারুল আদালতের সামনে এমন কিছু অকাট্য তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরে, যা গায়েত্রী আম্মার চরিত্র সম্পর্কে সবার ধারণা সম্পূর্ণ বদলে দেয়। সমাজের জন্য করা তাঁর একাধিক জনকল্যাণমূলক ও ভালো কাজ আদালতের নজরে আনার পর, পারুল নিজের মাকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য আরও তিন দিনের সময় পেয়ে যায়। এই তিন দিনই এখন তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সত্যিটা পুরোপুরি সামনে আনতে হলে এই অল্প সময়ের মধ্যেই পারুলকে এমন কিছু অকাট্য প্রমাণ জোগাড় করতে হবে, যা পুরো মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
সত্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও, পারুলদের সামনে যে আরও বড় বাধা অপেক্ষা করছে সেই ইঙ্গিতও মিলতে শুরু করেছে। আগামী পর্বে দেখা যাবে, রায়ান একটি বিস্ফোরক তথ্য এনে জানায় যে যাদের মৃত বলে দাবি করা হচ্ছিল, সেই পুলিশ অফিসারদের কেউই আসলে মারা যায়নি। এই তথ্য পাওয়া মাত্রই পারুল বুঝে যায়, এবার আসল অপরাধীদের পক্ষে সত্যিটা চাপা রাখা আর সহজ হবে না। পারুলের ধারণা হয়, সবটা ফাঁস হওয়ার আগেই অপরাধীরা দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করবে। তাই সে মাধবন স্যারকে ফোন করে এয়ারপোর্টে নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করে, যাতে কেউ পালাতে না পারে।
আরও পড়ুনঃ পল্লবীর জন্যই গুরুতর জ’খম আদি! ভাঙা হাত নিয়ে কমলা কাকিমার বাড়িতে হাজির সে! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
এরপর পারুলের মুখের সংলাপগুলোই পুরো কাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও আবেগময় মুহূর্ত হয়ে ওঠে। নিজের মায়ের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে সে দৃঢ় গলায় জানায়, “আমার মা জেলে পচে মরবে, আর আপনারা তার নামে মিথ্যে কলঙ্ক দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকবেন পারুল চক্রবর্তী বেঁচে থাকতে সেটা কখনও হবে না।” পারুলের এই আত্মবিশ্বাস আর লড়াইয়ের মানসিকতা প্রমাণ করে দেয় যে, নিজের মাকে নির্দোষ প্রমাণ করতে এবং দোষীদের শাস্তি দিতে সে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।

