‘আমাকেও বাইরে বের করে দেওয়া হয়েছে!’ টলিউডে অলিখিত ‘ব্যান সংস্কৃতি’! পাপিয়া অধিকারীর পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন মুমতাজ সরকার!

টলিউড (Tollywood) তথা বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও ‘ব্যান সংস্কৃতি’ নিয়ে এবার প্রকাশ্যেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন প্রথম সারির অভিনেত্রী মুমতাজ সরকার (Mumtaz Sarkar)। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ও নবনির্বাচিত বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীকে পাশে নিয়ে টলিউডের একাংশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গেছে তাঁকে। যোগ্য শিল্পীদের কাজ না দিয়ে দিনের পর দিন বসিয়ে রাখা এবং ক্ষমতাশালীদের ‘দাদাগিরি’র কারণে কীভাবে প্রতিভারা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন, তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন জাদুকর পিসি সরকারের কন্যা।

ভিডিও বার্তায় মুমতাজ সরকার অত্যন্ত আবেগঘন এবং ক্ষুব্ধ কণ্ঠে নিজের দীর্ঘ কেরিয়ারের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, ২০০৫ সাল থেকে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে তিনি এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করেছিলেন। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ইন্ডাস্ট্রিতে কাটানোর পরেও এক চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁকে। মুমতাজের অভিযোগ, গত বেশ কিছু বছর ধরে কলকাতায় তাঁকে কোনো কাজ দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি কাজ করার মানসিকতা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও একপ্রকার জোর করেই তাঁকে ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের অলিখিত রাজনীতির দিকে আঙুল তুলে মুমতাজ মন্তব্য করেন, “আমাকেও ঝাঁপের বাইরে বের করে দেওয়া হয়েছে।” তিনি একা নন, তাঁর মতো আরও অনেক প্রতিভাবান এবং অভিজ্ঞ শিল্পীকেই কলকাতার মূল ধারার কাজ থেকে বছরের পর বছর বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিনোদন জগতের একাংশের এই একনায়কতন্ত্র এবং স্বজনপোষণের মনোভাবের কারণে অনেক যোগ্য শিল্পী আজ কাজ হারিয়ে দিশেহারা, মুমতাজের এই বিস্ফোরক বয়ান যেন সেই চাপা ক্ষোভেরই এক বহিঃপ্রকাশ।

এই প্রতিবাদের সময় মুমতাজের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্যকে পূর্ণ সমর্থন জানান বর্ষীয়ান অভিনেত্রী তথা বিজেপি নেত্রী পাপিয়া অধিকারী। সম্প্রতি টলিউডের দীর্ঘদিনের চেনা রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়ে অরূপ বিশ্বাসকে পরাজিত করার পর টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় কলাকুশলীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন পাপিয়া। সেখানেই তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন মুমতাজ ও মানেকা সরকার। টলিউডের ফেডারেশন ও স্টুডিও পাড়ার অন্দরে চলা দীর্ঘদিনের ‘দাদাগিরি’ এবং ‘ব্যান’ সংস্কৃতির অবসান ঘটানোর কড়া হুঁশিয়ারি দেন পাপিয়া। তিনি স্পষ্ট জানান, যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রত্যেকে কাজ পাবেন এবং কারও রুজি-রুটি কেড়ে নেওয়া বরদাস্ত করা হবে না।

আরও পড়ুনঃ ‘সিনেমা বিনোদনের জায়গা, রাজনীতির নয়!’ ‘আমি কোনদিনও সিনেমায় রাজনীতি ঢোকাইনি…’ কেরিয়ারের ২০ বছর, রুপোলি পর্দায় কেন কখনও রাজনীতি আনেননি দাবি দেবের!

মুমতাজের এই অভিযোগ এবং পাপিয়া অধিকারীর পাশে থাকা বর্তমান টলিউডের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর ফেডারেশন অফিসে গঙ্গাজল ছিটিয়ে প্রতীকী ‘শুদ্ধিকরণ’ করার পাশাপাশি পাপিয়া অধিকারী আশ্বাস দিয়েছেন যে, টলিউডে এবার মুক্ত হাওয়া বইবে। মুমতাজ সরকারের মতো প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীর এই প্রকাশ্য ক্ষোভ প্রকাশ প্রমাণ করে দেয় যে, টলিপাড়ার ভেতরের পরিবেশ নিয়ে সাধারণ শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যে কতটা অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল। এখন দেখার, ক্ষমতার এই পালাবদলের পর মুমতাজ সহ অন্যান্য কোণঠাসা হয়ে পড়া শিল্পীরা আবার তাঁদের যোগ্য সম্মান ও কাজ ফিরে পান কিনা।

Back to top button