‘কাজের অভাবে টেকনিশিয়ানরা চপ ভাজছেন, এই নৃশংসতা…’ ‘সব মিথ্যে কথা, এই পাপিয়া অধিকারী টাকা দিয়ে কাজ করায়!’ ‘দু মাস হল, কখনও শুনেছেন আমার নামে কিছু?’ আর দুর্নীতি নয়! তোলাবাজি ছেড়ে এবার নতুন ভাবে গড়ে উঠবে ইন্ডাস্ট্রি! কি বললেন পাপিয়া অধিকারী?

টলিগঞ্জের (Tollywood) স্টুডিও পাড়ার অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ পাওয়া এবং মেম্বারশিপ কার্ড নেওয়া ঘিরে নানা জটিলতা চলছে। সম্প্রতি এই চত্বরে ফেডারেশন ভেঙে নতুন কনফেডারেশন গড়ার তোড়জোড় শুরু হতেই দানা বেঁধেছে নতুন বিতর্ক। এবার সেই বিতর্কের মাঝেই টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি, শিল্পী-টেকনিশিয়ানদের বঞ্চনা এবং আর্থিক লেনদেনের রটনা নিয়ে মুখ খুললেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও বিধায়িকা পাপিয়া অধিকারী। স্টুডিও পাড়ার অচল অবস্থা কাটাতে এবং বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে তাঁর এই সাম্প্রতিক মন্তব্য টলিপাড়ায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

বিস্ফোরক এই সাক্ষাৎকারে পাপিয়া অধিকারী তাঁর নাম করে কনফেডারেশনের ফর্ম বিক্রি বা টাকা তোলার সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানান, টাকার বিনিময়ে কার্ড বা কাজ পাওয়ার এই নোংরা সংস্কৃতির অবসান হওয়া দরকার। তিনি কনফেডারেশনের কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যাতে ফর্মের ওপরে পরিষ্কারভাবে কোনো টাকার প্রয়োজন নেই কথাটি লিখে দেওয়া হয়। তাঁর মতে, টলিউডে কাজের অধিকার কেবল মেধার ভিত্তিতে হওয়া উচিত, কোনো অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নয়।

স্টুডিও পাড়ার বর্তমান সাংগঠনিক বদল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, পুরোনো ফেডারেশনটি ইতিমধ্যেই ভেঙে গেছে এবং সেই কারণেই সমস্ত স্তরের কর্মীদের এক ছাতার তলায় আনতে একটি নতুন কনফেডারেশন তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে এটি কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক ট্রেড ইউনিয়ন নয়, বরং এটি একটি নন-প্রফিটেবল কোম্পানিজ অ্যাক্টের অধীনে আইনি নিয়ম মেনে গড়ে তোলা হচ্ছে, যার সাথে বহু বিশিষ্ট আইনজীবীরাও যুক্ত রয়েছেন। এই নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্যই হলো বছরের পর বছর ধরে বঞ্চিত থাকা সাধারণ মেম্বার ও টেকনিশিয়ানদের কাজের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।

দীর্ঘদিন ধরে টলিপাড়ার একচেটিয়া ক্ষমতার কারণে বহু যোগ্য ও অত্যন্ত মেধাবী টেকনিশিয়ান কাজ না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটে ভুগছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে যখন এক-একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি একসঙ্গে একাধিক কাজ করে যাচ্ছেন, তখন অন্যদিকে বহু প্রবীণ ও দক্ষ কর্মী বছরের পর বছর কোনো কাজ পাচ্ছেন না। পরিস্থিতি এতটাই করুণ যে, কাজ না পেয়ে সংসার চালাতে অনেক টেকনিশিয়ানকে লিফলেট বিলি করতে হচ্ছে কিংবা চপ-কাটলেট ভেজে দিন কাটাতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এমনকি নতুন ছেলেমেয়েদের কাজ দেওয়ার টোপ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা চাওয়ার পাশাপাশি স্টুডিও পাড়ায় এখনো কিছু মানুষ ভয় ও হুমকির পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুনঃ ‘ওখানে অনেক মশা…’ ‘যে যা খুশি বলতে পারে, তাতে…’ ‘ওর হয়তো মনে হয়েছে ওখানে থাকতে যোগ্যতা লাগে…’ ‘মানুষ কোথায় থাকবে তা যোগ্যতা দিয়ে বিচার হয়?’ রচনার আরবানা-মন্তব্যের পাল্টা জবাব অভিনেতা সুজয় প্রসাদ চ্যাটার্জির!

পরিশেষে, টলিগঞ্জের জনপ্রতিনিধি এবং অভিনয় জগতের মানুষ হিসেবে পাপিয়া অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যতদিন তিনি আছেন, টলিপাড়ায় এই হুমকি-চমকি আর চলতে দেওয়া হবে না। কোনো রাজনৈতিক রং না দেখে, সম্পূর্ণ মানবিক কারণে তিনি এই বঞ্চিত ও অসহায় শিল্পী-টেকনিশিয়ানদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বর্তমানে স্টুডিও পাড়ার এই অচল অবস্থা কাটিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং প্রত্যেকে যাতে সমানভাবে কাজ ও সম্মান পান, তা তদারকি করার জন্য একটি বিশেষ অ্যাড-হক কমিটিও নজরদারি চালাচ্ছে বলে তিনি জানান।

Back to top button