‘সবাই পছন্দ করলে বুঝব ভুল করছি’, ‘আমাকে রিজেক্ট করা হয়েছে…’, ‘সবাইকে খুশি করা আমার কাজ নয়’, টলিপাড়ার ভিড়েও কেন নিজের বৃত্তে একলা আবীর চট্টোপাধ্যায়?

টলিউডের (Tollywood) প্রথম সারির তারকাদের মধ্যে অন্যতম এক নাম আবীর চট্টোপাধ্যায় (Abir Chatterjee)। পর্দায় তাঁর অভিনয় যতটা বৈচিত্র্যময়, পর্দার ওপারের জীবন ঠিক ততটাই প্রচারের আলো থেকে দূরে। সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের দর্শন, গসিপ থেকে দূরত্ব বজায় রাখার রহস্য এবং কাজের জগতের কিছু অন্দরমহলের কথা অত্যন্ত খোলামেলাভাবে ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা। সেখানে তিনি স্পষ্ট করেছেন, টলিপাড়ার চকমকে দুনিয়ায় থেকেও কীভাবে তিনি নিজেকে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন কক্ষপথে পরিচালনা করেন, যা আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যে কোনো তারকার ক্ষেত্রেই বেশ বিরল ও শিক্ষণীয়।
সাধারণত টলিউড বা গ্ল্যামার জগতের তারকাদের নাম জড়িয়ে হরেক রকমের গসিপ বা রটনা নিত্যদিনের বিষয়। তবে এই বৃত্তের সম্পূর্ণ বাইরে আবীর। সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে বেশ মজার ছলেই অভিনেতা জানান, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন আসলে অত্যন্ত সাধারণ এবং অনেকের চোখেই বেশ বোরিং। তিনি নিজেকে একজন অত্যন্ত ঘরকুনো মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। কাজের বাইরে নিজের একটি চেনা ও বিশ্বস্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্ত রয়েছে তাঁর, এবং সেই বৃত্তের ব্যাপারে তিনি চিরকালই ভীষণ সিলেক্টিভ বা চুজি। সবাইকে খুশি করা বা সবার সাথে ‘হ্যাঁ-তে হ্যাঁ’ মেলানো তাঁর স্বভাব নয়। আবীরের মতে, দিনশেষে গসিপ বা সস্তা প্রচার কোনো শিল্পীকে টিকিয়ে রাখে না, টিকে থাকে শুধু তাঁর ভালো কাজটাই।
পারিবারিক বন্ধন এবং নিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়েও মুখ খুলেছেন অভিনেতা। তিনি জানান, স্বভাবের দিক থেকে তিনি তাঁর মায়ের মতোই কিছুটা কম এক্সপ্রেসিভ অর্থাৎ মনের ভাব বা আবেগ খুব সহজে বাইরে প্রকাশ করতে পারেন না। অন্যদিকে, তাঁর বাবা বিখ্যাত অভিনেতা একই পেশার মানুষ হওয়ায় ছেলের সাফল্যে একজন গর্বিত বাবা হিসেবে আনন্দ পান। তবে পরিবারে বাবার এই গুরুত্ব নিয়ে আবীর, তাঁর মা এবং স্ত্রী মিলে বেশ মজা করেন এবং সুযোগ পেলেই বাবার একটু ‘পিছনে লাগেন’। এই পারিবারিক খুনসুটি ও সহজ সমীকরণই তাঁকে মাটির কাছাকাছি রাখতে সাহায্য করে বলে মনে করেন তিনি।
একজন সফল অভিনেতা হয়ে ওঠার পেছনে শুধু প্রশংসা নয়, কঠোর সমালোচনারও যে ভীষণ প্রয়োজন, তা আবীরের কথাতেই স্পষ্ট। পেশাগত জীবনে তাঁর সবচেয়ে বড় সমালোচক কোনো পেশাদার ফিল্ম ক্রিটিক নন, বরং তাঁর ১৬ বছর বয়স থেকে চেনা এক পুরনো বন্ধু, যিনি বর্তমানে মুম্বাইতে থাকেন। কাজের ব্যাপারে সেই বন্ধু বিন্দুমাত্র রেয়াত করেন না আবীরকে; অত্যন্ত কড়া এবং অকথ্য ভাষায় তাঁর অভিনয়ের খুঁত ও ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দেন। অভিনেতা মনে করেন, এই ধরনের একজন খাঁটি বন্ধু থাকা অত্যন্ত ভাগ্যের বিষয়, যাঁর সাথে কাজ বা জীবনের যে কোনো বিষয় নিয়ে একটি অত্যন্ত সুস্থ এবং গঠনমূলক তর্ক-বিতর্ক চালানো যায়, যা প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুনঃ ‘তুই আমার মুন্ডু খাবি?’ জন্মদিনের কেক দেখে চমকে গেলেন অভিনেত্রী! মেয়ের আবদারে মজার মুহূর্তে মাতলেন কনীনিকা ব্যানার্জি!
বিনোদনের আঙিনায় বা প্রশাসনিক স্তরে সমসাময়িক যে সমস্ত নীতিগত ও সামাজিক পালাবদল ঘটছে, তা নিয়েও নিজের সুচিন্তিত মতামত প্রকাশ করেছেন আবীর। তিনি সাফ জানান যে রাতারাতি অলৌকিক কোনো পরিবর্তন আশা করাটা ভুল, সবকিছুর জন্যই একটা নির্দিষ্ট সময় ও পরিকাঠামোর প্রয়োজন। তবে একজন শিল্পী হিসেবে তিনি আগামী দিনে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে আরও বেশি ইনভেস্টমেন্ট এবং কাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বা ট্রান্সপারেন্সি দেখতে চান। বিশেষ করে সিনেমা জগতে কোনো শিল্পী বা টেকনিশিয়ানের কাজ বন্ধ করা বা ব্যান করার সংস্কৃতির তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেন, কারোর কাজ পাওয়ার মূল নির্ণায়ক হওয়া উচিত একমাত্র তাঁর মেধা ও জনপ্রিয়তা। এর পাশাপাশি, সদ্য ঘটে যাওয়া বন্ধু রাহুলের রহস্যজনক ও দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুকে নিজের এক অপূরণীয় ব্যক্তিগত ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করে আবীর আশা প্রকাশ করেন যে, খুব দ্রুত পুরো ব্যবস্থার স্বচ্ছতার মাধ্যমে আসল সত্যিটা সবার সামনে আসবে।

