চারিদিকে আলোর রোশনাই! তবু কেন কমলার মনে কালো মেঘ? কিসের ইঙ্গিতে ভয় পাচ্ছে সে? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas )। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, ঝিনুক আর তার পরিবারের সবার সাথে সম্রাট যেভাবে অতিরিক্ত ভদ্রতা, যত্ন আর দায়িত্ব দেখাচ্ছে, সেটা দেখতে ওপর ওপর খুব ভালো লাগলেও মনে একটা বড় খটকা তৈরি করে। বাস্তব জীবনে দেখা যায়, যারা বাইরে থেকে একদম নিখুঁত বা “পারফেক্ট” সেজে থাকে, তাদের ভেতরেই অনেক সময় সবচেয়ে বড় রহস্য বা খারাপ উদ্দেশ্য লুকিয়ে থাকে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, কমলার পরিবারের কেউ একবারও সম্রাটের অতীত বা পরিচয় নিয়ে ভালো করে জানতে চাইছে না। এত বড় একটা এনগেজমেন্টের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যেকোনো পরিবার একটু সময় নেয়, খোঁজখবর করে। কিন্তু এখানে সবাই সম্রাটের বাইরের ভালো ব্যবহার দেখেই অন্ধের মতো বিশ্বাস করে বসে আছে, আর এটাই সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার।
যদি কোনোদিন সম্রাটের এই ভালো মানুষের মুখোশ খুলে যায় এবং তার আসল রূপ সামনে আসে, তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা কিন্তু ঝিনুকই পাবে। যে মেয়ে আজ চোখ বন্ধ করে সম্রাটকে বিশ্বাস করছে, সেই বিশ্বাসটাই যদি একদিন ভেঙে যায়, তবে তার কষ্টের শেষ থাকবে না। অন্যদিকে, নিজের বাড়িতে ফিরে এসেও পল্লবীর মন একটুও শান্ত হচ্ছে না। সে অনবরত মিঠির নিরাপত্তা আর তার চিন্তাতেই ডুবে আছে। ঝিনুকের এই নতুন জীবনে পা রাখার আনন্দ আড়ালে আরও কত মানুষের মনে যে অশান্তি তৈরি করছে, তা বলা মুশকিল।
এই পুরো পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে রণজয়। যাকে সে নিজের মনের কথা এত করে বোঝাতে চাইল, সেই ঝিনুকই আজ তাকে ভুল বুঝে অন্য একজনের সাথে নতুন জীবন শুরু করতে চলেছে। ঝিনুক নিজের এনগেজমেন্ট নিয়ে ভীষণ খুশি হলেও, রণ কেন আসছে না বা কেন তাকে এড়িয়ে চলছে এই নিয়ে তার মনেও একটু চিন্তা রয়েছে। ওদিকে রণ নিজেকে ঘরের মধ্যে বন্দি করে রেখেছে। সে কারও সাথে কথা বলছে না, ঘর থেকে বেরোচ্ছে না, এমনকি খাওয়া-দাওয়াও ছেড়ে দিয়েছে। ঝিনুককে সে এতটাই ভালোবাসে যে, কোনোভাবেই তার কথা মন থেকে মুছে ফেলতে পারছে না।
এদিকে বাড়িতে ঝিনুক এবং সম্রাটের এনগেজমেন্ট বা আংটি বদলের প্রস্তুতি তুঙ্গে। বাড়িঘর সাজানো থেকে শুরু করে জিনিসপত্র গোছানো—সবকিছু নিয়ে বাড়ির প্রত্যেকে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছে। ঝিনুক নিজের বিশেষ এই দিনের জন্য তৈরি হতেই, সম্রাট তার জন্য একগাদা উপহার পাঠিয়ে দেয়। দামী গয়না, সুন্দর শাড়ি আর আরও অনেক কিছু পেয়ে ঝিনুক খুশিতে মেতে ওঠে। সে সম্রাটের পাঠানো সেই গয়না আর শাড়িতে নতুন করে সেজে ওঠে। এরপর সম্রাট বাড়িতে আসে এবং ধুমধাম করে তাদের আংটি বদল সম্পূর্ণ হয়। পুজো ও ভগবানের আশীর্বাদের মাধ্যমে তাদের এই নতুন সম্পর্ক বাঁধা পড়ে।
আরও পড়ুনঃ আবারও ফিরে এলো পুরোনো অশুভ শক্তি! মহাপ্রভুর ভরসায় বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে দিতি আর গোরা! সফল হবে তো তারা?
এত আনন্দ, উপহার আর পুজোর আচারের পরেও ঝিনুকের মায়ের মনটা কিন্তু কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না। কমলা দেবী এই গোটা বিষয়টাকে খুব সহজভাবে বা মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না। সবার মুখে হাসি থাকলেও, মায়ের মনে কোথায় যেন একটা বড় খটকা লেগেই রয়েছে। সামনের কোনো এক অজানা বিপদের আশঙ্কায় তার মন চঞ্চল হয়ে উঠেছে, অথচ ঠিক কী কারণে তার এত ভয় করছে, সেটা সে নিজেও স্পষ্ট বুঝতে পারছে না। মায়ের এই ভেতরের অস্বস্তিই হয়তো ভবিষ্যতে কোনো বড় ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

