‘ক্ষমতা যেতেই ভোলবদল? সুসময়ে দিদির পাশে, অসময়ে কেটে পড়লেন?’ ‘অভিনয় জীবন ছেড়ে রাজনীতিতে শুধুই ক্ষমতার লোভে?’ জুনের ভোলবদলে প্রশ্ন সাধারণ মানুষের!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এবারের ভোটে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। দলের এই নজিরবিহীন বিপর্যয়ের পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরে দেখা দিয়েছে চরম সংকট। একের পর এক বিধায়ক ও সদস্য পদ ছাড়ছেন অনেকে, দলীয় সংগঠনেও ধরেছে বড়সড় ভাঙন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনী ধাক্কায় শাসক দল যেভাবে ব্যাকফুটে চলে গেছে, তা সত্যিই অভাবনীয়।

দলের এই চরম দুর্দিনেও টলিউডের একঝাঁক তারকা কিন্তু এখনো দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে অনড় রয়েছেন। দেব বা কোয়েল মল্লিকের মতো তারকারা, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এই দলের হয়ে কাজ করেছেন বা নির্বাচনে লড়েছেন, তাঁরা এবারের ভরাডুবির পরেও দলনেত্রীর প্রতি তাঁদের আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। দেব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশ থেকে সরছেন না। সংকটের এই মুহূর্তেও তারকাদের এমন একাগ্রতা যখন দলীয় কর্মীদের একাংশকে অক্সিজেন দিচ্ছে, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে হাঁটলেন অভিনেত্রী তথা মেদিনীপুরের তারকা সাংসদ জুন মালিয়া।

অভিনয়ের তুঙ্গে থাকা ক্যারিয়ার ছেড়ে একটা সময় রাজনীতির ময়দানে পা রেখেছিলেন জুন মালিয়া। মেদিনীপুর থেকে বিধায়ক এবং পরবর্তীতে লোকসভা নির্বাচনে জিতে সাংসদও হন তিনি। কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনে দলের ভরাডুবি হতেই রাতারাতি জুনের গলায় শোনা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ‘উল্টো সুর’। সম্প্রতি বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা নবনির্বাচিত সরকারের প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি এবং দিল্লির কিছু গোপন বৈঠকে যোগ দেওয়ার খবর সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষমতার অলিন্দে থাকা জুন এখন কার্যত দলবিরোধী বা ‘বিদ্রোহী’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

জুন মালিয়ার এই ভোলবদলকে ঘিরেই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তুমুল ট্রোল ও হাসাহাসি শুরু হয়েছে। দর্শকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন নির্বাচনের ঠিক আগের জুনের একটি ভাইরাল ভিডিওর কথা, যেখানে তিনি অতি-আগ্রাসী মেজাজে নেত্রীর অপমানের বদলা নিতে এবং ৫ তারিখে ‘ডিজে’ বাজানোর হুঙ্কার দিয়েছিলেন। আজ ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই তাঁর এই ভোলবদল দেখে সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনরা বলছেন, “একেবারে গিরগিটির মতো রঙ বদলানো একেই বলে!” অনেকে আবার মন্তব্য করছেন, “দিদির সুসময়ে পাশে থেকে ক্ষমতার মধু খেয়েছেন, আর অসময় আসতেই ডানা গুটিয়ে কেটে পড়ছেন।”

আরও পড়ুনঃ বিরাট দুঃসংবাদ! ৭৮ বছর বয়সে শেষ হলো পথ চলা! সবাইকে বিদায় জানিয়ে প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা! শোকোস্তব্ধ বিনোদন জগৎ!

সাধারণ দর্শকদের এই তীব্র সমালোচনা ও কটাক্ষের মুখে পড়ে জুন মালিয়া এখন নেটপাড়ার অন্যতম প্রধান ‘ট্রোল মেটেরিয়াল’। দলের দুর্দিনে যেখানে অন্য তারকারা পাশে দাঁড়িয়ে ভরসা দিচ্ছেন, সেখানে জুনের মতো একজন সিনিয়র নেত্রীর এভাবে ভোলবদলকে আমজনতা ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’ বলেই দাগিয়ে দিচ্ছে। অভিনয় ছেড়ে রাজনীতিতে এসে দীর্ঘদিন রাজত্ব করার পর, পরাজয়ের প্রথম ধাক্কাতেই যেভাবে তিনি সুর বদলালেন তা নিয়ে দর্শকদের এই হাসাহাসি ও সমালোচনা যেন প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, পাবলিক সব বোঝে এবং নেটিজেনরা কাউকেই রেয়াত করতে ছাড়ে না।

Back to top button