‘অহংকার মাথায় চড়লে মানুষের বুদ্ধিটাই আগে নষ্ট হয়!’ পাশে শিলাজিৎ! কাকে উদ্দেশ্য করে এমন কথা বলেলন অপরাজিতা আঢ্য?

বিনোদন জগতে সাফল্য ও ব্যর্থতা হাত ধরাধরি করে চলে। আজ যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে, কালই হয়তো সে তলানিতে। এই চরম অনিশ্চয়তার মাঝে একজন শিল্পী কীভাবে নিজেকে মাটির কাছাকাছি রাখেন, সেই নিয়ে সম্প্রতি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন টলিউডের দুই জনপ্রিয় তারকা শিলাজিৎ মজুমদার (Shilajit Majumder) ও অপরাজিতা আঢ্য (Aparajita Auddy)। পরিচালক সমর্পণের নতুন ছবি ‘প্রত্যাবর্তন’-এর প্রচারণায় এসে অহংকার, ক্যারিয়ারের ইনসিকিউরিটি এবং জীবনকে দেখার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এক মনখোলা আড্ডায় মাতলেন তাঁরা।
গ্ল্যামার জগতের চাকচিক্যের পেছনে লুকিয়ে থাকা এক চরম সত্যকে তুলে ধরলেন অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। তিনি সাফ জানান, জীবনের যেকোনো পর্যায়ে ‘অহংকার’ জিনিসটাকে তিনি সবচেয়ে বেশি ভয় পান। তাঁর মতে, একজন মানুষ যতই জ্ঞানী বা বুদ্ধিমান হোন না কেন, অহংকার একবার মাথায় চড়ে বসলে তা মানুষের সঠিক বিচারবুদ্ধি লোপ করে দেয়। আর এই অহংকারের বশবর্তী হয়ে মানুষ এমন কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, যা তাকে পরবর্তীতে আবার শূন্যে নামিয়ে আনতে বাধ্য করে। সেই পতনের ধাক্কা সামলানো অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
অহংকারের এই চোরাবালি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে অপরাজিতা বেছে নিয়েছেন এক অত্যন্ত সহজ-সরল জীবনযাত্রা। তিনি জানান, তারকা সুলভ কোনো জাঁকজমক নয়, বরং আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো মধ্যবিত্ত মানসিকতা নিয়েই চলেন তিনি। এই জীবনযাত্রার কারণেই ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন, হারিয়ে যাওয়ার ভয় বা ব্যাংকের ব্যালেন্স কমে যাওয়ার মতো জাগতিক দুশ্চিন্তা তাঁকে কখনো গ্রাস করতে পারে না। তিনি খুব স্পষ্ট করেই বলেন, জীবনে সাধারণ চাওয়া-পাওয়া আর কাছের মানুষদের ভালো রাখার চিন্তার বাইরে বাড়তি কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা তিনি রাখেন না।
অন্যদিকে, গায়ক ও অভিনেতা শিলাজিৎ মজুমদার শিল্পী জীবনের এক অন্য বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো সাফল্য বা ব্যর্থতাই চিরস্থায়ী নয়। দীর্ঘদিন ধরে কোনো নতুন মিউজিক অ্যালবাম রিলিজ না হওয়া বা হাতে কাজ না থাকার মতো কঠিন সময়েও তিনি কখনো ভেঙে পড়েননি। শিলাজিতের কথায়, যখন তিনি প্রথম ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন, তখন তাঁর হারানোর কিছু ছিল না। আজ এত বছর পরেও তিনি মানসিকভাবে এতটাই শক্তিশালী যে, যদি পরিস্থিতি কখনো ডিমান্ড করে, তবে তিনি আবার হাসিমুখে একদম শূন্য থেকে নতুন করে লড়াই শুরু করার সাহস রাখেন।
আরও পড়ুনঃ ‘তোমাকে আবার দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে রয়েছি আমি…’ লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপে “মীরা”? তন্বী লাহা রায়ের পোস্টে চমকে গেলেন অনুরাগীরা!
এই আড্ডার আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিল টলিউডের কিংবদন্তি পরিচালক ও অভিনেতা অঞ্জন দত্তের সাথে শিলাজিতের কাজের অভিজ্ঞতা। ‘ম্যাডলি বাঙালি’ ছবির শুটিংয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শিলাজিৎ জানান, অঞ্জন দত্তের কাজের ধরণ ভীষণ সাবলীল ও স্বতঃস্ফূর্ত। অনেক সময় দেখা যেত শুটিংয়ের ঠিক আগের দিন হঠাৎ ডাক পড়েছে। সেটে যাওয়ার পর অঞ্জন দত্ত নিজের স্ক্রিপ্টকে খুব সাধারণ বলে শিলাজিৎকে নিজের মতো করে অভিনয় করার এবং সংলাপ বলার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিতেন। একজন বড় মাপের পরিচালকের কাছ থেকে পাওয়া এই স্বাধীনতাই একজন শিল্পীকে নিজের সেরাটা দিতে সাহায্য করে বলে মনে করেন শিলাজিৎ।

