মলে গিয়ে আচমকা বোনের দেখা পেল আদিত্য! তবে কি এবার ফাঁস হবে কমলা-শ্রীনিবাসের আসল পরিচয়? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas )। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, বিয়ের জমকালো আয়োজনের মাঝেই এক নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সম্রাট চাইছে তাদের বিয়ের যাবতীয় কেনাকাটা আলাদা আলাদা ছোট দোকান থেকে না করে, কলকাতার বড় কোনো শপিং মল বা নামী প্রতিষ্ঠান থেকে একবারে সেরে ফেলতে। সম্রাট যেহেতু অত্যন্ত উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলে, তাই তার জীবনযাত্রার মান এবং পছন্দও বেশ রাজকীয় ও বিলাসবহুল। স্বভাবতই, সম্রাটের পছন্দের সেই দামি জায়গাগুলো থেকে কেনাকাটা করা মানেই বিপুল খরচের ব্যাপার। এই বিপুল খরচের বোঝা বহন করা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধ্যের একেবারে বাইরে। আর ঠিক এই কারণেই ঝিনুকের বাবা শ্রীনিবাস বাবুর কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ পড়েছে এত বিশাল খরচের সামাল তিনি কীভাবে দেবেন, সেই চিন্তাই এখন তাকে দিনরাত ব্যাকুল করে তুলছে।
তবে এত দুশ্চিন্তার পরেও, শেষ পর্যন্ত কমলা এবং শ্রীনিবাস বাবু সম্রাটের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। সম্রাট অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে বারবার অনুরোধ করায় তারা তার কথা আর ফেলতে পারেননি। ওদিকে ঝিনুক যখন কলেজে ছিল, তখন সম্রাট তাকে ফোন করে জানায় যে কেনাকাটার জন্য তাকে নিতে একটি গাড়ি আসবে। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঝিনুকের পুরো পরিবার একসঙ্গে কলকাতার সেই বড় নামী দোকানে বিয়ের কেনাকাটি করতে যায়। সেখানে গিয়ে প্রথমেই শুরু হয় কনের জন্য বিয়ের বেনারসি ও অন্যান্য দামি শাড়ির কেনাকাটা।

বিশাল সেই শোরুমে ঢুকে শাড়ির আকাশছোঁয়া দাম দেখে শ্রীনিবাস বাবু ও কমলার চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। তাদের এই অস্বস্তি ও সংকোচ সম্রাটের নজর এড়ায়নি। সে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তৎক্ষণাৎ কমলাকে আশ্বস্ত করে এবং জানায় যে টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের বিন্দুমাত্র চিন্তা করার কোনো প্রয়োজন নেই। বিয়ের সমস্ত খরচের দায়িত্ব সম্রাটের নিজের। সে ঝিনুকের পরিবারকে অনুরোধ করে, তারা যেন কোনো রকম দ্বিধাবোধ বা সংকোচ না করে সম্পূর্ণ মন খুলে নিজেদের পছন্দমতো কেনাকাটা সম্পন্ন করেন।
এদিকে এই আনন্দের আবহের আড়ালে অন্য এক জায়গায় চরম উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ির মেয়ে মিঠিকে বেশ কিছুক্ষণ ধরে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। আসলে সানির মা চক্রান্ত করে মিঠিকে একটা অন্ধকার স্টোর রুমে আটকে রেখেছিল। সারা বাড়ি খুঁজেও যখন মিঠির কোনো সন্ধান মিলছিল না, তখন তার পিসি চিন্তায় একেবারে অস্থির হয়ে ওঠেন। চারিদিকে খোঁজাখুঁজির পর, অবশেষে সেই বন্ধ স্টোর রুমের দরজা খুলে অজ্ঞান ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মিঠিকে। এই ঘটনায় বাড়ির সকলের মনেই তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন: আংটি চুরির অভিযোগে পরিচারিকাকে মারধর! বিতর্কে সম্রাট মুখোপাধ্যায়! ‘ওটা আমার খুব মূল্যবান আংটি ছিল…’ পাল্টা ‘চক্রান্ত’-এর দাবি অভিনেতার!
অন্য এক মোড়ে, গল্পে আবারো মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে পল্লবী এবং আদিত্য। পল্লবীরা যেখানে কেনাকাটা করতে গিয়েছিল, আদিত্যও ঠিক সময়ে তার পিছু পিছু সেখানে পৌঁছে যায়। কিন্তু সেই মলে আচমকা এক বড় বিপত্তি ঘটে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে অফিসের লিফ্টটি হঠাৎ নষ্ট হয়ে যায় এবং আদিত্য ও পল্লবী দুজনে একসাথে লিফটের ভেতরে আটকে পড়ে। বাইরের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে এই অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তাদের সম্পর্কের সমীকরণে কী নতুন পরিবর্তন আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আদিত্য যদিও পল্লবীর ভয় কাটাতে পরিস্থিতি সামলানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে। এর কিছুক্ষণ পর, সেই মলেই আদিত্যর সঙ্গে দেখা হয় তার নিজের বোনের। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, আদিত্যর বোন যে আসলে কমলা এবং শ্রীনিবাস বাবুরই ছেলের বউ, সেই সত্যটি আদিত্য এখনো পুরোপুরি জানে না।

