আর একটা পদক্ষেপেই সত্যের সন্ধান পাবে পারুল! এত সহজে কি সামনে আসবে বাবার আসল পরিচয়? নাকি অপেক্ষা করছে ভয়ঙ্কর কোনো ফাঁদ?

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, বাংলা টেলিভিশনের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ধারাবাহিকের আগামী পর্বগুলোতে আসতে চলেছে এক দুর্দান্ত মোড়। গল্পে দেখা যাচ্ছে, বাবার আসল পরিচয় খুঁজে বের করতে পারুল এবার একটি অত্যন্ত বড় ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। সে দৃঢ়তার সাথে জানিয়ে দেয়, বাবার পরিচয় জানতে হলে তাকে তার মায়ের কাছেই যেতে হবে, আর তাই সে সাউথ ইন্ডিয়া যাবে। পারুলের এই সাহসি সিদ্ধান্তের কথা শুনে রায়ান তাকে একা ছাড়তে একেবারেই রাজি হয় না। পারুলের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে সেও পারুলের সাথে যাবে। এরপর দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা পরদিন সকালেই সাউথ ইন্ডিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।
তবে এই যাত্রার শুরুতেই গল্পে অপেক্ষা করছে এক মস্ত বড় টুইস্ট। পারুল ও রায়ানের সাউথ ইন্ডিয়া যাওয়ার এই পুরো কথোপকথনটি আড়াল থেকে লুকিয়ে শুনে ফেলে খলনায়িকা শিরিন। এই খবর পাওয়ার পর শিরিন, সংযুক্তা এবং শিরিনের মা মিলে একটি ভয়ঙ্কর প্ল্যান তৈরি করে। তারা ঠিক করে, কিভাবে পারুল এবং পারুলের মাকে একসাথেই চিরতরে শেষ করে দেওয়া যায়, যাতে সত্যিটা জানতে পারলেও পারুল আর কোনোদিন কিছু করতে না পারে। পারুল মায়ের সঙ্গে দেখা করতে সাউথ ইন্ডিয়া যাওয়ার সুযোগেই শিরিনরা সেখানে তাদের শেষ করে দেওয়ার এই গা শিউরে ওঠা পরিকল্পনাটি করে।
এই সব বিপদের মাঝেই রায়ান ও পারুলের কিছু মিষ্টি ও কেয়ারিং মুহূর্ত দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। তাদের এই ছোট ছোট ভালোবাসার মুহূর্তগুলো ভীষণ সুন্দর লাগে। আর তারপরেই আসে সেই বহু প্রতীক্ষিত মা ও মেয়ের দেখা হওয়ার দৃশ্য। এত আবেগ আর অনুভূতিতে ভরা ছিল সেই দৃশ্যটি, যা দেখলে চোখ ভিজে আসে। পারুলের মা যখন রায়ানকে অনুরোধ করে বলে, “আমি তো ওকে ভালোবাসা দিতে পারিনি, তুমি আমার মেয়েকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিও…” তখন সত্যিই সবার চোখে জল চলে আসে।
আরও পড়ুন: সবার অজান্তে চুপি চুপি বিয়ে? এক বছর আগেই গোপনে বিয়ে সেরেছেন অভিনেতা? সত্যিটা ফাঁস হতেই ভক্তদের প্রশ্নের মুখে অম্বরীশ ভট্টাচার্য! জানেন পাত্রীটি কে?
এরপর পারুল তার মায়ের মুখোমুখি হয়ে আকুলভাবে জানতে চায়, “মা, আমার বাবার পরিচয়টা বলো না তুমি? আমার কি আমার বাবার পরিচয় জানার অধিকার নেই?” তখন পারুলের মা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করে বলে, “বাবার পরিচয় না জানলে কী সমস্যা? তুই নিজেই এখন মা হতে চলেছিস। বাবার পরিচয় না জেনে কি তোর কোনো সমস্যা হয়েছে? তাহলে এখন আর জানার কী দরকার?” মায়ের এই কথার জবাবে রায়ান তখন পারুলের মাকে আসল পরিস্থিতিটা জানায়। সে বলে, পারুল যদি বাবার পরিচয় না জেনে কলকাতায় ফিরে যায়, তবে সেখানে ওর মস্ত বড় বিপদ হয়ে যাবে। রায়ানের মুখে বিপদের কথা শুনে পারুলের মা অবশেষে রাজি হয় এবং বলে, “আচ্ছা, আমি তোকে তোর বাবার পরিচয় জানাবো।”
গল্পের মোড় এখন এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তেই রোমাঞ্চ আর উত্তেজনা কাজ করছে। একদিকে মায়ের মুখ থেকে বাবার সত্য পরিচয় জানার একদম কাছাকাছি পৌঁছে গেছে পারুল, আর অন্যদিকে শিরিনরা তাদের শেষ করে দেওয়ার জন্য ওত পেতে বসে আছে। এই পরিস্থিতিতে পারুলের মা কি শেষ পর্যন্ত মেয়েকে তার বাবার পরিচয়টা জানাতে পারবে? নাকি তার আগেই শিরিনদের ভয়ঙ্কর কোনো চালের মুখে পড়তে হবে রায়ান ও পারুলকে? এই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে ধারাবাহিকের আগামী পর্বগুলোতেই।

