‘মা কালীই আমাকে বাঁচিয়েছেন, যদি সেদিন কিছু হয়ে যেতো…’, ‘অন্যায় করলে প্রকৃত শাস্তি হোক, কিন্তু…’ রুপোলী পর্দার পেছনে নিজের জীবনের এক অদ্ভুত গল্প শোনালেন রূপা গাঙ্গুলী!

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এক বিশেষ উদযাপনে টলিপাড়ায় মুক্তি পেল আগামী বাংলা সিনেমা ‘পিঞ্জর’-এর অফিশিয়াল টিজার। এই বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন সিনেমার নামী তারকারা ও কলাকুশলীরা। তবে এই সবের মাঝে অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী তথা বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব রূপা গাঙ্গুলী (Roopa Ganguly)। টিজার লঞ্চের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সিনেমাটি নিয়ে যেমন তিনি নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন, তেমনই সমসাময়িক সামাজিক পরিস্থিতি এবং টলিউডের অন্দরের নানা বিষয় নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে একেবারে খোলামেলা ও স্পষ্ট বক্তব্য রাখলেন তিনি।
এই সিনেমাটি তৈরির পেছনের গল্পটি যে অত্যন্ত অনন্য ও অনুপ্রেরণাদায়ক, তা রূপা গাঙ্গুলীর কথাতেই পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, সিনেমাটির পেছনের ভাবনাটি ভীষণ আকর্ষণীয়। একজন পেশাদার ডাক্তার বাবু এই চলচ্চিত্রটি তৈরির জন্য অর্থায়ন বা ফান্ডিং করেছেন এবং সবথেকে আনন্দের বিষয় হলো, তাঁর এই উদ্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁরই চিকিৎসাধীন রোগীরা। রূপা গাঙ্গুলী জানান, সিনেমাটি রিলিজ করা নিয়ে ওই ডাক্তার বাবু প্রথমে কিছুটা আশঙ্কায় ছিলেন। তাঁর মতে, সিনেমার গল্প ও কন্টেন্টের মধ্যে নিশ্চয়ই এমন কোনো গভীর সামাজিক সত্য বা বিষয় লুকিয়ে আছে, যার কারণে তিনি ভয় পাচ্ছিলেন।
টিজার লঞ্চের এই মঞ্চ থেকেই সমাজকে এক বড় বার্তা দেন অভিনেত্রী। রূপা গাঙ্গুলী অত্যন্ত সহজ ভাষায় স্পষ্ট করে বলেন যে, বর্তমান সমাজকে সত্যি সত্যি ভয়মুক্ত হতে হবে। ভয়মুক্ত হওয়ার আসল অর্থ বুঝিয়ে তিনি বলেন, এর মানে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা নয়, বরং সম্পূর্ণ শৃঙ্খলা মেনে সুন্দর ও শান্তভাবে নিজের বক্তব্য ও মতামতকে প্রকাশ করা। সামাজিক ভদ্রতা ও সভ্যতা বজায় রেখে কীভাবে নিজের কথা বলা যায়, ‘পিঞ্জর’ সিনেমাটি সমাজের বুকে তেমনই একটি সুস্থ নিদর্শন তৈরি করবে বলে তিনি প্রবল আশা প্রকাশ করেন। এর পাশাপাশি সুদীপ্তা বা রাজ চক্রবর্তীর স্ত্রী-সহ ইন্ডাস্ট্রির সবার সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের কথাও তিনি মনে করিয়ে দেন এবং বলেন যে কে কোন ভিডিও ভাইরালের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে সেটা তাদের বিষয়, তবে তিনি মানুষকে সবসময় মানুষ হিসেবেই দেখেন এবং কারোর মধ্যে রাজনীতির রং খুঁজতে পছন্দ করেন না।
নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এক সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। তিনি ঈশ্বরের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন যে, মা কালী যেন তাঁকে হাত বাড়িয়ে এক চরম বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। যদি সেই বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে যেত, তবে তিনি নিজের কাছে নিজে কোনো জবাব খুঁজে পেতেন না এবং ভীষণ কষ্টের সম্মুখীন হতেন। এই প্রসঙ্গে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যের সূত্র টেনে রূপা গাঙ্গুলী জানান, মুখ্যমন্ত্রী একেবারেই ঠিক কথা বলেছেন যে ঈশ্বরই তাঁকে এই যাত্রায় রক্ষা করেছেন এবং তিনি নিজে কোনো মারপ্যাঁচ বা জটিলতার মধ্যে না গিয়ে এই পরম সত্যটুকুই বিশ্বাস করেন।
আরও পড়ুনঃ শয়তান সাধু-পুলস্ত্য-কুন্তলিনীর ত্রিমুখী ষড়যন্ত্র! কুমিরের আক্রমণে জলতলে তলিয়ে গেল দিতি! ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’-র নতুন প্রোমো দেখে চোখ কপালে দর্শকদের!
ইন্ডাস্ট্রির সাম্প্রতিক কিছু বিতর্ক এবং আইনি তদন্তের প্রসঙ্গ নিয়ে রূপা গাঙ্গুলী সোজা সাপটা ভাষায় জানান যে, বহু বছর ধরে চলা কোনো অন্যায়ের ফলাফল তো একদিন বের হতোই, আর যা হয় তা মঙ্গলের জন্যই হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন যেন পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে সঠিক তদন্ত পরিচালনা করে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, কেউ রাজনৈতিকভাবে তাঁর বিরোধী হতেই পারেন, তার মানে এই নয় যে সেই ব্যক্তি জেলে গিয়ে দীর্ঘদিন সাজা পেলে তিনি মনে মনে খুশি হবেন। যিনি অন্যায় করেছেন তিনি যেন তাঁর প্রকৃত শাস্তি পান, কিন্তু কোনো অযাচিত ফাঁদে ফেলে যেন কারোর ওপর কোনো মিথ্যে মামলা চাপিয়ে দেওয়া না হয়, সে ব্যাপারেও তিনি সরব হন। একই সাথে ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখ রাহুলের সাম্প্রতিক কেসটি নিয়েও তাঁরা প্রত্যেকে যথেষ্ট চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন আছেন এবং পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন অভিনেত্রী।

