মধ্যবিত্তের আত্মসম্মানের জয়! সুপর্ণার অহংকার চূর্ণ! গরিব হলেও অশিক্ষিত নয়! যোগ্য জবাব দিল কমলা! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas)। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, পারিবারিক অশান্তি ও উত্তেজনার মাঝেই একদিন বাড়ির পুরোহিতমশাই এসে কমলাকে একটি বিশেষ পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, মন্দিরে গিয়ে ভক্তিভরে শিব-পার্বতীর পুজো দিলে সংসারের সমস্ত অমঙ্গল আর বিপদ কেটে যাবে। অন্যদিকে, পল্লবীর প্রতি নিজের ভালোবাসা আর চেপে রাখতে পারছিল না আদিত্য। সে-ও মনে মনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে যে, আর কোনো দেরি না করে এবার সে পল্লবীকে তার মনের সব কথা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেবে।
পুরোহিতমশায়ের কথামতো কমলা বাড়ির সকলকে নিয়ে মন্দিরে শিব-পার্বতীর পুজো দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। কাকতালীয়ভাবে, অন্যদিকে আদিত্যর বাড়িতেও তার বিয়ের তোড়জোড় শুরু করার উদ্দেশ্যে শিব-পার্বতীর পুজো দিয়ে শুভ সূচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে দুই পরিবারই একই সময়ে একই উদ্দেশ্যে মন্দিরের দিকে রওনা হয়।
কিন্তু মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে পল্লবী এক চরম বিপদের মুখে পড়ে। কয়েকজন গুন্ডা সেখানে তাকে একা পেয়ে চারিদিক থেকে ঘিরে ধরে এবং নোংরা কথাবার্তা বলে চরম বিরক্ত করতে থাকে। ঠিক তখনই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন এক গুন্ডা পল্লবীর ওড়না ধরে টান মারে। ওড়নাটি বাতাসে উড়ে গিয়ে ঠিক সেই মুহূর্তেই বাইক নিয়ে সেখানে হাজির হওয়া আদিত্যের মুখের ওপর পড়ে। নিজের চোখের সামনে পল্লবীর এই অপমান দেখে আদিত্য আর স্থির থাকতে পারেনি। সে একাই সব গুন্ডাদের আচ্ছা করে ধোলাই দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়।
তবে বিপদ থেকে উদ্ধার করলেও আদিত্যকে উল্টে ভুল বোঝে পল্লবী। সে মনে করে, আদিত্য হয়তো নিজেই তার চোখে হিরো সাজার জন্য এবং বাহবা কুড়ানোর উদ্দেশ্যে এই পুরো ঘটনাটি সাজিয়েছে। এই ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে পল্লবী আদিত্যকে অনেক আজেবাজে ও কঠোর কথা শুনিয়ে দেয়। অবশ্য এই সাময়িক ভুল বোঝাবুঝি ও বিপদ কেটে যাওয়ার পর, পল্লবী যখন শান্ত মনে মন্দিরে পুজো করছিল, তখন আদিত্য পেছন থেকে এসে পরম আদরে পল্লবীর খোঁপায় একটি সুন্দর ফুলের মালা পরিয়ে দেয়। আর দূর থেকে তাদের বন্ধুরা দাঁড়িয়ে এই মিষ্টি ও রোমান্টিক মুহূর্তটি দেখে মুচকি মুচকি হাসতে থাকে।
আরও পড়ুনঃ ভালো মানুষের ভাগ্যেই কেন বারংবার বিপর্যয়? টগরকে ভালোবেসেও ঠকে গেল মল্লার! ‘পরিণীতা’র সবচেয়ে গোছানো ও পরিণত চরিত্র মল্লারকে নিয়ে আবেগে ভাসছেন দর্শকরা!
এই ঘটনার পরের দিন, কমলা এবং পল্লবী একটি বিশেষ প্রয়োজনে সাগরদের বাড়িতে সুপর্ণার সাথে কথা বলতে যায়। সুপর্ণা তার অহংকার ও আভিজাত্যের গরমে কমলাদের ছোট করার এবং অপমান করার আপ্রাণ চেষ্টা করে। কিন্তু কমলা দমে না গিয়ে অত্যন্ত ভদ্র অথচ দৃঢ় ভাষায় সুপর্ণাকে বুঝিয়ে দেয় যে, তারা গরিব হতে পারে কিন্তু অশিক্ষিত নয়। একই সাথে সে মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের আসল পরিচয় তার মনে, আর মনের দিক থেকে তারা সুপর্ণাদের মতো অন্তত সংকীর্ণ বা ছোট নয়।

