সম্পত্তি হাতে আসতেই রূপ বদল দাদার! মিঠির মুখের দিকে চেয়ে সাগরের সম্পত্তি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল পল্লবী! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas)। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, সুপর্ণা আসার পর থেকেই মিঠির আচরণে এক অদ্ভুত পরিবর্তন লক্ষ্য করে আদিত্য। এই রহস্যের মাঝেই মিঠির সূত্র ধরে ফোনে কথা শুরু হয় আদিত্য এবং পল্লবীর। দুজনের মধ্যে এক অদ্ভুত ভালোলাগা তৈরি হলেও, তারা কেউই এখনো একে অপরের আসল পরিচয় বা চেহারা সম্পর্কে কিছুই জানে না। আগামী পর্বে দেখা যাবে, পল্লবীর সাথে দেখা করার জন্য আদিত্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ঠিক শেষ মুহূর্তে এসে একটুর জন্য তাদের দেখা হওয়া মিস হয়ে যায়। ঠিক তখনই পল্লবীর ভাইয়ের সাথে আচমকা ধাক্কা লেগে আদিত্যের সামনে তাদের একটি পারিবারিক ছবি পড়ে যায়। তবে এত কাছাকাছি এসেও আদিত্য শেষ পর্যন্ত সেই ছবিটা দেখতে পায় না।

ওদিকে সুপর্ণা কোনো তাড়া না দেখালেও সানি মনে মনে তারা সাগরের উইলের খাম খোলার জন্য একেবারে ছটফট করছে। আসলে সানি এবং তার মায়ের আসল নজর হলো সাগরের গোটা সম্পত্তির ওপরে। কিন্তু পরলোকগত সাগর উইল খোলার পেছনে এমন এক অদ্ভুত শর্ত রেখে গেছেন যা সবার হিসাব নিকাশ উল্টে দেয়। উইলে পরিষ্কার লেখা ছিল যে, পল্লবী সামনে উপস্থিত থাকলে তবেই এই উইল খোলা যাবে, অন্যথায় নয়। সাগরের এই খামখেয়ালি শর্তে বাড়ির সকলেই ভীষণ বিরক্ত হয়। সুপর্ণার পাশাপাশি সানির রাগ গিয়ে পড়ে সাগরের ওপর। কিন্তু সম্পত্তির লোভে বাধ্য হয়ে সুপর্ণা শেষমেশ পল্লবীকে ফোন করে এবং তাকে সাগরের বাড়িতে আসার জন্য অনুরোধ করে।

Zee Bangla Kamala Nibas today episode 3 June

সুপর্ণার ফোন পেয়ে পল্লবী পুরোপুরি অবাক হয়ে যায়। সে বাড়ির সবাইকে এই কথা জানালে পরিবারের সকলেই বেশ ভয় পেয়ে যান। কারণ আগের দিন যেভাবে সুপর্ণারা এসে তাদের অপমান করে গিয়েছিল, তাতে সুপর্ণাদের স্বভাবচরিত্র নিয়ে বাড়ির কারও মনেই কোনো ভালো ধারণা ছিল না। এই পরিস্থিতিতে একা একা পল্লবীকে ওই বাড়িতে পাঠাতে সবাই আশঙ্কাবোধ করতে থাকে। তাই পল্লবীর নিরাপত্তার কথা ভেবে তার বড় দাদাও পল্লবীর সাথে সাগরের বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা মতোই পল্লবী যখন সাগরের বাড়িতে পৌঁছায়, ঠিক তখনই সেখানে উকিলবাবু এসে হাজির হন সাগরের সেই বহু প্রতীক্ষিত উইল পড়ে শোনানোর জন্য।

উকিলবাবু সবার সামনে উইলটি পড়া শুরু করতেই বাড়ির সকলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায়। উইলে পরিষ্কার ভাষায় লেখা ছিল যে, সাগরের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির একমাত্র আইনসম্মত মালিক হলো পল্লবী। শুধু তাই নয়, সাগরের হয়ে যেকোনো জায়গায় সই করার সমস্ত আইনি অধিকারও একমাত্র পল্লবীকেই দেওয়া হয়েছে। সাগরের এই অভাবনীয় ও অবিশ্বাস্য সিদ্ধান্তের কথা শুনে পল্লবী নিজে যেমন স্তব্ধ ও অবাক হয়ে যায়, তেমনই বড়সড় ধাক্কা খায় সুপর্ণা ও সানি। তাদের সমস্ত চক্রান্ত ও সম্পত্তির লোভ এক নিমেষে ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ ‘তেল মারার দিন শেষ!’ ‘আর চলবে না দাদাগিরি!’ টলিউডে এল বড় নিয়ম! বদলে যাচ্ছে সিনেমা পাড়ার পুরো রূপরেখা! নতুন নিয়মগুলি স্পষ্ট জানালেন পাপিয়া অধিকারী!

সাগরের বাড়ি থেকে ফিরে পল্লবীর দাদা বাড়ির সবাইকে আনন্দের সাথে জানায় যে, এখন থেকে সাগরের সমস্ত সম্পত্তির মালিক পল্লবী। এর ফলে তাদের বাবা-মায়ের সাধের বাড়ি ‘কমলা নিবাস’ তৈরি করার স্বপ্ন এবার পল্লবী একাই পূরণ করতে পারবে। কিন্তু তখনই পল্লবীদের বাড়িতে আশ্রিত রাজু যাকে বাড়ির সবাই নিজেদের ছেলের মতোই ভালোবাসে সে প্রতিবাদ করে ওঠে। রাজু স্পষ্ট জানায় যে, পল্লবী কখনোই সাগরের এই সম্পত্তি বা টাকা নিজের স্বার্থে গ্রহণ করবে না। এই কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে পল্লবীর দাদা রাজুকে চরম অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এই পারিবারিক অশান্তির মাঝেই পুরোহিতমশাই কমলাকে পরামর্শ দেন যে, মন্দিরে শিব-পার্বতীর পুজো দিলে সমস্ত বিপদ কেটে যাবে। আর অন্যদিকে, আদিত্যও আর দেরি না করে পল্লবীকে তার মনের সব কথা জানিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।

Back to top button