মৃ’ত্যুমুখ থেকে মিঠিকে বাঁচাল আদিত্য! এবারে কি মিঠির হাত ধরেই সামনাসামনি হবে আদিত্য-পল্লবী! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas)। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, ভালোবাসায় গভীর আঘাত পেয়ে রণজয়ের মনের অবস্থা তখন একেবারে শোচনীয়। বেদনায় সে এতটাই ভেঙে পড়েছিল যে কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ, সেই বিচার করার ক্ষমতাটুকুও সে হারিয়ে ফেলেছিল। মনের গভীর ক্ষত আর তীব্র একাকীত্ব তাকে এক অন্ধকার পথের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল। আবেগ আর অভিমানে অন্ধ হয়ে রণ নিজের জীবন প্রদীপ চিরতরে নিভিয়ে দেওয়ার মতো এক ভয়ানক ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছিল। কিন্তু সে হয়তো ভুলে গিয়েছিল, তার এই জীবনটা শুধু তার একার নয়, এর সাথে আরও অনেকের আবেগ জড়িয়ে আছে।
ওদিকে মিঠির জীবনেও নেমে এসেছিল অন্ধকারের কালো ছায়া। প্রতিনিয়ত তার ওপর অমানবিক অত্যাচার চলেই যাচ্ছিল, যা দিন দিন তার সহ্যশক্তির বাইরে চলে যায়। এদিকে পল্লবীদের বাড়িতে ঝিনুক আর সম্রাটের জন্য পুজো ও এলাহী খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু এইসব আনন্দের মাঝেও পল্লবীর মায়ের মন কেঁদে উঠছিল। আসলে পল্লবী ভালো করেই জানত যে মিঠিকে ওবাড়িতে ঠিকমতো খেতেও দেওয়া হয় না। বাড়িতে বসে পল্লবী প্রতিনিয়ত মিঠির এই দুর্দশার কথা চিন্তা করে চোখের জল ফেলছিল এবং এক অজানা আশঙ্কায় তার বুক কাঁপছিল।
অবশেষে, একদিন আর এই অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মিঠি এক চরম সিদ্ধান্ত নেয়। সে সবার চোখের আড়ালে, অত্যন্ত গোপনে সেই বন্দিশালা রূপী বাড়ি থেকে পালিয়ে বেরিয়ে আসে। তার মনের মধ্যে তখন একটাই আশা যে করেই হোক পল্লবীর কাছে গিয়ে আশ্রয় নেওয়া, যেখানে সে একটু শান্তি পাবে। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে, মুক্ত বাতাসে পা রাখতেই রাস্তায় ঘটে গেল এক চরম বিপত্তি। মিঠি কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ একটা চলন্ত গাড়ি তার একদম সামনে চলে আসে।
ঠিক যে মুহূর্তে মিঠি রাস্তায় বিপদের মুখে পড়েছিল, ঠিক একই সময়ে এক অলৌকিক টানে পল্লবীর মনটাও কুডাক দিয়ে ওঠে। কোনো এক অজানা ভয়ে তার বুক কেঁপে ওঠে, যেন কোনো এক বড় বিপদের পূর্বাভাস সে দূর থেকেই টের পেয়ে যায়। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও মনের টানে পল্লবী বুঝতে পারে যে কোথাও একটা খুব খারাপ কিছু ঘটে গেছে, যা তার চেনা মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার পিসিওডি রয়েছে, বিয়ের সময়ে…’ ‘এখন ঠিক আছি কারণ…’ ‘আমার ছাত্র-ছাত্রীদেরও আমি এভাবেই…’ যোগাসনের মাঝেই রেওয়াজ! কণ্ঠকে আরও শক্তিশালী করতে অভিনব পদ্ধতিতে গান শেখাচ্ছেন ইমন চক্রবর্তী!
মিঠি যখন রাস্তার মাঝে চলন্ত গাড়ির সামনে এসে পড়েছিল, ঠিক তখনই দেবদূতের মতো সেখানে এসে হাজির হয় আদিত্য। সে নিজের জীবন বাজি রেখে মিঠিকে এক নিশ্চিত দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচিয়ে নেয়। মারাত্মক আতঙ্কিত মিঠি তখন শুধু পল্লবীর কাছে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। কিন্তু আদিত্যর কাছে পল্লবীর পরিচয় এখনো সম্পূর্ণ অজানা। তবুও মিঠির এই অবস্থা দেখে সে মিঠির কথামতো পল্লবীকে ফোন করে। এখন দেখার অপেক্ষা, এই একটি ফোন কল সবার জীবনকে কোন নতুন মোড়ে নিয়ে দাঁড় করায়।

