‘তুমি তো জোর করে তার প্রিয় হতে পারবে না…’ ‘হয়তো সে অভিনয় পছন্দ করেনা, বা আমাকে মানুষ হিসেবে পছন্দ করেনা…” অরূপ বিশ্বাসের সাথে রাজনৈতিক যোগ? ভাইরাল ছবি ও ট্রোলিং নিয়ে মুখ খুললেন অপরাজিতা আঢ্য!

বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রতিভাবান একজন অভিনেত্রী হলেন অপরাজিতা আঢ্য (Aparajita Adhya)। বিগত প্রায় তিন দশক ধরে তিনি নিজের সাবলীল অভিনয় এবং মিষ্টি হাসির মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করে রেখেছেন। টেলিভিশন ধারাবাহিক থেকে শুরু করে বড় পর্দা সব জায়গাতেই তাঁর সমান অবাধ যাতায়াত। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি সবসময়ই অত্যন্ত হাসিখুশি এবং ইতিবাচক একজন মানুষ হিসেবে পরিচিত। অভিনয়ের পাশাপাশি স্পষ্টভাষী হিসেবেও ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর বেশ সুনাম রয়েছে এবং সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের কাজ ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুখ খুলেছেন।

বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় সমস্যা মানসিক স্বাস্থ্য এবং অবসাদ নিয়ে অভিনেত্রী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কথা বলেছেন। তিনি জানান যে, আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে ‘মন খারাপ’ বিষয়টিকে এক ধরণের বিলাসিতা হিসেবে দেখা হতো এবং একে গুরুত্ব দেওয়া হতো না। কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে মানসিক স্বাস্থ্যকে আড়াল না করে এর সঠিক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। তিনি নিজের নতুন ছবি ‘নন্দিনী তোর জন্য’-র প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই ছবিতে তিনি এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন যে তীব্র অবসাদ ও ডাউন সিনড্রোমের মতো মানসিক সমস্যায় ভুগছে। এই ধরণের জটিল মানসিক দিকগুলো পর্দায় তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

আজকের প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের লড়াই করার মানসিকতা এবং অল্পতেই ভেঙে পড়ার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অপরাজিতা। তিনি স্পষ্ট জানান যে, বর্তমান যুগের ছেলেমেয়েদের মধ্যে ধৈর্য বা পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে কোথাও না কোথাও অভিভাবকদের অতি-সতর্কতা দায়ী। আজকাল বাবা-মায়েরা সন্তানদের এতটাই আগলে রাখেন যে তাদের নিজেদের কোনো কাজ করতে বা বাস্তব কোনো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় না। ফলে সামান্য বকুনি খেলে বা ব্যর্থ হলে তারা চরম পথ বেছে নেয়। সন্তানদের শুধু পড়াশোনা নয়, বরং জীবনের বাস্তব লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে শেখানো উচিত বলে তিনি পরামর্শ দেন।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রাক্তন শাসকদলের নেতা অরূপ বিশ্বাসকে ভাইফোঁটা দেওয়ার একটি পুরনো ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এবং তা নিয়ে চলা বিতর্ক নিয়েও মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, এই ছবিটিকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ নোংরাভাবে ট্রোল করেছেন, যা সাময়িকভাবে খারাপ লাগলেও তিনি এগুলোকে একদমই পাত্তা দেন না। অরূপ বিশ্বাসের সাথে তাঁর রাজনৈতিক কোনো যোগাযোগ নেই। দীর্ঘ ৩০ বছরের অভিনয় জীবনে সৌজন্যের খাতিরেই তিনি বিভিন্ন পুজো বা অনুষ্ঠানে যেতেন। এমনকি অভিনেত্রীর মায়ের মৃত্যুর সময়েও অরূপ বিশ্বাস প্রথম ফোন করে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এই ব্যক্তিগত সৌজন্য এবং সম্পর্কের জায়গা থেকেই তিনি আমন্ত্রণ রক্ষা করেছিলেন, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়।

আরও পড়ুনঃ জিতের পাশে অভিনয় করে কেড়েছিলেন নজর! ‘মস্তান’ ছবিতে জিতের সেই ছোট্ট ছেলেটি আজ কোথায়? জানলে অবাক হবেন!

সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচকতা বা ট্রোলিং কীভাবে সামলান, তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অপরাজিতা জানান যে তিনি নিজেকে একটি শামুকের খোলের মধ্যে রাখতে ভালোবাসেন এবং তাঁর জীবনটা ভীষণ ব্যক্তিগত। সামাজিক মাধ্যমে আড়ালে থেকে যারা কটু কথা বলে, তাদের কথায় তিনি নিজের মানসিক শান্তি নষ্ট করতে রাজি নন। তাঁর কাছে তাঁর পরিবার এবং কাছের মানুষদের মতামতই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। কাজের বাইরে বাকি সব কিছুকে দূরে সরিয়ে রেখে তিনি সবসময় নিজের মতো করে ভালো থাকতে ভালোবাসেন এবং দর্শকদের ভালো ভালো কাজ উপহার দিতে চান।

Back to top button