ঝিনুকের বিয়ের আনন্দের মাঝেই কমলার মনে তীব্র অস্বস্তি! অতীতের কালো মেঘে ঢাকছে বর্তমান! কি ঘটেছিল ওই অন্ধকার অতীতে?

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas)। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, মিঠি পল্লবীকে অনুরোধ করে সে যেন আদিত্যকে ধন্যবাদ জানায়। কারণ আদিত্য সেদিন তাকে ভালোবেসে মাছ-ভাত খাইয়েছিল। মিঠির কথামতো পল্লবী আদিত্যকে ফোন করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং জানায় খুব শীঘ্রই সে মিঠিকে সাথে নিয়ে আদিত্যের সাথে দেখা করতে আসবে। পল্লবী নিজেই জানে না যে, ফোনের ওপারে থাকা মানুষটি আসলে কে! তবে আদিত্যের গলার আওয়াজ শুনে পল্লবীর মন যেন চেনা চেনা ঠেকতে শুরু করেছে। এদিকে আদিত্যের বাড়িতে জোরকদমে তার বিয়ের জন্য মেয়ে খোঁজা শুরু হলেও, আদিত্যের মন কিন্তু অন্য কোথাও মজে রয়েছে। সে মনে মনে অলরেডি তার জীবনসঙ্গী বেছে নিয়েছে, তাই বাড়ির এই বিয়ে নিয়ে মাতামাতি তার বিন্দুমাত্র ভালো লাগছে না।

অন্য দিকে, ঝিনুকের বিয়ের তোড়জোড় এখন তুঙ্গে। স্বয়ং সম্রাট এসে বিয়ের প্রথম নিমন্ত্রণপত্রটি তুলে দেয় কমলার হাতে। ঝিনুকের বিয়ের এই আনন্দের আবহের মাঝেই আচমকা রাস্তায় কমলার সাথে দেখা হয়ে যায় আদিত্যের। কমলা অত্যন্ত আনন্দের সাথে এবং হাসিমুখে আদিত্যকে ঝিনুকের বিয়ের কার্ড দেয় এবং বিয়েতে আসার জন্য আন্তরিক অনুরোধ জানায়। আদিত্যও অত্যন্ত ভদ্রতা ও সৌজন্যতার সাথে সেই নিমন্ত্রণ গ্রহণ করে। কিন্তু এই সহজ ও স্বাভাবিক পরিস্থিতির পরেই গল্পে আসতে চলেছে এক বড়সড় টুইস্ট।

কমলার সাথে কথা শেষ করে আদিত্য যখন চলে যাচ্ছিল, তখনই হঠাৎ তার চোখ পড়ে পল্লবীর ওপর। পল্লবীকে দেখে আদিত্য এক মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ায় এবং তার দিকে তাকিয়ে থাকে। আদিত্যকে এভাবে বারবার নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বেশ বিরক্ত হয় পল্লবী। সে রেগে গিয়ে আদিত্যকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, “কী ব্যাপার আপনার বলুন তো! যখন-তখন আমার পিছে পড়ে থাকেন। এমন বিরক্ত করেন কেন? এমন হলে কিন্তু পুলিশ কেসে ফেঁসে যাবেন!” পল্লবীর এই তীব্র প্রতিক্রিয়া আগামী দিনে তাদের সম্পর্কের মোড় কোন দিকে ঘোরায়, সেটাই এখন দেখার।

ধারাবাহিকের আগামী পর্বে দেখা যাচ্ছে এক চরম নাটকীয় মুহূর্ত। রান্নাঘরে অন্যমনস্ক হয়ে কাজ করার সময় কমলা নিজের অজান্তেই একটি জ্বলন্ত গরম চাটুতে হাত দিতে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই শেষ মুহূর্তে বীণা এসে কমলার হাত ধরে ফেলে এবং বড়সড় বিপদের হাত থেকে তাকে রক্ষা করে। আতঙ্কিত বীণা কমলাকে সাবধান করে বলে, “একী মা! একটু হলেই বড় দুর্ঘটনা হয়ে যেত!” কিন্তু কমলার চোখে-মুখে তখন লেগে রয়েছে তীব্র অস্বস্তি আর এক চাপা ভয়ের ছাপ।

আরও পড়ুনঃ ‘জানি আমার সঙ্গে এসব হওয়ার সম্ভাবনা একশো শতাংশ, তাই যেখানেই যাই সঙ্গে আমার…’ ডিরেক্টরদের কুনজর থেকে বাঁচতে কোন উপায়ে বেছে নিয়েছেন অভিনেত্রী বিয়াস ধর?

গরম চাটুর ছ্যাঁকা থেকে বেঁচে গেলেও মনের ভেতরের ভয় কিছুতেই কাটিয়ে উঠতে পারছেন না কমলা। বীণাকে নিজের মনের কথা খুলে বলে কমলা জানান, “পল্লবীর ঘটনার পর থেকে এই ভয়টা আমাকে ছাড়ছে না…”। কমলার মনের এই দুর্বলতা এবং অতীতকে আঁকড়ে ধরে রাখার কষ্ট বুঝতে পারে বীণা। সে কমলাকে সাহস জুগিয়ে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে বলে, “এসব ভাববেন না মা, অতীতকে পিছনে ফেলুন। ঝিনুকের জন্য সব ঠিক হয়ে যাবে।” এখন দেখার, ঝিনুকের এই বিয়ে কি কমলার জীবনের সমস্ত কালো মেঘ আর ভয় কাটিয়ে নতুন আলো নিয়ে আসতে পারবে? জানতে হলে চোখ রাখতে হবে ধারাবাহিকের আগামী পর্বগুলোতে।

Back to top button