বিচ্ছেদের মুহূর্তে চরম মোড়! পারুল রায়ানের আসন্ন সন্তানকে নিয়ে বিরাট সিদ্ধান্ত দাদুর! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, পারুলের কাছাকাছি আসতেই রায়ানের মনের ভেতর এক অদ্ভুত অনুভূতি জেগে ওঠে। সে সমস্ত মান-অভিমান ভুলে হঠাৎ করেই পারুলের গালে একটা আলতো চুমু খেয়ে বসে, যা পারুলকে স্তব্ধ করে দেয়। ঠিক তখনই বাইরে শুরু হয় তুমুল ঝড়-বৃষ্টি। আর এই থমথমে আবহাওয়ার মাঝেই কাজ করে যায় দাদা মৈনাক ও বৌদি ত্বরিতার সেই গোপন পরিকল্পনা। রায়ান আর পারুল দুজনেই অজান্তে নেশা মেশানো দুধ খেয়ে নেয়। চুমুর রেশ আর পানীয়ের ঘোর সব মিলিয়ে বাইরের ঝড়-বৃষ্টির রাতে দুজনে নিজেদের সমস্ত ক্ষোভ ও দূরত্ব ভুলে গিয়ে একে অপরের গভীর ভালোবাসার মধ্যে সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়।

কিন্তু আসল বিপত্তি ঘটে পরের দিন সকালে। ঘুমের ঘোর কাটতেই যখন দুজনে নিজেদের একসাথে আবিষ্কার করে, তখন তারা আর পরিস্থিতি সামলাতে পারে না। রাতের সব ভালোবাসা যেন সকালের আলোয় আবার পারিবারিক ইগো আর অপমানে বদলে যায়। দুজনেই চরম লজ্জিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে একে অপরকে দোষ দিতে শুরু করে। পারুল রেগে গিয়ে বলে সে এই অন্যায়ের জন্য পুলিশের কাছে অভিযোগ করবে, অন্যদিকে রায়ানও পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলে সেও পারুলকে সহজে ছেড়ে দেবে না। ফলে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন মিটে যাওয়ার বদলে এক নতুন ও জটিল মোড় নেয়।

Bengali serial

কিছুক্ষণ পরেই রায়ান ও পারুল বুঝতে পারে যে, রাতের এই ঘটনার পেছনে আসলে মৈনাক আর ত্বরিতার হাত ছিল। রাগে অন্ধ হয়ে রায়ান মৈনাককে মারতে যায় এবং পারুলও ত্বরিতাকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। তবে গল্পের এই জায়গায় মনে হয়েছে, মৈনাক আর ত্বরিতা বড্ড সহজে পার পেয়ে গেল। এত বড় একটা অন্যায়ের পর তাদের আরও কঠিন শাস্তি পাওয়া উচিত ছিল এবং রায়ান-পারুলের আরও কড়া অবস্থান দেখানো দরকার ছিল। এরপরই গল্পটা একঝটকায় ৩০ দিন এগিয়ে যায়।

তিরিশ দিন পর পারুল নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। ঠিক এই জায়গাতেই পারুলের চরিত্রটি সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে। সে রায়ানের পেছনে ছুটে যায়নি বা নিজের দুর্বলতা দেখায়নি। বরং ভীষণ শান্তভাবে রায়ানকে উদ্দেশ্য করে বলে “সবার জীবনেই একটা এক্সপায়ার ডেট থাকে। আমাদের পরিণতিরও এক্সপায়ার ডেট আজ। তোর সাথে আমার ফ্রেন্ডশিপটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।” পারুলের মুখে এই পরিণত কথাগুলো মন ছুঁয়ে যায়। অন্যদিকে রায়ানও ভেতরে ভেতরে প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছিল, কিন্তু নিজের অহংকারের কারণে মুখ ফুটে মনের কথা বলতে পারছিল না।

আরও পড়ুন: হঠাৎ করেই দুর্ঘটনা! অ’ত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাড়ি থেকে পালালো মিঠি! পথে কার পাল্লায় পড়লো এই এক রত্তি মেয়ে?

একদিকে বাবা হওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে এত দ্রুত সব ঘটে যাওয়ায় তার অবিশ্বাস সব মিলিয়ে রায়ান দিশেহারা হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত মৈনাক নিজের দোষ স্বীকার করলেও দাদুর হস্তক্ষেপে সে রায়ানের মার থেকে বেঁচে যায়। এখন দেখার বিষয়, মৈনাক নিজের ভুলের কী শাস্তি পায় এবং এই নতুন অতিথি পারুল-রায়ানের ভাঙা সম্পর্ককে জোড়া লাগাতে পারে কি না।

Back to top button