‘স্টুডিও চত্বরে ঘুরে বেড়াচ্ছে অতৃপ্ত আত্মা!’ ‘বহু চোখের জলের অভিশাপ রয়েছে এখানে…!’ ‘মানুষ অপমানিত হয়ে আ’ত্মহত্যা করতে গেছে…’ গঙ্গাজল ছিটিয়ে টলিউডে পরিবর্তনের ডাক পাপিয়া অধিকারীর!

টলিউড (Tollywood) স্টুডিও চত্বরের অন্দরে জমে থাকা বছরের পর বছর ক্ষোভ, বঞ্চনা আর চোখের জলের ইতিহাস এবার প্রকাশ্যে এল এক বিস্ফোরক বার্তার মাধ্যমে। সম্প্রতি টেকনিশিয়ানস স্টুডিও চত্বরে উপস্থিত হয়ে বিশিষ্ট অভিনেত্রী তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব পাপিয়া অধিকারী (Papia Adhikari) স্টুডিও পাড়ার অরাজকতা ও সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সাধারণ শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের ওপর হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদে তাঁর এই বক্তব্য ইতিমধ্যেই বিনোদন জগত এবং রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। টলি-ইন্ডাস্ট্রির চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার দিকটি তুলে ধরে তিনি আমূল পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন।

স্টুডিও পাড়ায় পা রেখেই এক নজিরবিহীন দৃশ্য তৈরি করেন পাপিয়া অধিকারী। প্রতীকীভাবে চারদিকে গঙ্গাজল ছিটিয়ে তিনি দাবি করেন, এই চত্বরকে অপবিত্র করে রাখা হয়েছিল এবং তা স্যান্টিফাই বা পবিত্র করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি মন্তব্য করেন, দীর্ঘদিন ধরে কাজ হারিয়ে, সম্মান হারিয়ে বহু সাধারণ মানুষ এখানে চরম মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছেন। তাঁদের সেই দীর্ঘশ্বাস ও কষ্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বহু চোখের জলের অভিশাপ, বহু চোখের জলের দুঃখ স্টুডিও চত্বরে চত্বরে অতৃপ্ত আত্মা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।” এই চত্বরেই যে অগণিত মানুষের স্বপ্ন অকালে ঝরে গেছে, তাঁর এই ‘অতৃপ্ত আত্মা’র রূপক মন্তব্য তারই এক চরম প্রতিচ্ছবি।

ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে চলা এই অমানবিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার সময় অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী সরাসরি বলেন, “আমি এই গঙ্গাজল দিয়ে স্যানিটাইজ করলাম, পবিত্র করলাম। বহু চোখের জলের অভিশাপ, বহু চোখের জলের দুঃখ স্টুডিও চত্বরে চত্বরে অতৃপ্ত আত্মা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতগুলো মানুষ অপমানিত, এতগুলো মানুষ আত্মহত্যা করতে গেছে! এতগুলো মানুষ আমার হাত দুটো ধরে বলেছে ‘দিদি এবার আমরা যেন সবাই কাজ পাই’। সবাই কাজ পাবে, প্রত্যেকে কাজ পাবে, আলাদা করে সুপারস্টারের কোন তকমা এখন এই মুহূর্তে দেওয়া যাবে না। আমি এদের ‘রাক্ষস-খোক্কস ব্রাদার্স’ নাম দিয়েছি, কারণ তারা মানুষের পরিশ্রম ও পারিশ্রমিকের টাকা খায়, মানুষের মান ও রেসপেক্ট নষ্ট করে। কাল থেকে তুমি সাসপেন্ডেড, তিন মাস ব্যান, পাঁচ মাস কাজ নেই চোখের জলে এতগুলো মানুষের কান্না কি বৃথা যাবে? ওরে, একজন আছেন ঈশ্বর! রাহুলের ফাইল নিশ্চয়ই খোলা হবে, ও তো জাস্টিসই পেল না, ওর বাড়ির লোক তো কিছুই পেল না।”

ইন্ডাস্ট্রির ক্ষমতাশালীদের একাংশের স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে কত মানুষকে চরম পথ বেছে নিতে হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গও অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে উত্থাপন করেন এই প্রবীণ অভিনেত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, টালিগঞ্জের প্রভাবশালী কিছু মহলের মানসিক ও পেশাদারী অত্যাচারের কারণে বহু সাধারণ শিল্পী ও টেকনিশিয়ান দিনের পর দিন তীব্র অপমান সহ্য করেছেন। পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় রূপ নিয়েছিল যে, কাজ হারিয়ে বা সম্মানহানির গ্লানি সইতে না পেরে অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে গিয়েছিলেন। ক্ষমতার অলিন্দে থাকা কিছু মানুষ যেভাবে সাধারণ কর্মীদের কোণঠাসা করে রেখেছিল, তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন যে, এই অসহায় মানুষদের কান্না আর বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুনঃ ‘সবকিছু সস্তা কনটেন্ট নয়!’ ‘অরিজিতের মাত্র ১০-১৫% প্রতিভা…’ বিস্ফোরক গায়িকা অন্তরা মিত্র!

এই অরাজকতারই এক নির্মম উদাহরণ হিসেবে তিনি অভিনেতা রাহুলের অকালপ্রয়াণ ও তাঁর পরিবারের সুরক্ষাহীনতার প্রসঙ্গটি টেনে আনেন। পাপিয়া অধিকারী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, গাফিলতি ও সঠিক পলিসির অভাবে রাহুলকে অকালে চলে যেতে হলো, অথচ তাঁর পরিবার আজও কোনো সঠিক বিচার বা আর্থিক সাহায্য পেল না। আউটডোর শুটিং বা কাজের জায়গায় সুরক্ষার কোনো নূন্যতম পরিকাঠামো যে এখানে নেই, তা তিনি কঠোরভাবে মনে করিয়ে দেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান যে, রাহুলের এই ফাইলটি আবার নতুন করে খোলা হবে এবং তাঁর পরিবার যাতে আইনত ও মানসিকভাবে পূর্ণ জাস্টিস বা বিচার পায়, সেই ব্যবস্থা তিনি নিজেই নিশ্চিত করবেন।

Back to top button