মল্লারকে বাঁচাতে পারুল-রায়ান জুটির মাস্টারস্ট্রোক! হাতে এল নতুন সূত্র! রায়ানকে সঙ্গে নিয়ে রহস্য ভেদ করবে সত্যান্বেষী পারুল!

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, টগর সব সত্যি জেনে ফেলায় নিজের অপরাধ ঢাকতে মরিয়া হয়ে ওঠে শিরিন। সে টগরের মুখ বন্ধ করার জন্য মল্লারকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে। মল্লার নিজে কিছুই জানত না, পুরো বিষয়টাই ঘটেছিল তার অজান্তে। শিরিন গোপনে কখন যে টগরের শরবতে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিল, তা বসু বাড়ির কেউই টের পায়নি। ফলস্বরূপ, নিজের স্ত্রীর ক্ষতি করার কোনো উদ্দেশ্য না থাকা সত্ত্বেও, শিরিন ও সংযুক্তার নিখুঁত পরিকল্পনার শিকার হয়ে মল্লার নিজের হাতেই সেই বিষাক্ত শরবত টগরের মুখে তুলে দেয়।

আনন্দে মেতে থাকা পার্টি মুহূর্তের মধ্যে একটি চরম আতঙ্কে পরিণত হয়। বিষ মেশানো জুসটি খাওয়ার পরপরই সবার সামনে হঠাৎ করেই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে টগর। তীব্র বিষক্রিয়ায় ছটফট করতে করতে সে একসময় সম্পূর্ণ অচেতন হয়ে যায়। এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে বাড়ির সবাই ছুটে আসে। পারুল কাছে গিয়ে দেখে টগরের নাক দিয়ে রক্ত ঝরছে। এই মর্মান্তিক অবস্থা দেখে পারুল হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে এবং বাড়ির সবার মনে চরম উদ্বেগ ও ভয়ের সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কোনো সময় নষ্ট না করে টগরকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান যে, বিষ টগরের সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশ হাসপাতালে এসে উপস্থিত সকলের জবানবন্দি নেয় এবং ঠিক কী ঘটেছিল তা বিস্তারিতভাবে জানার চেষ্টা করে।

তদন্তের স্বার্থে পুলিশ বসু বাড়িতে গিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। এরপর হাসপাতালে ফিরে এসে পুলিশ জানায় যে, মল্লার ও টগরের বৈবাহিক সম্পর্ক ভালো ছিল না, তাই প্রাথমিক সন্দেহের তির মল্লারের দিকেই যায়। পুলিশ ধরে নেয় মল্লারই টগরকে বিষ দিয়েছে। পারুল মল্লারকে নির্দোষ দাবি করে পুলিশকে হাজারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও তারা কোনো কথা শোনেনি। আইন অনুযায়ী পুলিশ মল্লারকে জোরপূর্বক থানায় ধরে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগেই কান্নায় ভেঙে পড়ল ঝিনুক! তবে কি সম্রাটের অতীতের কোনো ভয়ঙ্কর সত্যি জেনে গেল সে?

মল্লারের গ্রেফতারের পর বাড়ি ফিরে পারুল এবং পরিবারের বাকি সদস্যরা ঠান্ডা মাথায় পুরো ঘটনাটা বোঝার চেষ্টা করে। এই কঠিন বিপদের দিনে পরিবারের সম্মান ও মল্লারকে রক্ষা করতে পারুল এবং রায়ান হাত মেলায় তারা একজোট হয়। ঘটনার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখতে দেখতে পারুল হঠাৎ করেই একটি অত্যন্ত সন্দেহজনক বিষয় আবিষ্কার করে। আর দেরি না করে, সেই সূত্র ধরে সত্য উদ্ঘাটনের জন্য পারুল ও রায়ান মিলে সরাসরি সেই ক্যাটারার সার্ভিসের অফিসে ছুটে যায়, যাদের এই অনুষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

Back to top button