বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগেই কান্নায় ভেঙে পড়ল ঝিনুক! তবে কি সম্রাটের অতীতের কোনো ভয়ঙ্কর সত্যি জেনে গেল সে?

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas)। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, কমলার সাথে কথা শেষ করে আদিত্য যখন চলে যাচ্ছিল, তখনই হঠাৎ তার চোখ পড়ে পল্লবীর ওপর। পল্লবীকে দেখে আদিত্য এক মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ায় এবং তার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে। আদিত্যকে এভাবে বারবার নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বেশ বিরক্ত হয় পল্লবী। সে রেগে গিয়ে আদিত্যকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, “কী ব্যাপার আপনার বলুন তো! যখন-তখন আমার পিছে পড়ে থাকেন। এমন বিরক্ত করেন কেন? এমন হলে কিন্তু পুলিশ কেসে ফেঁসে যাবেন!” পল্লবীর এই তীব্র প্রতিক্রিয়া আগামী দিনে তাদের সম্পর্কের মোড় কোন দিকে ঘোরায়, সেটাই এখন দেখার।

এদিকে এই ঘটনার রেশ এসে পড়েছে কমলার ওপর। বাড়ি ফিরে রান্নাঘরে অন্যমনস্ক হয়ে কাজ করার সময় কমলা নিজের অজান্তেই একটি জ্বলন্ত গরম চাটুতে হাত দিতে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই শেষ মুহূর্তে বীণা এসে কমলার হাত ধরে ফেলে এবং বড়সড় বিপদের হাত থেকে তাকে রক্ষা করে। আতঙ্কিত বীণা কমলাকে সাবধান করে বলে, “একী মা! একটু হলেই বড় দুর্ঘটনা হয়ে যেত!” কিন্তু কমলার চোখে-মুখে তখন লেগে রয়েছে তীব্র অস্বস্তি আর এক চাপা ভয়ের ছাপ। গরম চাটুর ছ্যাঁকা থেকে বেঁচে গেলেও মনের ভেতরের ভয় কিছুতেই কাটিয়ে উঠতে পারছেন না কমলা।

বীণাকে নিজের মনের কথা খুলে বলে কমলা জানান, “পল্লবীর ঘটনার পর থেকে এই ভয়টা আমাকে ছাড়ছে না…”। কমলার মনের এই দুর্বলতা এবং অতীতকে আঁকড়ে ধরে রাখার কষ্ট বুঝতে পারে বীণা। সে কমলাকে সাহস জুগিয়ে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে বলে, “এসব ভাববেন না মা, অতীতকে পিছনে ফেলুন। ঝিনুকের জন্য সব ঠিক হয়ে যাবে।” এখন দেখার, ঝিনুকের এই বিয়ে কি কমলার জীবনের সমস্ত কালো মেঘ আর ভয় কাটিয়ে নতুন আলো নিয়ে আসতে পারবে?

এরই মধ্যে গল্পে এসেছে আরও এক বড় টুইস্ট। কমলা তার ছোট ছেলে আর বৌমাকে নিয়ে ছেলের শ্বশুর বাড়িতে নেমন্তন্ন করতে যায়। বেশ ধুমধাম করে বড়লোক শ্বশুর বাড়িতে নেমন্তন্ন সেরে আসে তারা। কিন্তু পর্দার আড়ালে রয়ে গেছে এক মস্ত বড় সত্য। আদিত্য যে আসলে ওই বাড়িরই ছেলে, সেটা কমলা এখনও জানতে পারেনি। সবমিলিয়ে গোটা বিষয়টা এখনও সকলের কাছে সম্পূর্ণ গোপন রয়েছে, যা আগামী দিনে যেকোনো বড় বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।

আরও পড়ুনঃ ‘কাজের ভয়ে ওখানে যেতে বাধ্য হতাম আমরা, নইলে…’ ‘শিল্পীরা নাকি পল্টিবাজ? জনতাও তো পল্টিবাজ!’ টলিউডের অরাজকতা নিয়ে মুখ খুললেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়!

আগামী পর্বে দর্শকরা দেখতে পাবেন এক আবেগঘন মুহূর্ত। বিয়ের পর বাড়ির সবাইকে ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে থাকতে হবে ভেবে মন খারাপ করতে থাকে ঝিনুক। তখন বাড়ির সবাই মিলে ঝিনুককে বুঝানোর চেষ্টা করে। আবেগপ্রবণ হয়ে ঝিনুক শ্রীনিবাস কে বলে, “আমি ভগবানকে দেখিনি কিন্তু তোমাকে দেখেছি।” তখন শ্রীনিবাস তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলে, “তোর যখন মন চাইবে তুই এই বাড়িতে চলে আসবি। আমাদের সবার শিকড় তো একটাই।” এরপর কমলাও ঝিনুককে সাহস জুগিয়ে বলে, “মেয়েরা শক্তির আরেক রূপ। কারণ, মেয়েরা একসাথে দুটো পরিবার সামলাতে পারে। একদম মন খারাপ করবিনা।” এখন এটাই দেখার, এই সব বাধা ও আবেগ পেরিয়ে ঝিনুক ও কমলার জীবন কোন নতুন পথের দিকে এগিয়ে যায়।

Back to top button