‘পাশে নেই স্বামী, এক বছরের বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে আমি…’ ‘ওর সঙ্গে কাটানো দিনগুলোই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়…’ ‘সংসার ভেঙেছে, কিন্তু…!’ পর্দার হাসির আড়ালে লুকিয়ে একলা মায়ের কঠিন লড়াই! প্রথমবার মেয়েকে সামনে এনে জীবনের ভাঙাগড়ার গল্প শোনালেন মেঘনা হালদার!

টলিউডের (Tollywood) জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেঘনা হালদারের (Meghna Haldar) সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকার সামাজিক মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। দীর্ঘদিনের আড়াল ভেঙে প্রথমবারের মতো ক্যামেরার সামনে এনেছেন নিজের মেয়ে আকসাকে। পর্দার হাসিখুশি চরিত্রের আড়ালে একজন নারীর জীবনের কতটা ভাঙাগড়া, একাকীত্ব আর লড়াই লুকিয়ে থাকে সেই গল্পই অত্যন্ত সহজ ও আবেগময় ভাষায় প্রকাশ পেয়েছে এই আড্ডায়। কোনো মেলোড্রামা বা কারো প্রতি কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি নয়, বরং এক বুক শান্ত পরিপক্বতা নিয়ে মেঘনা তুলে ধরেছেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ও সুন্দর কিছু স্মৃতির কথা, যা যেকোনো মানুষের মনকে নাড়া দিয়ে যায়।

সব সম্পর্কের শুরুটা যেমন রূপকথার মতো হয়, মেঘনার জীবনের শুরুটাও তেমনই ছিল। মুম্বাইতে কাজ করার সময় ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন পেশায় এডিটর ও ইঞ্জিনিয়ার ঋষিকে। মেঘনা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে স্মরণ করেছেন সেই সুন্দর চার বছরের কথা। রক্ষণশীল বাঙালি পরিবারের কড়া নিয়মে বড় হওয়া মেঘনা বিয়ের পর পেয়েছিলেন ডানা মেলার স্বাধীনতা। শর্ট ড্রেস পরা, স্বামীর সাথে ডিস্কে যাওয়া বা সিনেমা দেখার মতো ছোট ছোট আনন্দের দিনগুলো আজও তাঁর স্মৃতির মণিকোঠায় উজ্জ্বল। ভালোবাসা যেখানে খাঁটি ছিল, সেখানে কোনো অভিযোগ ছাড়াই মেঘনা স্বীকার করেছেন যে তাঁর প্রাক্তন স্বামী মানুষ হিসেবে ভীষণ ভালো ছিলেন এবং তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময় কেটেছে ঋষির সাথেই।

কিন্তু জীবন সবসময় সোজা পথে চলে না। ভালোলাগার সেই সম্পর্কে ফাটল ধরাল বাস্তব জীবনের কিছু অমিল। বাঙালি ও অ-বাঙালি সংস্কৃতির পারিবারিক পার্থক্য এবং প্রাত্যহিক জীবনের ছোটখাটো খিটপিট ধীরে ধীরে মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মেঘনা বুঝতে পেরেছিলেন, জোর করে বা প্রতিদিনের অশান্তির মধ্য দিয়ে একটা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা মানে নিজেদের এবং সন্তানের জীবনকে বিষিয়ে তোলা। তাই কোনো বড় ধরনের ঝগড়া বা তিক্ততা ছাড়াই, অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় তাঁরা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মেঘনা জানান, তাঁর প্রাক্তন স্বামী নিজের পরিবারকে খুব ভালোবাসতেন, আর মেঘনা কখনোই চাননি কারো পরিবার ভাঙতে। তাই নিজে কষ্ট পেয়েও, এক বুক বেদনা নিয়ে এক বছরের দুধের শিশুকে কোলে তুলে বাপের বাড়ির পথ ধরেছিলেন এই অভিনেত্রী।

কলকাতায় ফিরে এসে শুরু হয় মেঘনার জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় একজন ‘সিঙ্গেল মাদার’ বা একা মায়ের লড়াই। সেই দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তাঁর প্রয়াত মা-বাবা এবং মেজদির প্রতি, যাঁরা মায়ের অবর্তমানে আকসাকে পরম স্নেহে বড় করেছেন। সময়ের নিয়মে মেয়ে আজ বড় হয়েছে, বিগত তিন বছর ধরে সে মুম্বাইতে তার বাবার কাছে থেকে পড়াশোনা করছে। অনেক সময় ডিভোর্স বা সেপারেশনের পর সন্তানদের মনে মা কিংবা বাবার প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়। কিন্তু মেঘনা ও ঋষি সেই ভুল করেননি। তাঁরা নিজেদের দূরত্বকে মেয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে দেননি, বরং আজও দুজনের মধ্যে সুন্দর বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ রয়েছে। মেয়েও আজ বড় হয়ে বুঝতে শিখেছে এবং বাবা-মা দুজনের খুশিকেই সে নিজের খুশি বলে মেনে নিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘ সিন বোঝানোর নামে ঘন ঘন চু’মু…’ প্রকাশ্যে অভিনেতার নোং’রা কীর্তিকলাপ! শুটিংয়ে অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা ফাঁ’স করলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী!

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে মেঘনা হালদার একলা চলার এই স্বাধীন জীবনকে ভালোবাসতে শিখে গেছেন। কার সাথে প্রেম করবেন, কার সাথে ঘর বাঁধবেন সেইসব সামাজিক চাপের চেয়ে নিজের শান্তি এবং ভালো থাকাকেই তিনি অগ্রাধিকার দেন। দর্শকদের উদ্দেশ্যে তাঁর জীবনের সহজ বার্তা হলো, জীবন একটাই, তাই জবরদস্তি কোনো অশান্তির সম্পর্কে থেকে বা বিষণ্ণতায় ভুগে জীবন শেষ করে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। কষ্ট হলেও নিজের মতন করে ভালো থাকাটাই আসল। মা-বাবার ব্যক্তিগত অশান্তি থেকে সন্তানদের দূরে রেখে তাদের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ দেওয়াটাই একজন প্রকৃত অভিভাবকের দায়িত্ব। মেঘনার এই শান্ত ও পরিণত জীবনবোধ আমাদের শেখায় যে, পথ আলাদা হলেও জীবনকে সুন্দরভাবে যাপন করা সম্ভব।

Back to top button