‘রাজি না হলে পেটে ভাত জুটত না!’ ‘শাসক দলের গোলামি নয়, শিল্পীর পরিচয় হোক শুধু শিল্পেই!’ ইন্ডাস্ট্রির নোংরা রাজনীতির বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন শর্বরী মুখোপাধ্যায়!

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মুক্তি পেল নতুন বাংলা চলচ্চিত্র ‘পিঞ্জর’-এর প্রথম অফিসিয়াল টিজার। এই বিশেষ ছবির টিজার লঞ্চের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে টলিপাড়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চাপ নিয়ে বিস্ফোরক ও খোলামেলা বক্তব্য রাখলেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি প্রার্থী শর্বরী মুখার্জি (Sarbori Mukherjee)। অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত গান “এই আকাশে আমার মুক্তি আলোয় আলোয়”-এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আজ এই গানটি স্টুডিও পাড়ার জন্য ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। কারণ, দীর্ঘদিনের এক দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে টলিউডের শিল্পী ও কলাকুশলীরা অবশেষে মুক্তির আলো দেখতে পেয়েছেন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে অতীতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শর্বরী মুখার্জি অভিযোগ করেন যে, বিগত ১৫ বছর ধরে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে এক চরম ভীতি ও থ্রেট কালচার বা হুমকির রাজনীতি চলেছে। সাধারণ আর্টিস্ট এবং টেকনিশিয়ান ভাইয়েরা কেউ স্বস্তিতে দুটো কথা বলতে পারতেন না, বুক ফুলিয়ে মাথা তুলে বাঁচতে পারতেন না। ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে চলা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মনে মনে চরম ক্ষোভ থাকলেও, পেটের ভাতের দায়ে এবং কাজ হারানোর ভয়ে কেউ মুখ ফুটে একটা কথাও বলতে সাহস পাননি।
শাসক দলের দিকে সরাসরি আঙুল তুলে অভিনেত্রী জানান, অতীতে আমাদের টেকনিশিয়ান ভাইদের ওপর এক চরম রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হতো। তাঁদের যদি কখনো শাসক দল তৃণমূলের মিছিলে যাওয়ার ইচ্ছে না হতো বা কোনো কারণে তাঁরা যদি যেতে না পারতেন, তবে তাঁদের ওপর সরাসরি হুমকি আসত। তাঁদের নিজেদের কাজের কার্ড নিয়ে সরাসরি ইউনিয়ন অফিসে এসে দেখা করার নির্দেশ দেওয়া হতো। এই ধরণের থ্রেট কালচার দিনের পর দিন চলেছে। শর্বরী মুখার্জি প্রশ্ন তোলেন, একটি সুস্থ গণতন্ত্রে একজন মানুষ নিজের স্বাধীন ইচ্ছে অনুযায়ী যেকোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করতেই পারেন, তবে কেন এখানে কাজ পাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট দল করতেই হবে? যদি কেউ তৃণমূল না করেন, তবে কি তাঁর পেটে ভাত থাকবে না, তাঁর কাজ থাকবে না এই নোংরা কালচারই এতদিন ধরে চলেছে।
কাজের জায়গায় সুস্থ পরিবেশের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে এই নোংরা পরিস্থিতি থেকে গোটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের পাশাপাশি চলচ্চিত্র জগতকেও মুক্ত করার। তিনি চান যে, আগামী দিনে কোনো আর্টিস্ট বা টেকনিশিয়ান যখন স্টুডিও কিংবা থিয়েটারের আঙিনায় পা রাখবেন, তখন যেন তাঁদের একমাত্র পরিচয় হয় যে তাঁরা একজন শিল্পী। কাজের জায়গায় তাঁদের মেধা ও যোগ্যতাই শেষ কথা বলবে। তাঁরা কে কোন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করেন বা কার অনুগামী, সেটা যেন আর কখনো খতিয়ে দেখা না হয়। স্পট বয়, মেকআপ আর্টিস্ট, মেকআপ ভ্যানের কর্মী থেকে শুরু করে লাইটম্যান, পরিচালক বা প্রযোজক সবাই যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন।
আরও পড়ুন: ‘কোথায় আর যাবে, দেখা তো হবেই…’ ‘সবে তো গ্রেপ্তার হওয়া শুরু হয়েছে!’ পাত্তা নেই দেবের, কোথায় রয়েছেন অভিনেতা? স্বরূপের পর দেব? কিসের ইঙ্গিত দিলেন পাপিয়া অধিকারী?
নিজের বক্তব্যের শেষ অংশে ইন্ডাস্ট্রির নারী কর্মীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে এক মারাত্মক অভিযোগ সামনে আনেন শর্বরী মুখার্জি। তিনি জানান, অতীতে এমন অনেক হেয়ার ড্রেসার বোন ও নারী কলাকুশলীরা ছিলেন যাঁরা অন্য কোথাও বলার জায়গা না পেয়ে আলাদা করে তাঁর কাছে এসে গোপনে চোখের জল ফেলতেন। তাঁরা বলতেন যে, ইন্ডাস্ট্রির কিছু মানুষের আচরণ ও ব্যবহার এতটাই খারাপ যে তাঁদের কাজ করার কোনো পরিবেশই ছিল না। শর্বরীর কথায়, শ্লীলতাহানি বা হেনস্থা তো শুধু শরীরে হয় না, তা মানুষের আচরণে এবং মনেও আঘাত করে। সেই সময়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটানো এই কর্মীরা আজ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ইন্ডাস্ট্রির এই ভয়ের পরিবেশ এবং কালো মেঘ কেটে যাওয়ায় তিনি মনে-প্রাণে অত্যন্ত আনন্দিত ও আশাবাদী।

