মৃ’ত্যুর মুখোমুখি পারুল! শিরিনের বন্দুকেই কি শেষ হবে সব? নাকি জিতবে রায়ানের ভালোবাসা? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, রায়ানের মানসিক শক্তির ওপর ভর করে পারুলের পাশে এসে দাঁড়ায় গোটা পরিবার। বিপদের এই দিনে প্রত্যেকে নিজের সাধ্যমতো টাকা দিয়ে পারুলকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। তবে সবাইকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেন স্বয়ং রায়ানের মা। যিনি পারুলকে কোনোদিন নিজের ছেলের বউ হিসেবে মেনে নিতে পারেননি, তিনিও সব অতীত তিক্ততা ভুলে পারুলের এই ঘোর বিপদে নিজের গয়না বিলিয়ে দিতে দ্বিধা করলেন না। মায়ের এই অপ্রত্যাশিত ও মহান ত্যাগ পুরো পরিস্থিতিকে এক আবেগঘন রূপ দেয়।
অবশেষে সব বাধা পেরিয়ে পারুলের এই কঠিন লড়াইয়ে তার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠে তার নিজের পরিবার। একদিকে রায়ানের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, আর অন্যদিকে পুরো পরিবারের এই অভূতপূর্ব আর্থিক ও মানসিক সহযোগিতা পারুলকে আবার নতুন করে অপরাজেয় করে তোলে। পরিবারের এই একতার শক্তির সামনে শিরিনের সমস্ত কুৎসিত ষড়যন্ত্র এবার খড়কুটোর মতো ভেসে যেতে বাধ্য হয়; পারুলের কোনো ক্ষতি করার ক্ষমতাই আর শিরিনের অবশিষ্ট থাকে না।

টাকা জোগাড় করার পর পারুল এক বুদ্ধিদীপ্ত পরিকল্পনা করে। পরিবারের সকলে মিলে ছদ্মবেশে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শিরিনের কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে যায় এবং সব চাল কিনে নেয়। শিরিন ও সংযুক্তা ভেবে বসে যে তাদের সমস্ত চাল বাজারে বিক্রি হয়ে গেছে এবং পারুলেরা লোকসানে পড়েছে। এই ভুল ধারণা নিয়ে নিজেদের মোটা অঙ্কের লাভ দেখে তারা যখন আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে ওঠে, তখন পারুল যে আড়ালে অন্য ফাঁদ পাতছে, তা তারা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি।
পরের দিনই শিরিনের কোম্পানির বাকি লোকেরা তাকে জেরা করতে শুরু করে। তারা আসল সত্যটা জেনে যায় যে, সাধারণ মানুষ নয়, বরং বাজার থেকে তাদের সমস্ত চাল কেউ একবারে তুলে নিয়েছে। একই সময়ে খবর আসে, বাজারে পারুলের চাল হুহু করে বিক্রি হচ্ছে এবং সবাই তা লুফে নিচ্ছে। নিজের চাল বিক্রির আনন্দ নিমেষেই বিষাদে পরিণত হয় এবং এই সত্য জানতে পেরে শিরিনের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে।
আরও পড়ুন: ‘সবথেকে বড় ক্ষতিটা হলো আমার…’ ‘দেড় মাস হয়ে গেল হাতে কোনও কাজ নেই, বাড়িতে বসে আছি’, কাজের অভাবে দুশ্চিন্তায় অভিনেতা! প্রযোজনা সংস্থার উপর ক্ষোভ উগরে দিলেন সুদীপ মুখোপাধ্যায়!
ক্রোধে অন্ধ হয়ে শিরিন সরাসরি পারুলের মুখোমুখি হয়। সে পারুলকে হুমকি দিয়ে বলে যে আজই পারুলের শেষ দিন এবং পরের দিন খবরের কাগজে তার মৃত্যুর খবর বেরোবে। এই কথা বলেই শিরিন বন্দুক বার করে পারুলের দিকে তাক করে দাঁড়ায়। ঠিক তখনই পারুলকে নিজের জীবন দিয়ে রক্ষা করতে এবং শিরিনের পাপের ঘড়া পূর্ণ করতে সেখানে বীরের মতো হাজির হয় রায়ান।

