‘তোমার চোখে দেখেছি মায়ের স্নেহ…’ এক লহমায় ফিরল রূপোলি পর্দার নস্টালজিয়া! প্রসেনজিৎকে বুকে টেনে আবেগঘন বার্তা প্রবীণ অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়ের!

দীর্ঘদিন পর টলিউডের দুই কিংবদন্তি অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee) এবং বর্ষীয়ান অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়ের (Sandhya Roy) আবেগঘন পুনর্মিলন ঘটেছে। রূপালী পর্দার এই চিরন্তন জুটি বাস্তব জীবনেও এক গভীর আত্মিক টানে বাঁধা। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে সন্ধ্যা রায় যেমন তাঁর স্নেহময়ী ও জীবন্ত অভিনয়ের জন্য দর্শকদের মনে এক বিশেষ স্থান তৈরি করেছেন, তেমনই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’ হয়ে রাজত্ব করছেন। রুপোলি পর্দার এই দুই নক্ষত্র একসঙ্গে কাজ করেছেন একাধিক কালজয়ী ছবিতে, যেখানে তাঁদের রসায়ন দর্শকদের বারবার মুগ্ধ করেছে।

সিনেমার পর্দায় এই দুই অভিনয়শিল্পীকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক চরিত্রে দেখা গিয়েছে। কখনও তাঁরা পর্দায় ধরা দিয়েছেন দেওর-বৌদির মিষ্টি সম্পর্কে, আবার কখনও অন্যান্য পারিবারিক সম্পর্কের বাঁধনে। তবে সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে গিয়ে তাঁদের দুজনকে সবচেয়ে বেশি মানিয়েছিল মা ও ছেলের চরিত্রে। পর্দায় সন্ধ্যা রায়ের সেই চেনা মাতৃত্বের ছায়া আর প্রসেনজিতের বাধ্য ছেলের অভিনয় তৎকালীন সময়ে সিনেমা হলের দর্শকদের চোখে জল এনে দিত। বহু ছবিতে একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করার কারণে তাঁদের কাজের সম্পর্কটা একসময়ে পারিবারিক আত্মীয়তায় রূপ নেয়।

বহু বছর পর হঠাৎ করেই দেখা হলো এই দুই তারকার। বয়স ও সময়ের নিয়মে সন্ধ্যা রায় এখন অভিনয় জগত থেকে অনেকটাই দূরে, অন্যদিকে প্রসেনজিৎ এখনও সমান ব্যস্ত। তবে সময়ের দূরত্ব যে মনের দূরত্ব বাড়াতে পারেনি, তা এই দেখাতেই প্রমাণিত হলো। প্রসেনজিৎকে সামনে দেখামাত্রই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। প্রসেনজিৎও তাঁর পর্দার প্রিয় ‘মা’কে দেখে এগিয়ে যান এবং পরম মমতায় জড়িয়ে ধরেন। এত বছর পর তাঁদের এই আকস্মিক সাক্ষাৎ যেন এক লহমায় পুরোনো দিনের সমস্ত স্মৃতিকে তাজা করে তুলেছিল।

এই পুনর্মিলনের মুহূর্তটি এতটাই আবেগপূর্ণ ছিল যে উপস্থিত সবার চোখেই জল চলে আসে। প্রসেনজিৎকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত সন্ধ্যা রায়ের চোখে আনন্দের জল দেখা যায়। স্নেহের ‘বুম্বা’কে এতদিন পর কাছে পেয়ে প্রসেনজিতের উদ্দেশ্যে তিনি একটি অত্যন্ত আবেগঘন বাংলা লাইন বলে ওঠেন “তোমার চোখে দেখেছি মায়ের স্নেহ মমতা।” এই একটিমাত্র লাইনের মধ্য দিয়েই প্রকাশ পেয়ে যায় প্রসেনজিতের প্রতি তাঁর কতটা গভীর ভালোবাসা ও মাতৃত্ব জড়িয়ে রয়েছে। প্রসেনজিৎও এই কথায় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।

আরও পড়ুনঃ ‘একবার বলে ক্যা’নসার, একবার নিউমোনিয়া!’ ‘চিকিৎসার নামে চুরি করছে এরা!’ তুলো-স্যানিটাইজারেই ৪৪ হাজার টাকা খরচ! ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধ শ্বশুরমশাইকে নিয়ে নাজেহাল অভিনেত্রী! লাইভে এসে কলকাতার নামী হাসপাতালের ওপর ক্ষোভ উগরে দিলেন সংঘশ্রী সিনহা!

সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমে এই পুনর্মিলনের খবর আসতেই দুই তারকার অনুরাগীদের মধ্যে এক অদ্ভুত নস্টালজিয়া তৈরি হয়েছে। দর্শকরা মনে করছেন, পর্দায় তাঁরা যে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ফুটিয়ে তুলতেন, তা কেবল অভিনয়ের খাতিরে ছিল না, বরং তা ছিল তাঁদের মনের আসল প্রতিচ্ছবি। বর্তমান যুগের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিনোদন দুনিয়ায় দাঁড়িয়ে প্রসেনজিৎ ও সন্ধ্যা রায়ের এই শ্রদ্ধা ও স্নেহের সম্পর্কটি টলিউডের নতুন প্রজন্মের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Back to top button