হঠাৎ করেই দুর্ঘটনা! অ’ত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাড়ি থেকে পালালো মিঠি! পথে কার পাল্লায় পড়লো এই এক রত্তি মেয়ে?

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas )। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, বিশাল এবং বিলাসবহুল সেই শোরুমে পা রাখতেই কমলার চোখ কপালে উঠল। চারিদিকে চোখধাঁধানো সব শাড়ি, আর সেগুলোর আকাশছোঁয়া দাম দেখে তিনি রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের চেনা গণ্ডির বাইরে এমন বিপুল খরচ দেখে ঝিনুকের পরিবারের সবার মনেই একটা তীব্র অস্বস্তি আর সংকোচ দানা বাঁধতে শুরু করে। তবে তাদের মুখের সেই মলিনতা এবং মনের ভেতরের দ্বিধা সম্রাটের তীক্ষ্ণ নজর এড়ায়নি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে সম্রাটের এক মুহূর্তও সময় লাগেনি। সে অত্যন্ত অমায়িক ও শান্তভাবে কমলাকে আশ্বস্ত করে জানায় যে, টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের বিন্দুমাত্র চিন্তা করার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, এই বিয়ের সমস্ত খরচের দায়িত্ব সম্রাট সম্পূর্ণ নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। সে ঝিনুকের পরিবারকে পরম আদরে অনুরোধ করে, তারা যেন কোনো রকম দ্বিধাবোধ বা সংকোচ না রেখে, একেবারে মন খুলে নিজেদের পছন্দমতো কেনাকাটা সম্পন্ন করেন।

শোরুমের কেনাকাটা পর্ব শেষ করে সবাই যখন বাড়ি ফিরে এল, তখন তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল আরও এক বিরাট চমক। ঘরে পা রাখতেই সকলের চোখ আটকে গেল সোফায় সাজিয়ে রাখা উপহারের বাক্সগুলোর দিকে। সবাই অবাক হয়ে দেখল, গয়নার দোকানে গিয়ে ঝিনুক নিজের মনের মতো যে যে গয়নাগুলো পছন্দ করেছিল, তার প্রত্যেকটি জিনিস ইতিমধ্যেই সেই ঘরে হাজির করা হয়েছে! সম্রাট যে গোপনে সবার অলক্ষ্যে ঝিনুকের পছন্দের সমস্ত গয়না কিনে সরাসরি বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে, সেটা বুঝতে আর কারও বাকি রইল না। ঝিনুকের প্রতি সম্রাটের এমন গভীর ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং নিখাদ উদারতা দেখে বাড়ির প্রত্যেকে বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন। সম্রাটের এই উপহার শুধু গয়না ছিল না, তা ছিল ঝিনুকের প্রতি তার অপরিসীম যত্নের এক জীবন্ত প্রমাণ।

Bengali serial

অন্যদিকে, ভালোবাসায় চরম আঘাত পেয়ে রণজয়ের মনের অবস্থা তখন শোচনীয়। বেদনায় সে এতটাই ভেঙে পড়েছিল যে নিজের ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতাটুকুও হারিয়ে ফেলেছিল। মনের গভীর ক্ষত আর তীব্র একাগ্রতা তাকে এক অন্ধকার গলির দিকে ঠেলে দিচ্ছিল, যেখানে সে নিজের জীবন প্রদীপ চিরতরে নিভিয়ে দেওয়ার মতো এক ভয়ানক ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছিল। কিন্তু আবেগ আর অভিমানে অন্ধ হয়ে রণ হয়তো একটা বড় সত্য ভুলে গিয়েছিল তার এই জীবনটা তো শুধু তার একার নয়। তার মামনি আর মেসোমশাইয়ের পুরো পৃথিবীটাই যে তাকে ঘিরে আবর্তিত হয়! তাদের জীবনের সব স্বপ্ন, সব ভরসা আর বুকভরা ভালোবাসার একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু হলো তাদের এই রণজয়।

যে মানুষটার অবহেলায় রণ আজ এতটা কষ্ট পাচ্ছে, সে তো কোনোদিন রণের মনের পবিত্র অনুভূতিগুলো বুঝতেই পারেনি। উল্টো, তার জীবনে ইতিমধ্যেই অন্য একজন মানুষ পাকাপাকিভাবে জায়গা করে নিয়েছে। এমন একজন মানুষের জন্য, যে তাকে ছেড়েই চলে গেছে, নিজের অমূল্য জীবনের কথা ভুলে যাওয়াটা সত্যিই চরম দুঃখের ও আফসোসের। ভালোবাসায় মানুষ হার মানতেই পারে, বিশ্বাস ও সম্পর্কের সুতো ছিঁড়ে যেতেই পারে, এমনকি বুক ফেটে হৃদয়টাও ভেঙে খানখান হয়ে যেতে পারে কিন্তু জীবন তো এসবের চেয়ে অনেক বেশি বড়, অনেক বেশি মূল্যবান। কারণ, আমাদের এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ায় কষ্ট শুধু একজন পায় না, বরং আমাদের পেছনের মানুষগুলোর সাজানো গোছানো গোটা পৃথিবীটাই এক নিমেষে ধ্বংস হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: ‘কাজের জন্য কম বয়সেও কোলে বসিনি, এখন তো বয়স হয়েছে!’—’যোগ্য শিল্পীদের পেনড্রাইভ আবর্জনার মতো ফেলে দেওয়া হতো…’ মুখ খুললেন ১২ বছর ধরে বঞ্চিত গায়িকা ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়!

 

ওদিকে মিঠির জীবনেও নেমে এসেছে অন্ধকারের কালো ছায়া। প্রতিনিয়ত তার ওপর অমানবিক অত্যাচার চলেই যাচ্ছে, যা দিন দিন তার সহ্যশক্তির বাইরে চলে যাচ্ছিল। বাড়িতে বসে পল্লবীও মিঠির এই দুর্দশার কথা চিন্তা করে প্রতিনিয়ত চোখের জল ফেলছিল এবং এক অজানা আশঙ্কায় তার বুক কাঁপছিল। অবশেষে, একদিন আর এই অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মিঠি এক চরম সিদ্ধান্ত নেয়। সে সবার চোখের আড়ালে, অত্যন্ত গোপনে সেই বন্দিশালা রূপী বাড়ি থেকে পালিয়ে বেরিয়ে আসে। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল যে করেই হোক পল্লবীর কোলে গিয়ে আশ্রয় নেওয়া। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে, মুক্ত বাতাসে পা রাখতেই রাস্তায় ঘটে গেল এক চরম বিপত্তি। মিঠি কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ একটা চলন্ত গাড়ি তার সামনে চলে আসে। ঠিক একই সময়ে, এক অলৌকিক টানে পল্লবীর মনটাও কুডাক দিয়ে ওঠে, যেন কোনো এক বড় বিপদের পূর্বাভাস সে দূর থেকেই টের পেয়ে যায়।

Back to top button