‘কিচ্ছু ভুলিনি, কে কখন পাল্টি খাচ্ছেন সব বুঝছি!’ ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর চুপ করে থাকাই টলিউডের সর্বনাশ করেছে!’ সাক্ষাৎকারে একের পর এক পর্দা ফাঁস করলেন রুদ্রনীল ঘোষ!

ভোট মিটতেই টলিউডের ভেতরে আবার নতুন করে রাজনৈতিক জলঘোলা শুরু হয়েছে। টলিপাড়ার (Tollywood) ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে ভেতরে ভেতরে লড়াই তো লেগেই থাকে। তবে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সেই পুরনো বিতর্ককে আবার নতুন করে উস্কে দিলেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। তাঁর এক সময়ের সহকর্মী ও বন্ধু পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক অবস্থান এবং টলিউডের বর্তমান হালচাল নিয়ে রুদ্রনীল যা যা বললেন, তা এখন টলিপাড়া থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে।
এই সাক্ষাৎকারে রুদ্রনীল সরাসরি নিশানা করেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কে। অতীতে পরমব্রত যেভাবে রুদ্রনীলের রাজনৈতিক দলবদল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, রুদ্রনীল এবার তার পাল্টা জবাব দিলেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যখন দলবদল করার কারণে তাঁর কাজ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং অভাবের চোটে গাড়ি-বাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছিল, তখন এই তথাকথিত বন্ধুরা কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। উল্টে অনেকে তা নিয়ে মজা করেছিলেন। পরমব্রতের সাম্প্রতিক ‘পাল্টি’ খাওয়ার দিকে ইশারা করে রুদ্রনীল সাফ বলেন, এখন কে কোন দিকে যাচ্ছেন বা বাঁচবার জন্য কী সাফাই দিচ্ছেন, তা সবাই বুঝতে পারছে। সাধারণ মানুষ বা তাঁর দল কেউই কিন্তু পুরোনো দিনের কথা ভুলে যায়নি।
টলিপাড়ার ভেতরের সিন্ডিকেট রাজ বা দাদাগিরি নিয়েও মুখ খুলেছেন রুদ্রনীল। আরজি কর কান্ডের পর টলিউডের টেকনিশিয়ান ও পরিচালকদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গে তিনি স্বরূপ বিশ্বাসের নাম নেন। রুদ্রনীল মনে করিয়ে দেন, এই স্বরূপ বিশ্বাসদের অত্যাচারের বিরুদ্ধেই কিন্তু একসময় পরমব্রত নিজে অন্য পরিচালকদের সাথে নিয়ে আদালতে মামলা করেছিলেন। ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও প্রযোজকদের যেভাবে দিনের পর দিন মাথা নিচু করে চলতে বাধ্য করা হতো, তারই প্রতিবাদ হয়েছিল তখন। তবে সম্প্রতি একটি সরকারি বৈঠকে পরমব্রতের উপস্থিতি নিয়ে রুদ্রনীল বলেন, সরকারের ডাকা মিটিংয়ে কে আসবেন বা কে কোথায় বসবেন, তা ঠিক করার ক্ষমতা কারও থাকে না।
টলিউড তথা বাংলার সংস্কৃতি জগতের এই খারাপ অবস্থার জন্য রুদ্রনীল সরাসরি দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর অভিযোগ, টলিউড থেকে শুরু করে যাত্রা, থিয়েটার বা গানের জগতের যে আজ এই সর্বনাশ হয়েছে, তার একমাত্র কারণ হলো মুখ্যমন্ত্রীর চুপ করে থাকা। টলিপাড়ায় কী চরম নোংরামি চলছে, তা জেনেও মুখ্যমন্ত্রী কোনো ব্যবস্থা নেননি। নবান্নের রাজনীতিকে কটাক্ষ করে রুদ্রনীল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে বসে যেভাবে গোটা বিষয়টার ‘চিত্রনাট্য’ বা স্ক্রিপ্ট সাজান, সেই বুদ্ধি দিয়ে সিনেমা লিখলে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক ভালো ভালো গল্পের সিনেমা তৈরি হয়ে যেত।
আরও পড়ুন: বিরাট সুখবর! রোশনি ভট্টাচার্যর জীবনে নতুন ইনিংস! মা হতে চলেছেন তিনি! বেবিবাম্পে চুমু খেয়ে তারই জানান দিলেন অভিনেত্রীর স্বামী!
সাক্ষাৎকারের একদম শেষে ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন রুদ্রনীল। তিনি দাবি করেন, বিজেপি কোনোদিন হিংসার রাজনীতি পছন্দ করে না। তাঁর অভিযোগ, ভোটের ফল বেরোতেই একদল মানুষ নিজেদের পিঠ বাঁচাতে রাতারাতি মাথায় গেরুয়া পট্টি বেঁধে অশান্তি করার চেষ্টা করেছিল, যাতে বদনামটা বিজেপির ঘাড়ে চাপানো যায়। কিন্তু সাধারণ মানুষ এখন খুব চালাক, তাঁরা মোবাইল ফোনে ভিডিও তুলে আসল সত্যিটা সামনে এনেছেন এবং সংবাদমাধ্যমও তা দেখিয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে, টলিপাড়ার তারকাদের এই ঘনঘন রঙ বদল আগামী দিনে ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

