‘তেল মারার দিন শেষ!’ ‘আর চলবে না দাদাগিরি!’ টলিউডে এল বড় নিয়ম! বদলে যাচ্ছে সিনেমা পাড়ার পুরো রূপরেখা! নতুন নিয়মগুলি স্পষ্ট জানালেন পাপিয়া অধিকারী!

টলিগঞ্জ সিনেমা পাড়ায় এবার এক মস্ত বড় পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। এতদিন ধরে টলিউডে যে সিন্ডিকেট রাজ, ক্ষমতার দাপট আর কথায় কথায় কাজ বন্ধ বা শিল্পীদের বয়কট করার চল ছিল এবার তা পুরোপুরি বন্ধ হতে চলেছে। পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সিনেমা পাড়ায় আর কোনো দলবাজি বা ভোট ব্যাংকের রাজনীতি চলবে না। কোনো নেতার পায়ে তেল দিয়ে নয়, একজন শিল্পী বা টেকনিশিয়ান কাজ পাবেন শুধুমাত্র তার নিজের যোগ্যতার জোরে। বাংলা সিনেমার (Bengali Cinema) পুরনো দিনের ভালো সময়টা ফিরিয়ে আনাই এখন এই নতুন উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

বিগত বহু বছর ধরে টালিগঞ্জের ভেতরে যে অন্যায় আর শোষণ চলেছে, তা নিয়ে এই প্রথম প্রকাশ্য সভায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হলো। অভিযোগ উঠেছে, অনেক গুণী পরিচালক বা অভিনেতা আন্তর্জাতিক স্তরে পুরস্কার পেয়েও কলকাতায় কোনো সম্মান পাননি, কেবল কোনো বড় নেতার দলে নাম না লেখানোর জন্য। অথচ সিনেমা নিয়ে কোনো ধারণাই নেই, এমন অনেকে বড় বড় চলচ্চিত্র উৎসবের প্রধান আসন আলো করে বসে থেকেছেন। কাজ না পেয়ে, দিনের পর দিন অপমান সহ্য করতে করতে বহু শিল্পী ও কলাকুশলী মানসিক অবসাদে ভুগেছেন, এমনকি কেউ কেউ চরম পথ বেছে নিতেও বাধ্য হয়েছেন। এই অন্ধকার সময়টাকেই এবার চিরতরে বদলে ফেলার ডাক দেওয়া হয়েছে।

এই সব সমস্যার সমাধান করতে এবার টলিউডের সমস্ত কর্মীদের একটি নতুন কেন্দ্রীয় ছাতার তলায় নিয়ে আসা হচ্ছে। নতুন এই সংগঠনের নাম EIMPCC। আগে যেখানে ২৬টি আলাদা আলাদা ছোট-বড় ইউনিয়ন বা ‘গেট’ ছিল, যার কারণে প্রযোজক ও পরিচালকদের নানারকম হেনস্থার মুখে পড়তে হতো, সেই ঝামেলা এবার শেষ হচ্ছে। পুরো ব্যবস্থাকে সহজ করে মাত্র ৪টি মূল ভাগে ভাগ করা হচ্ছে ক্যামেরা, ডিরেকশন, প্রোডাকশন এবং আর্ট ও কস্টিউম। প্রতিটি ভাগে কাজের তদারকি করার জন্য দুজন করে অভিজ্ঞ ও পুরনো মানুষকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

টলিউডের এই নতুন নিয়মে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন সেইসব গরিব ও সাধারণ টেকনিশিয়ানরা, যারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ না পেয়ে ঘরে বসে আছেন। নতুন সংগঠনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বঞ্চিত ও শোষিত কর্মীরা যেন অবিলম্বে এসে তাদের নাম নথিভুক্ত করান। এর জন্য সপ্তাহে তিনদিন নির্দিষ্ট সময়ে ফর্ম জমা নেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, যারা এই সংগঠনের সদস্য হবেন, তাদের এবং তাদের পুরো পরিবারের চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব বা মেডিকেল সাপোর্ট দেবে এই নতুন সংস্থা। ফলে কাজ পাওয়ার পাশাপাশি শিল্পীদের ঘরের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।

আরও পড়ুনঃ ঝুলিতে ৫০টিরও বেশি সিনেমা! তবলাতেও ছিল দারুণ দখল! তবুও পাননি প্রাপ্য সম্মান! প্রচারের আলোয় আসার আগেই বিদায় নিয়েছেন মনু মুখোপাধ্যায়! রইলো অভিনেতার জীবনের কিছু অজানা কাহিনী!

সবশেষে, কাজের পরিবেশেও আনা হচ্ছে মস্ত বড় সমতা। মুম্বই বা সাউথের বড় বড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যেভাবে ঘড়ি ধরে নির্দিষ্ট নিয়মে কাজ হয়, এবার থেকে বাংলা সিনেমাতেও সেই নিয়ম কড়াকড়িভাবে মানা হবে। বাইরের বড় বড় প্রযোজক বা কোম্পানি যাতে কলকাতায় এসে সিনেমা তৈরি করতে পারে, তার জন্য বিশেষ ছাড় বা সাবসিডির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। সিনেমা মহলের একাংশ মনে করছেন, গত ১৫ বছরের পুরনো নোংরা অভ্যাস বা দলবাজি হয়তো এক রাতে বদলে ফেলা যাবে না, এর জন্য কিছুটা সময় লাগবে। তবে টলিউডে সুস্থ ও স্বাধীনভাবে কাজ করার এই নতুন সুযোগ আসায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন সিনেমা পাড়ার সাধারণ মানুষ।

Back to top button