মৃ’ত্যুর মুখে পারুল-সৌমিত্র-রায়ান! সংযুক্তা-শিঞ্জিনীর জঘন্য প্ল্যান ভেস্তে দিতে এন্ট্রি নিল গায়েত্রী! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব!

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, যে শিরিন এতদিন পারুলকে নিজের সবচেয়ে বড় শত্রু মনে করত, ভাগ্যের পরিহাসে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় আজ তাকেই পারুলের কাছে সাহায্য চাইতে হলো। আসলে শিরিন জানতে পারে যে, সংযুক্তা আর শিঞ্জিনী মিলে সৌমিত্রবাবুকে চিরতরে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার অর্থাৎ মেরে ফেলার এক নৃশংস পরিকল্পনা করেছে। শিরিন এই জঘন্য প্ল্যান ধরে ফেলে যখন প্রতিবাদ করে, তখন শিঞ্জিনী তাকে এই বিষয়ে মুখ না খুলতে এবং দূরে থাকার জন্য কঠোর হুমকি দেয়। নিজের বাবার প্রাণের এই চরম সংশয়ের কথা বুঝতে পেরে শিরিন ভেতরে ভেতরে ভীষণভাবে কেঁপে ওঠে।
নিজের বাবার জীবন বাঁচানোর আর কোনো উপায় না দেখে শিরিন শেষমেশ সব অহংকার, রাগ আর অহমিকা ভুলে পারুলের কাছে ছুটে যায়। সে পারুলের সামনে দাঁড়িয়ে সৌমিত্রবাবুকে বাঁচানোর জন্য আকুল অনুরোধ জানায়। তবে প্রথমে দাদু বা রায়ান কেউই শিরিনকে বিশ্বাস করতে চায় না, যা খুবই স্বাভাবিক। কারণ এর আগেও পারুলকে ফাঁসানোর জন্য শিরিন এরকম অনেক নাটক করেছে। কিন্তু এবার পারুল শিরিনের কথা পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে পারে না, কারণ সে নিজেও সৌমিত্রবাবুকে ফোনে যোগাযোগ করতে পারছিল না। উপরন্তু, শিরিন যখন জানায় যে তার নিজের মা-ই তার সামনে বাবাকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে, তখন পারুলের সন্দেহ আরও গভীর হয়।
শিঞ্জিনী এতটাই লোভী হয়ে উঠেছে যে, তার এই জঘন্য পথের কাঁটা মনে হলে সে নিজের মেয়ে শিরিনকেও সরিয়ে দিতে দ্বিধা করছে না। তবে এই বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে এটাও স্পষ্ট হয়ে যায় যে, শিরিন তার বাবাকে সত্যিই কতটা ভালোবাসে। সে পারুলদের স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, সংযুক্তা আর শিঞ্জিনীর আসল উদ্দেশ্য হলো সৌমিত্রবাবুকে মেরে ফেলে সমস্ত সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখিয়ে নেওয়া। টাকার লোভে তারা যে কোনো সীমায় যেতে প্রস্তুত।
কিন্তু সংযুক্তা অত্যন্ত চতুর এবং খলনায়িকা হিসেবে এক ধাপ এগিয়ে। সে আগেভাগেই সব কিছু আঁচ করতে পেরে উল্টো চাল চালার সিদ্ধান্ত নেয়। পারুল ও রায়ান কিছু বুঝে ওঠার আগেই সংযুক্তা তার দলবল নিয়ে তাদের বন্দি করে ফেলে। এরপর নিষ্ঠুরতার চরম সীমা পার করে শিঞ্জিনী ও সংযুক্তা মিলে পারুল, রায়ান এবং সৌমিত্রবাবুকে একসঙ্গে বেঁধে রেখে ঠিক তাদের সামনে একটি টাইম বোমা সেট করে দেয়। সব আয়োজন সম্পূর্ণ করে তারা ব্যঙ্গাত্মকভাবে হেসে প্রশ্ন তোলে, “এবার তোমাদের বাঁচাবে কে?”
আরও পড়ুনঃ শ্যামনগরের ফ্ল্যাটে ঝুলছে তালা! ৪ মাসের সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালালেন কীর্তন গায়িকা অদিতি মুন্সি! দেবরাজের গ্রেফতারির পর পলাতক অদিতিকে নিয়ে তোলপাড় রাজ্য!
ঠিক যখন মনে হচ্ছিল সব শেষ এবং মৃত্যু একেবারে দরজায় কড়া নাড়ছে, তখনই গল্পে আসে এক দুর্দান্ত টুইস্ট! সবাইকে চমকে দিয়ে হাতে বন্দুক নিয়ে সেখানে গ্র্যান্ড এন্ট্রি নেয় গায়ত্রী। তার এই রণচণ্ডী রূপ দেখে মনে হচ্ছে, নিজের মেয়ে, জামাই এবং সৌমিত্রবাবুকে উদ্ধার করতেই সে এবার খলনায়িকাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। এখন এটাই দেখার বিষয় যে, গায়ত্রী কি শেষ মুহূর্তে সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগে সবাইকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে পারবে, নাকি এই টানটান উত্তেজনার গল্পে অপেক্ষা করছে অন্য কোনো বড় চমক?

