‘আমি দুর্ব্যবহার করিনি, কিন্তু ওরা…!’ ‘নিজের টাকায় কেনা জিনিস পেতেও ৪ মাস ঘুরতে হলো!’ শ্বশুরবাড়ি থেকে অবশেষে নিজের জিনিস ফেরত পেলেন দেবলীনা নন্দী! ছেলে পাইলট, এদিকে বউমার জিনিসের উপর এত লোভ? প্রবাহর পরিবারকে তুলোধোনা দর্শকদের!

সোশ্যাল মিডিয়ার (Social Media) অতি পরিচিত মুখ, গায়িকা তথা জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার দেবলীনা নন্দী (Debolina Nandy) অবশেষে ফিরে পেলেন তাঁর দীর্ঘদিনের সাধের সংসার ও নিজের হাতে তৈরি শাড়ি এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। বিগত প্রায় ৪-৫ মাস ধরে চরম মানসিক টানাপোড়েন এবং আইনি জটিলতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর, সম্প্রতি চন্দননগর থানার পুলিশ প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতায় নিজের সামগ্রী উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। নিজের ইউটিউব চ্যানেল-এ একটি দীর্ঘ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেবলীনা তাঁর অনুরাগীদের এই স্বস্তির খবরটি জানিয়েছেন। এর আগে তাঁর মায়ের করা একটি আবেগঘন ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক শোরগোল তৈরি হয়েছিল এবং সেই সূত্র ধরেই অবশেষে তৎপরতা দেখায় প্রশাসন।
দীর্ঘদিন ধরে টলিপাড়া ও সামাজিক মাধ্যমে দেবলীনা নন্দী ও তাঁর স্বামী প্রবাহ নন্দীর বৈবাহিক কলহ এবং ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে ধুমধাম করে বিয়ে হওয়ার পর থেকেই তাঁদের সম্পর্কে ফাটল ধরে এবং দেবলীনার অভিযোগ অনুযায়ী, ক্রমশ তা চরম তিক্ততার রূপ নেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, দেবলীনা সোশ্যাল মিডিয়া লাইভে এসে তাঁর বৈবাহিক জীবনের মানসিক নির্যাতনের কথা শেয়ার করতে করতে ভেঙে পড়েন এবং পরবর্তীতে চরম মানসিক অবসাদের শিকার হন। সেই কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে নিউটাউনের ফ্ল্যাটের পর এবার চন্দননগরের শ্বশুরবাড়ি থেকেও নিজের কষ্টার্জিত সম্পদ উদ্ধার করলেন এই জনপ্রিয় তারকা।
ভিডিওতে দেবলীনা স্পষ্ট জানান যে, নিউটাউনের ফ্ল্যাটের জিনিসপত্র তিনি বিচ্ছেদের প্রথম ১৫-১৬ দিনের মধ্যেই পেয়ে গিয়েছিলেন, তবে চন্দননগরের বাড়িতে আটকে থাকা নিজস্ব সামগ্রীগুলো উদ্ধার করতে তাঁর কালঘাম ছুটে গেছে। উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে দেবলীনার নিজের হাতে ডিজাইন করা ও কাপড় এনে তৈরি করা প্রচুর শাড়ি, যা তিনি অত্যন্ত ভালোবাসতেন। এছাড়া ঘর পরিষ্কার ও সাজানোর জন্য নিজের টাকায় কেনা মই এবং অন্যান্য আসবাবপত্রও তিনি নিয়ে এসেছেন। তবে শ্বশুরবাড়ির প্রতি বা স্বামীর প্রতি কোনো বিদ্বেষ থেকে এই কাজ করেননি তা বোঝাতে তিনি জানান, স্বামীকে উপহার দেওয়া প্রায় ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের ব্র্যান্ডেড ঘড়ি বা অন্যান্য দামি উপহার তিনি ওখানেই রেখে এসেছেন এবং শুধুমাত্র নিজের টাকায় কেনা দরকারি জিনিসগুলোই ফেরত এনেছেন।
জিনিসপত্র ফিরে পাওয়ার স্বস্তির পাশাপাশি এই উদ্ধার প্রক্রিয়ার দিন তাঁকে যে চরম অসম্মান ও মানসিক হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে, তাও অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে তুলে ধরেছেন দেবলীনা। তিনি অভিযোগ করেন, চন্দননগরের বাড়ি থেকে জিনিস বের করার সময় প্রতিপক্ষের আইনজীবী ও কিছু পরিচিত মানুষজন উপস্থিত থেকে গোটা ঘটনার ভিডিও করছিলেন এবং তাঁকে ব্যঙ্গ করছিলেন। এমনকি, অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে তাঁর অন্তর্বাসের (ইনারঅয়্যার) ব্যাগটি পর্যন্ত জোর করে খুলিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে পুরুষ পুলিশকর্মী ও আইনজীবীদের সামনে একটি একটি করে গুনতে বাধ্য করা হয়। এই চরম লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে যখন প্রতিপক্ষের লোকেরা মুখ টিপে হাসছিলেন, তখন কর্তব্যরত এক মহিলা পুলিশ আধিকারিক এসে দেবলীনাকে আড়াল করেন এবং বাকি জিনিসপত্র গোছাতে সাহায্য করেন।
আরও পড়ুনঃ মৃ’ত্যুর মুখ থেকে ফিরে টগরের বি’স্ফোরক ইঙ্গিত! পারুলের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে একটা ছোট্ট চিঠি? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব!
নিজের অতীত জীবনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে দেবলীনা আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, যাঁরা তাঁকে শুধুমাত্র সাম্প্রতিক বিতর্কের মাধ্যমে চিনছেন, তাঁরা হয়তো তাঁর আসল কষ্টটা বুঝবেন না। তিনি সবসময় একটি সুন্দর ছিমছাম সংসার গড়তে চেয়েছিলেন এবং বিয়ের আগে পেটে স্টেন বসানোর মতো বড় অপারেশনের মাত্র আট দিনের মাথায় তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা নিয়ে, ব্যথার ওষুধ খেয়ে শুধুমাত্র ভালোবেসে প্রবাহের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েছিলেন। চন্দননগর থানার পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে এবং বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দেবলীনা বলেন, শ্বশুরবাড়ির দেওয়া আইনি ‘স্ত্রীধন’ অর্থাৎ বিয়ের একটি বড় সোনার হার সেটি তাঁরা হজম করে নিয়েছেন এবং দাবি করেছেন সেটি নাকি তাঁদের কাছে নেই। তবে তা নিয়ে আর মাথা না ঘামিয়ে নিজের পরিশ্রমের সামগ্রী ফিরে পেয়েই জীবনের একটি অন্ধকার অধ্যায়কে পেছনে ফেলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে চান এই গায়িকা।

