পারুলের বাবার পরিচয় নিয়ে কেন পিছু হঠলেন সৌমিত্র? উনিই কি পারুলের আসল বাবা? নাকি এর পিছনে লুকিয়ে বড় কোনো রহস্য?

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, বাংলা টেলিভিশনের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ধারাবাহিকের আগামী পর্বের গল্পে আসতে চলেছে এক টানটান উত্তেজনা। পারুল ও রায়ানের হাত ধরে ডাক্তারবাবু উদ্ধার পেলেও, পারুলদের বিপদ কিন্তু এখনই কেটে যাচ্ছে না। শিরিন ও তার দলবল ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হয়ে গেছে যে গুলিটি আসলে পারুলের মায়ের গায়েই লেগেছে। পারুলদের আরও বড় বিপদে ফেলতে তারা চতুরতার সাথে বসু বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে দেয়। আগামী পর্বে দেখা যাবে, গায়েত্রীকে খোঁজার নাম করে একদল পুলিশ আচমকাই বসু বাড়িতে চড়াও হয়। কিন্তু পারুল অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তাদের পথ আগলে দাঁড়ায় এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে সে কোনোভাবেই পুলিশকে তল্লাশি করতে দেবে না। পুলিশ তাকে কাজে বাধা না দেওয়ার অনুরোধ জানালে, পারুল পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে প্রথমে তাদের কাছে সার্চ ওয়ারেন্ট দাবি করে।
পারুলের তীব্র আপত্তির মুখে পুলিশ অবশেষে তাদের সাথে থাকা সার্চ ওয়ারেন্টটি বের করে দেখায়। আইনি কাগজ দেখার পর পারুল আর তাদের আইনিভাবে আটকাতে পারে না। এরপর পুলিশ বাহিনী পুরো বসু বাড়ির প্রতিটি কোণ তন্নতন্ন করে তল্লাশি করতে শুরু করে। ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র ও গোপন জায়গাগুলো খতিয়ে দেখতে দেখতে একপর্যায়ে পুলিশ অফিসাররা একটি নির্দিষ্ট ঘরে গিয়ে ঢোকেন এবং সেখানে এমন কিছু একটা দেখেন যা দেখে তারা চরম অবাক ও স্তম্ভিত হয়ে যান। সেখানে কী এমন লুকিয়ে রাখা আছে, তা জানতে দর্শকদের মনে কৌতূহল আরও বেড়ে গেছে।
পুরো পর্ব জুড়েই পুলিশের তল্লাশি আর দাদুর অভিনয় ছিল অসাধারণ, যা দর্শকদের দারুণ বিনোদন দিয়েছে। তবে এর মাঝেই খারাপ লেগেছে গায়ত্রীর বিষয়টা। অন্তত আজ তার উচিত ছিল সৌমিত্র কাকুর কাছে সমস্ত সত্যিটা খুলে বলা। কারণ, সৌমিত্র কাকুর কথাতেই এখনো স্পষ্ট যে সে আসলে গায়ত্রীকে কতোটা মন থেকে ভালোবাসে। গায়ত্রীর আজ অন্তত বোঝা উচিত ছিল যে সৌমিত্র আর শিঞ্জিনীর বিষয়টা আসলে একটা ধোঁয়াশা মাত্র, যার পেছনে অন্য কোনো সত্যি লুকিয়ে আছে।
সব রকম উত্তেজনার মাঝেও শেষদিকে পারুলের প্রতি রায়ানের কেয়ারিং মনোভাব দর্শকদের মন ছুঁয়ে গেছে। রায়ানের সেই যত্নশীল চোখের দিক থেকে আজ যেন চোখ সরানোই দায় ছিল এককথায় এটি ছিল একটি মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। অন্যদিকে, সৌমিত্র বাড়ি গিয়ে শিরিনের সাথে যে কঠোর ব্যবহার করেছে, সেটা ছিল গল্পের আরও একটি বড় ধামাকা। সব মিলিয়ে পর্বটি ছিল দুর্দান্ত ও টুইস্টে ভরপুর।
আরও পড়ুনঃ ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের মাঝে আশার আলো! বৌদির মুখে আসল সত্যি শুনে পায়ের তলা থেকে মাটি সরল আদিত্যের! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
আগামী পর্বের আরও একটি বড় চমক দেখা যাবে যখন পারুল ও রায়ান একটা ক্যাফেতে বসে সৌমিত্রের সাথে কথা বলতে থাকে। একপর্যায়ে সৌমিত্র আচমকাই পারুলকে বলে, সে পারুলের বাবা বা মায়ের পরিচয় জানতে কোনোভাবেই যুক্ত বা ইনভল্ভ হতে পারবে না। এই কথা বলে সৌমিত্র পারুলের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে সেখান থেকে চলে যায়। এরপর রায়ান অবাক হয়ে পারুলকে জিজ্ঞেস করে, মাত্র কয়েক ঘন্টায় সবকিছু এভাবে ১৮০° ঘুরে গেল কীভাবে? পারুলও সন্দেহ প্রকাশ করে বলে, মা কি সৌমিত্র কাকুকে আগে থেকেই কোনোভাবে চিনতো? জবাবে রায়ান মনে করিয়ে দেয় যে, শিরিন তোকে তোর বাবার নাম জানতে দেয়নি, আবার তোর বাবার ডিএনএ টেস্টও করালো শিরিন এই সবকিছু তো একটাই ইঙ্গিত করছে! পারুল তখন হতবাক হয়ে প্রশ্ন করে, “তাহলে কি সৌমিত্র কাকুই আমার বাবা?” এই বড় সত্যিটা এখন গল্পকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই দেখার বিষয়।

