‘যারা ঝামেলা বাঁধাচ্ছেন তারা টেকনিশিয়ান নন, ইচ্ছে করে…’ ‘যোগ্যতার ভিত্তিতেই কাজ পাবেন সকলে…’ মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ানরা! স্টুডিওপাড়ার বিশৃঙ্খলা রুখতে এগিয়ে এলেন রুদ্রনীল ঘোষ!

সম্প্রতি টলিপাড়ার (Tollywood) স্টুডিও চত্বরে ঘটে যাওয়া ডিম ছোঁড়া এবং ই’ট বৃষ্টির মতো অনভিপ্রেত ঘটনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে। এই প্রসঙ্গে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, এই ধরণের বিশৃঙ্খলা টলিউডের সংস্কৃতির পরিপন্থী। তবে এর পেছনে ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের কোনো মানুষের হাত নেই। রুদ্রনীল স্পষ্ট করে বলেন, সোমনাথ কুণ্ডুর মতো প্রবীণ মেকআপ শিল্পী বা অন্যান্য সিনিয়র টেকনিশিয়ানরা কাউকেই চিনতে পারেননি। আসলে কিছু বহিরাগত লোক, যাদের সাথে টালিগঞ্জের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির দূর-দূরান্তের কোনো সম্পর্ক নেই, তারাই এসে এই ধরণের ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করেছে। সাধারণ টেকনিশিয়ানরা শুধুমাত্র তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে এসেছিলেন।

টলিপাড়ার প্রায় ৮০০০ টেকনিশিয়ান পরিবারের মনে কাজ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরণের বিভ্রান্তি ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এই জটিলতা কাটাতে ইন্ডাস্ট্রির নিয়মাবলী সংস্কারের অনুরোধ জানিয়ে টেকনিশিয়ানরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের কাছে একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। রুদ্রনীল ঘোষ সরকারের বার্তাবাহক হিসেবে জানান, মুখ্যমন্ত্রী চান রাজ্যের অন্যান্য দপ্তরগুলোর মতোই সাংস্কৃতিক জগতও অত্যন্ত সুন্দর ও স্বাধীনভাবে চলুক। টলিউডের হারানো গৌরব ও গরিমা ফিরিয়ে আনাই এখন বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক এবং টেকনিশিয়ানদের মধ্যে যাতে একটি সুস্থ সমন্বয় ও সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে, তার জন্য খুব শীঘ্রই সরকারিভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিগত সরকারের আমলে টলিপাড়ায় যে একনায়কতন্ত্র এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, তার তীব্র সমালোচনা করেন রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, বর্তমান সরকার কোনোভাবেই কোনো রকম ‘ব্যান কালচার’ বা কাউকে কাজ থেকে বয়কট করার নীতিকে সমর্থন করে না। অতীতে যেভাবে টেকনিশিয়ান বা শিল্পীদের জোর করে একটা নির্দিষ্ট যাঁতাকলের মধ্যে আটকে রাখা হতো, সেই দিন শেষ হতে চলেছে। নতুন শাসনব্যবস্থায় প্রত্যেকে নিজের যোগ্যতা এবং দক্ষতার ভিত্তিতে কাজ করার সমান সুযোগ পাবেন। ব্যক্তিগত মতাদর্শের অমিল বা মতান্তর থাকতেই পারে, কিন্তু তা যেন কোনোভাবেই সৃজনশীল কাজের পথে বা কারও রুটিরুজিতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার।

গত কয়েকদিন ধরে স্টুডিওপাড়ায় গুঞ্জন চলছিল যে বর্তমান ফেডারেশন ভেঙে নতুন ‘কনফেডারেশন’ তৈরি হতে চলেছে এবং নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে চিহ্নিত করে টলিপাড়া থেকে বাদ দেওয়া হবে। এই বিষয়ে রুদ্রনীল সরাসরি জানান যে, এই ধরনের কোনো বিষয় বা প্রস্তাবনার কথা তাঁর জানা নেই। তিনি মনে করিয়ে দেন, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, হিরণ চট্টোপাধ্যায় কিংবা তাঁর নিজের মতো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত মতামত থাকতেই পারে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র জায়গা হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর। কোনো জল্পনায় কান না দিয়ে অফিশিয়াল নোটিফিকেশন আসা পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। কোনো আকস্মিক পরিবর্তন নয়, যা-ই হবে তা নিয়ম মেনে এবং অফিশিয়ালি নোটিশের মাধ্যমেই জানানো হবে।

আরও পড়ুনঃ প্রিয় বন্ধু সায়কের মুখে হাসি ফোটালেন দেবলীনা নন্দী! বন্ধুকে হাসাতে কি করলেন গায়িকা? সমাজ মাধ্যমে সেই মিষ্টি মুহূর্ত ভাগ করে নিলেন সায়ক!

ইন্ডাস্ট্রিতে সুষ্ঠুভাবে শুটিং প্রক্রিয়া চালানোর জন্য বেশ কিছু নিয়মের পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন টেকনিশিয়ানরা। রুদ্রনীল জানান, অনেক সময়ই দেখা যায় নির্দিষ্ট শিফটের কাজকে অনাবশ্যক দীর্ঘায়িত করে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। এই সমস্ত প্রযুক্তিগত ও পরিকাঠামো গত সমস্যার কথা লিখিত আকারে জমা পড়েছে। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের দায়িত্বশীল আধিকারিকরা এই আবেদন খতিয়ে দেখছেন। অভিনেতা অত্যন্ত আশাবাদী যে, মুখ্যমন্ত্রী খুব দ্রুত এমন একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত এবং সঠিক নিয়মনীতি ঘোষণা করবেন, যার ফলে ভয়ের পরিবেশ দূর হবে এবং রূপোলী পর্দার পেছনের ও সামনের সমস্ত কর্মীরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পারবেন।

Back to top button