‘তোমাদের সামনেই তো শরীরে হাত দিল…’ ‘টেবিল দিয়ে আমাকে জোর করে চেপে দেওয়া হয়েছিল!’ ‘সুগার ফল করে গেছে, বুকে প্রচন্ড ব্যথা!’- ইম্পা দফতরে হেনস্থার শিকার! কান্নায় ভেঙে পড়লেন পিয়া সেনগুপ্ত!

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের রেশ এবার এসে পড়ল টলিউডের ঐতিহ্যবাহী সিনেমা সংগঠন ‘ইম্পা’ (Eastern India Motion Picture Association)-র অন্দরে। গত ২২ মে শুক্রবার সংগঠনের সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ইম্পা দফতর। সংগঠনের নির্বাচিত সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত (Piya Sengupta) এবং একদল বিক্ষোভকারী প্রযোজক-পরিবেশকদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ, হাতাহাতি এবং চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো হয়ে ওঠে যে সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত বৈঠক চলাকালীন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই টানাপড়েনের পর শেষমেশ রাতে দু’পক্ষই বৌবাজার থানার দ্বারস্থ হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সংগঠনের সাধারণ সভায় সভাপতি পদ থেকে পিয়া সেনগুপ্তের ইস্তফার দাবিকে কেন্দ্র করে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই বিরোধী পক্ষের একঝাঁক প্রযোজক, যাঁদের মধ্যে রতন সাহা, শতদীপ সাহা ও মিলন ভৌমিক অন্যতম, বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপ এবং একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ তুলে সরব হন। তাঁদের দাবি, বর্তমান নেতৃত্ব টলিউডকে রাজনৈতিক আখড়ায় পরিণত করেছে এবং টলিউড চলচ্চিত্র শিল্পকে ‘কোমা’য় পাঠিয়ে দিয়েছে। এদিনের বৈঠকে আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিরোধী শিবিরের সদস্যরা পিয়া সেনগুপ্তকে লক্ষ্য করে ‘চোর হটাও ইম্পা বাঁচাও’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।
পাল্টা অভিযোগে সুর চড়িয়েছেন বিদায়ী সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত এবং তাঁর অনুগামীরা। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পিয়া দেবী ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, বৈঠক চলাকালীন পরিচালক অতনু বোস ও প্রযোজক রতন সাহা সহ বেশ কয়েকজন তাঁর দিকে তেড়ে আসেন এবং তাঁর সঙ্গে চরম অভব্য আচরণ করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, টেবিল দিয়ে তাঁকে জোর করে চেপে আটকে রাখা হয়েছিল এবং তাঁর বয়স বিবেচনা না করেই একটি রেজল্যুশন পেপারে সই করানোর জন্য মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। এই নজিরবিহীন হেনস্থার জেরে পিয়া সেনগুপ্তের সুগার লেভেল আচমকা ফল করে এবং রক্তচাপ মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
একই সাথে এদিনের ঘটনায় সংগঠনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আইনি নথিপত্র সম্বলিত ফাইল ‘ছিনতাই’ হওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও বর্তমান কমিটির সদস্যদের দাবি, সাধারণ সম্পাদক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে অফিশিয়াল এবং কোর্টের অর্ডার সংক্রান্ত ফাইল নিয়ে যখন এক সদস্য বের হচ্ছিলেন, তখন গেটের মুখে তাঁর ওপর চড়াও হয় বিরোধী পক্ষ। রতন সাহা, গৌতম দাস, শতদীপ সাহাদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ফাইল কেড়ে নেওয়ার এবং বাধা দেওয়ায় ওই সদস্যকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে তিনি চোখ ও বুকে আঘাত পান। যদিও বিরোধী শিবিরের দাবি, ফাইল চুরির চেষ্টা ঠেকাতেই তারা নথিপত্র আটকেছিল।
আরও পড়ুনঃ ‘৪৮ ঘণ্টায় এত তাড়াতাড়ি রং বদলানোর মানে হয় না’, ‘নিজেদের শিরদাঁড়া ভেঙে ফেললে মানুষ চিনবে কী করে?’ পরমব্রতের টুইট বিতর্ক টেনে টলিউডকে তুলোধোনা লকেট চট্টোপাধ্যায়ের!
এই চরম নাটুকে পরিস্থিতির পর বিরোধী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, অধিকাংশ সদস্যের সমর্থনে পিয়া সেনগুপ্তকে পদ থেকে অপসারিত করে প্রবীণ প্রযোজক রতন সাহাকে নতুন সভাপতি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ ‘বেআইনি’ ও ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন পিয়া সেনগুপ্ত। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, হাই কোর্টের অধীনে ২০২৫ সালে নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তিনি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন, তাই গায়ের জোরে বা গুন্ডামি করে তাঁকে সরানো যায় না। গভীর রাতে বৌবাজার থানায় দু’পক্ষের তরফেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পিয়া দেবী জানিয়েছেন যে এই বেআইনি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে পূর্ণাঙ্গ আইনি লড়াই লড়বেন।

