‘এটা শুটিং ফ্লোর নাকি…এসব অসভ্যতা সহ্য করব না!’ ‘যখন যেখানে পারছে মুখের সামনে…’ জুনিয়রদের মধ্যে সভ্যতা ভদ্রতা কোথায়? নাম না করেই আ’ক্রমণ! রাগে ফুঁসে উঠলেন চাঁদনী সাহা!

জি বাংলার (Zee Bangla) জনপ্রিয় ধারাবাহিক জোয়ার ভাঁটা-র (Jowar Bhanta) শুটিং ফ্লোর থেকে উঠে এলো এক চরম বিতর্ক। সিরিয়ালের নেতিবাচক চরিত্রের অভিনেত্রী চাঁদনী সাহার একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে টলিপাড়ায় তুমুল শোরগোল। কোনো নাম উল্লেখ না করলেও নেটিজেনদের একাংশের স্পষ্ট দাবি, চাঁদনীর এই ক্ষোভের নিশানা আসলে ওই ধারাবাহিকেরই মুখ্য অভিনেত্রী আরাত্রিকা মাইতি, যিনি মাঝেমধ্যেই শুটিং ফ্লোর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভ্লগ বা কনটেন্ট তৈরি করে থাকেন। বিনোদন দুনিয়ার এই নতুন বনাম পুরনোর দ্বন্দ্বকে আরও উস্কে দিয়েছেন আর এক জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রুতি দাস।
অভিনেত্রী চাঁদনী সাহা তাঁর দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে বর্তমান প্রজন্মের অতিরিক্ত ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া-নির্ভরতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। শুটিং ফ্লোরে কাজের পরিবেশ ও সিনিয়রদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘কেউ ফোন হাতে নিয়ে ফ্লোরে ঢুকে সবার ওপর ক্যামেরা ধরে র্যান্ডম স্টোরি করছে, এবং কোনো সম্মান নেই যে ফ্রেমে সিনিয়রেরাও আছেন।’ তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, নতুন প্রজন্মের একাংশের কাছে কাজের জায়গার চেয়েও সোশ্যাল মিডিয়ার রিচ বা ভিউজ বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে, যা দীর্ঘদিনের চেনা শুটিং সংস্কৃতি ও পেশাদারিত্বের পরিবেশকে নষ্ট করছে।
শুধু ক্যামেরা ধরা নয়, ফ্লোরের ভেতর ব্যাকস্টেজ বা বিটিএস ভিডিও বানানোর নামে জুনিয়রদের সৌজন্যতাবোধের অভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন চাঁদনী। ভিডিওতে সিনিয়রদের ব্যবহার করলেও তাঁদের যথাযথ ক্রেডিট বা সম্মান না দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি ক্ষুব্ধভাবে লিখেছেন, ‘যদি যাদের ফ্রেমে নিচ্ছ, তাদের নাম মেনশন করার ন্যূনতম সৌজন্যতা না থাকে, তাহলে প্লিজ ফ্লোরে এসে বিটিএস তুলো না।’ এখানে চাঁদনী আসলে ইন্ডাস্ট্রির সেই অলিখিত নিয়মের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন, যেখানে সিনিয়রদের কাজের মূল্যায়ন ও মর্যাদা দেওয়াটা প্রাথমিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। শুধুমাত্র নিজেদের কনটেন্ট ভারী করার জন্য সিনিয়রদের ফ্রেমে রেখে ক্যাপশনে শুধু হিরো-হিরোইনের নাম দেওয়ার এই ট্রেন্ডকে তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
ভিডিও করার তাড়াহুড়োয় শিল্পীদের ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য ও খারাপ অ্যাঙ্গেল নিয়ে তৈরি হওয়া অস্বস্তিকেও রেয়াত করেননি এই অভিনেত্রী। নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি যদি কোনো সিন করি, আর সেই সময় যদি তোমরা ফোন নিয়ে সামনে এসে দাঁড়াও, তাহলে আমি তোমাদের একদমই এন্টারটেইন করব না।’ চাঁদনীর এই চরম সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে শিল্পীদের আত্মসম্মান ও কাজের গোপনীয়তা রক্ষার লড়াই। ফ্লোরে ক্যামেরার সামনে অদ্ভুত বা অস্বস্তিকর অ্যাঙ্গেলে সিনিয়রদের ফুটেজ নেওয়া যে কতটা আপত্তিকর, সেটাই তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন এবং স্পষ্ট জানিয়েছেন যে এই ধরনের ড্রামা তিনি শুটিং সেটে বরদাস্ত করবেন না।
আরও পড়ুনঃ ‘আর কতবার এই একই গল্প গিলব?’ শন-পায়েলের আসন্ন মেগার গল্প শুনে বিরক্ত দর্শক! ‘সয়রাব’-এর বাংলা রিমেক! আবার প’রকীয়া? ছেলের বয়সী প্রেমিকের সঙ্গে স্বামী সন্তান থাকা নায়িকার প্রেম! ক্ষোভ উগরে দিলেন নেটিজেনরা!
চাঁদনীর এই বিস্ফোরক পোস্টের নিচে সহমত পোষণ করে বিতর্ক আরও বাড়িয়েছেন অভিনেত্রী শ্রুতি দাস। তিনি মন্তব্য করেন, ‘সম্মান? সেটা আবার কি? এখন কেউ কাউকে সম্মান করেনা। না-তো ছোটরা বড়দের, না-তো বড়রা ছোটদের।’ শ্রুতির এই মন্তব্য ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের এক গভীর ফাটল ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাবকেই প্রকাশ্যে এনেছে। একদিকে যেমন সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে নতুন প্রজন্মের লাইমলাইটে থাকার চেষ্টা, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের চেনা শুটিং সংস্কৃতির অবক্ষয় এই দুইয়ের সংঘাত এখন জোয়ার ভাঁটা-র সেট ছাড়িয়ে গোটা টেলিপাড়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শেষ পর্যন্ত এই রেষারেষি সিরিয়ালের কাজের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেটাই এখন দেখার। একমাত্র অভিনেত্রী আরাত্রিকা মাইতিকে ছোটখাটো ভিডিও এবং ভ্লগ করতে দেখা যায়। তাই দর্শকদের একাংশের ধারণা অভিনেত্রী চাঁদনী আরাত্রিকাকেই নিশানা করে কথাগুলো বলেছেন।

