পরিবারই এখন পারুলের ঢাল! শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াল পারুল! এবার পাশে স্বয়ং বসু পরিবার!

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, ব্যবসার বড় ইনভেস্টমেন্ট বা বিনিয়োগের গুরুভার এবং সেই সাথে গ্রামবাসীদের কষ্টার্জিত জমানো টাকা ফেরত দেওয়ার চরম দুশ্চিন্তায় পারুল ভেতরে ভেতরে একদম ভেঙে পড়ল। তার মনে হতে লাগল, এত রক্তজল করা পরিশ্রমের এই ব্যবসার ভবিষ্যৎ বুঝি এখন একটা সুতোর ওপর ঝুলছে, যা যেকোনো মুহূর্তে ছিঁড়ে গিয়ে সব শেষ হয়ে যেতে পারে। গ্রামের সেইসব সরল ও গরিব মানুষদের বিশ্বাস এবং তাদের আমানত কীভাবে সুরক্ষিতভাবে ফিরিয়ে দেবে, সেই আশঙ্কায় পারুল কোনো দিশা খুঁজে পাচ্ছিল না। চারপাশের এই ঘন অন্ধকার তাকে ক্রমশ এক গভীর গ্রাসের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল।
ঠিক এই পরিস্থিতিতে পারুলকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার জন্য এক নির্মম চাল চালল শিরিন। সে নিজের কোম্পানির চাল বাজারদরের চেয়ে অত্যন্ত কম দামে বিক্রি করতে শুরু করল, যাতে পারুলের কোম্পানির চাল কেউ না কেনে এবং পারুল এক চরম আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। শিরিনের এই কূটচালের কারণে সস্তা পেয়ে সাধারণ ক্রেতারা সবাই তার কোম্পানির চালই কিনতে ঝুঁকলো। পারুল পুরোপুরি নিরুপায় হয়ে পড়ল, কারণ বাজারের স্বাভাবিক নিয়ম মেনে এর চেয়ে কম দামে চাল বিক্রি করা তার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। শত্রুতার এই অতল সাগরে দাঁড়িয়ে সে কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছিল না।

ঠিক এই কঠিন ও চরম সংকটের মুহূর্তে পারুলের জীবনে আবারও রায়ানের এন্ট্রি হলো। পারুলকে ভাঙা অবস্থায় দেখে সে তাকে নতুন করে সাহস জুগিয়ে বলল, “তুই যতবার হেরেছিস, ততবারই আবার উঠে দাঁড়িয়েছিস…এবারও তুই পারবি।” রায়ানের মুখ থেকে বের হওয়া এই একটিমাত্র গভীর বিশ্বাসী কথাই পারুলের নিভে যাওয়া মনে আবার নতুন করে বেঁচে থাকার ও লড়াই করার শক্তি ফিরিয়ে দিল। এই বিশেষ মুহূর্তটায় স্পষ্ট হয়ে উঠল যে, রায়ান আর আগের মতো পারুলের থেকে দূরে থাকা কোনো পর মানুষ নয় সে এখন পারুলের ভীষণ আপন একজন, যে তার সমস্ত বিপদে ঢাল হয়ে পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।
রায়ানের এই মানসিক সমর্থনের পর গোটা পরিবার এক জোট হয়ে পারুলের পাশে এসে দাঁড়ায়। বিপদের দিনে প্রত্যেকে যার যার সাধ্যমতো টাকা দিয়ে পারুলকে সাহায্য করার হাত বাড়িয়ে দেয়। তবে সবাইকে সবচেয়ে বেশি অবাক করে দেন স্বয়ং রায়ানের মা। যিনি পারুলকে কোনোদিন নিজের ছেলের বউ হিসেবে মেনে নিতে পারেননি, তিনিও সমস্ত পারিবারিক ভেদাভেদ ও তিক্ততা ভুলে পারুলের এই ঘোর বিপদে নিজের গয়না বিলিয়ে দিতে দ্বিধা করলেন না। মায়ের এই অপ্রত্যাশিত ও মহৎ ত্যাগ পুরো পরিস্থিতিকে এক আবেগঘন রূপ দিল।
আরও পড়ুন: ‘অনর্গল মিথ্যা বলার সাহস আমার…’ আমি অত্যন্ত মুখচোরা ও লাজুক!’ রাজনীতি করার কোন কোন গুণ নেই অভিনেতার মধ্যে? নিজের চরিত্রের আসল দিকটি মেলে ধরলেন কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়!
অবশেষে সব বাধা পেরিয়ে পারুলের এই কঠিন লড়াইয়ে তার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠল তার নিজের পরিবার। একদিকে রায়ানের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও ভরসা, অন্যদিকে পুরো পরিবারের এই অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ও মানসিক সহযোগিতা পারুলকে আবার নতুন করে অপরাজেয় করে তুলল। পরিবারের এই দুর্ভেদ্য প্রাচীর ও একতার শক্তির সামনে শিরিনের সমস্ত কুৎসিত ষড়যন্ত্র এবার খড়কুটোর মতো ভেসে যেতে বাধ্য; কোনো ক্ষতি করার ক্ষমতাই আর শিরিনের অবশিষ্ট রইল না।

