প’ঙ্গু হয়ে একাকিত্বে কাটালেন শেষ জীবন! ৭২ বছর বয়সে জীবন যুদ্ধে হার মেনে না ফেরার দেশে অভিনেতা! তাঁর মৃ’ত্যুতে আজও শূন্য বিনোদন জগৎ!

বাংলা চলচ্চিত্রের (Tollywood) ইতিহাসে এমন কিছু শিল্পী থাকেন, যাঁদের চেহারা হয়তো প্রথাগত নায়ক বা মূল চরিত্রের মতো নয়, কিন্তু পর্দায় তাঁদের উপস্থিতি দর্শককে চুম্বকের মতো টেনে রাখত। নিখুঁত ও স্বাভাবিক অভিনয়ের জোরে তাঁরা খুব সহজেই মানুষের মনে জায়গা করে নিতেন। পরিচালকদের কাছেও তাঁরা ছিলেন ভীষণ ভরসাযোগ্য। সামান্য কয়েক মিনিটের চরিত্র হলেও, নিজের প্রতিভার জোরে তাঁরা গোটা সিনেমার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখতেন। অথচ সিনেমার রূপোলী পর্দার পেছনের বাস্তব জীবনটা অনেক সময়ই এই গুণী মানুষদের জন্য খুব একটা সুখকর হয় না।

এই ধরনের প্রতিভাবান অভিনেতাদের জীবনের সবচেয়ে সুবর্ণ অধ্যায় কেটেছে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে। তাঁর একাধিক কালজয়ী ছবিতে এই বিশেষ মানুষটি অভিনয় করেছিলেন। ছোট বা মাঝারি চরিত্র হলেও পরিচালকের অত্যন্ত প্রিয় পাত্র হয়ে উঠেছিলেন তিনি। চারুলতা, নায়ক, অরণ্যের দিন-রাত্রি, গুপী গাইন বাঘা বাইন, হীরক রাজার দেশে কিংবা ঘরে বাইরে-র মতো একের পর এক বিখ্যাত ছবিতে তাঁর অভিনয় আজও সিনেমা প্রেমীদের মুখে মুখে ফেরে। পরিচালকের পছন্দের তালিকায় ওপরের দিকে থাকায় টলিপাড়ার অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

তবে তাঁর অভিনয় জীবনের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং কালজয়ী রূপটি ছিল ফেলুদা সিরিজের একটি চরিত্রে। ‘সোনার কেল্লা’ ছবির সেই বিখ্যাত ধূর্ত, চতুর এবং কখনো হাস্যরস মিশ্রিত খল চরিত্রটির কথা বাঙালি কোনোদিন ভুলতে পারবে না। তিনি পর্দায় আসা মানেই দর্শকের মনে একটা আলাদা উত্তেজনা তৈরি হতো। খলনায়কের চরিত্রকে যে কতটা স্বাভাবিক ও জীবন্ত করে তোলা যায়, তা তিনি প্রতি মুহূর্তে প্রমাণ করেছিলেন। বহু বছর পার হয়ে যাওয়ার পরেও সেই চরিত্রটি নিয়ে আজও সিনেমা মহলে চর্চা ও আলোচনা হয়।

অথবা, পর্দার এই চতুর খলনায়কের বাস্তব জীবনের শেষ দিকটা ছিল ভীষণ করুণ ও যন্ত্রণাদায়ক। নব্বইয়ের দশকে প্রিয় পরিচালকের প্রয়াণের পর তাঁর জীবনে বড় বিপর্যয় নেমে আসে। নতুন প্রজন্মের পরিচালকদের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া বা কাজ পাওয়ার সুযোগ ক্রমশ কমে যেতে থাকে। এক সময় যিনি নিয়মিত স্টুডিও পাড়ায় ব্যস্ত শিডিউলে কাটাতেন, তিনি ধীরে ধীরে কাজের অভাবের কারণে আড়ালে চলে যান। কাজ কমে যাওয়ার সাথে সাথে শুরু হয় তীব্র আর্থিক সংকট। এর ওপর যোগ হয় কঠিন শারীরিক অসুস্থতা।

actor

আরও পড়ুনঃ বিরাট দুঃসংবাদ! মাত্র ২২ বছর বয়সেই না ফেরার দেশে টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী! মৃ’ত্যুর কিছুক্ষণ আগেও সমাজ মাধ্যমে ছিলেন সক্রিয়! রহস্য মৃ’ত্যুর পিছনে রয়েছে কে? কি বলছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট?

দীর্ঘদিন পঙ্গু হয়ে বিছানায় কাটানো এবং তীব্র একাকিত্বের কারণে তিনি চরম মানসিক অবসাদে ভুগেছিলেন। সিনেমা জগৎ তাঁকে এক প্রকার ভুলেই গিয়েছিল, যা একজন প্রকৃত শিল্পীর জন্য অত্যন্ত অপমানের ও কষ্টের। বাস্তবের এই কঠিন লড়াই ও দীর্ঘ অবহেলার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ২০০৩ সালের ৬ই ডিসেম্বর, ৭২ বছর বয়সে আমাদের ছেড়ে চলে যান বাংলা সিনেমার সেই অবিস্মরণীয় চরিত্রাভিনেতা কামু মুখোপাধ্যায়।

Back to top button