‘সবাই যেখানে সবটা দেখায়, আমি সেখানে আড়ালেই খুশি!’ ‘তারকাদের একটু আড়ালে থাকাই ভালো,’ ইনস্টাগ্রামের যুগে কেন উল্টো পথে হাঁটছেন রাইমা সেন?

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে টলিউড থেকে বলিউড নিজের অভিনয় আর মিষ্টি রূপের জাদুতে দর্শকদের মন জয় করে রেখেছেন রাইমা সেন (Raima Sen)। মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের নাতনি এবং মুনমুন সেনের মেয়ে হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখলেও, খুব দ্রুতই তিনি নিজের একটা আলাদা পরিচয় তৈরি করে নেন। ১৯৯৯ সালে ‘গডমাদার’ ছবি দিয়ে কাজ শুরু করার পর, ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘চোখের বালি’, ‘নৌকাডুবি’ কিংবা ‘শব্দ’-এর মতো বিখ্যাত সিনেমাগুলিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে সারাজীবন থেকে যাবে। সাধারণ বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি একটু অন্যরকম সিনেমাতেও তিনি সমানভাবে সফল। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর স্পষ্ট কথা বলা, মায়াবী চোখ এবং সুন্দর সাজগোজ বারবার প্রমাণ করেছে যে, তিনি শুধু পরিবারের নাম নয়, বরং নিজের যোগ্যতায় ইন্ডাস্ট্রিতে এক অনন্য জায়গা তৈরি করেছেন।
সম্প্রতি মুক্তি পেতে চলা তাঁর নতুন ছবি ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবন নিয়ে বেশ কিছু মজার তথ্য শেয়ার করেছেন রাইমা। আজকালকার দিনে যেখানে প্রায় সব অভিনেতা-অভিনেত্রীই তাঁদের জীবনের প্রতি মুহূর্তের খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়ে দেন, সেখানে রাইমা চলছেন সম্পূর্ণ উল্টো পথে। তিনি স্পষ্ট জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে বেশি দেখাতে তিনি একদমই পছন্দ করেন না। রাইমার মতে, একজন তারকার চারপাশে যদি একটু রহস্য না থাকে, তবে পর্দায় তাঁকে দেখার আগ্রহটাই কমে যায়। দর্শক যদি আগে থেকেই জেনে যান তিনি কখন জিম করছেন বা কী খাচ্ছেন, তবে রূপোলি পর্দার সেই ম্যাজিকটা আর থাকে না। নিজের দিদিমা সুচিত্রা সেনের কথা টেনে তিনি বলেন, দিদিমা আজও মানুষের মনে রাজ করছেন কারণ তিনি নিজের জীবনকে আড়ালে রাখতে পেরেছিলেন।
অভিনয় করা নিয়ে এক দারুণ সহজ কথা শুনিয়েছেন রাইমা। কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলিতে তিনি ভাবতেন যে ক্যামেরার সামনে নিজেকে সবসময় একদম নিখুঁত বা ‘পারফেক্ট’ দেখাতে হবে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে কাজ করতে করতে রাইমা বুঝেছেন যে, পর্দার চরিত্রকে অতি-নিখুঁত করার চেয়ে তার ভেতরের সাধারণ ভুলত্রুটিগুলোকে তুলে ধরাই আসল কাজ। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষ একদম নিখুঁত চরিত্রের চেয়ে একটু খামতি থাকা সাধারণ মানুষের মতো চরিত্রকে বেশি ভালোবাসে। সেই ছোটখাটো ভুলগুলোই চরিত্রকে আরও বেশি বাস্তব এবং জ্যান্ত করে তোলে। ক্যামেরার সামনে কোনো জোর জবরদস্তি না করে একদম স্বাভাবিক থাকাই এখন রাইমার প্রধান লক্ষ্য।
এই আড্ডায় তাঁর নতুন ছবি ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’-এর শুটিংয়ের কিছু মজার অভিজ্ঞতার কথাও উঠে এসেছে, বিশেষ করে পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সাথে তাঁর কাজের গল্প। ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে রাইমা হেসে জানান, শিবুদা নাকি তাঁকে শুটিংয়ের সময় ডিরেকশন দিতে গিয়ে বারবার হেসে ফেলতেন! পরিচালক সোজা রাইমাকে বলে দিয়েছিলেন, “তোমাকে দেখলেই আমার হাসি পায়, তোমাকে আমি ডিরেক্ট করব কী করে!” এই মজার গল্প থেকেই বোঝা যায় শুটিংয়ের পরিবেশ কতটা হালকা এবং আনন্দের ছিল। আগামী ২৯শে মে মুক্তি পেতে চলা এই ছবিটি মূলত একটি খুনের রহস্য বা থ্রিলার হলেও, এর মধ্যে রয়েছে ভরপুর কমেডি ও আনন্দ, যা দর্শকদের খুব ভালো লাগবে।
আরও পড়ুনঃ মৃ’ত্যুর মুখে পারুল! স্ত্রীকে বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রাখল রায়ান! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
কাজের বাইরে রাইমার ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে তাঁর বিয়ে এবং রোজকার লাইফস্টাইল নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই। এই বিষয়েও অত্যন্ত সহজ-সরল ও আধুনিক মনের পরিচয় দিয়েছেন রাইমা। বিয়ে নিয়ে সমাজের নিয়মকানুনের চাপকে পাত্তা না দিয়ে তিনি জানান, জীবনকে খুব বেশি সিরিয়াসলি নিয়ে দুঃখী হওয়ার কোনো মানে হয় না। তিনি এমন একজন মনের মতো মানুষ চান যিনি তাঁর চিন্তাভাবনার সাথে মিলবেন এবং যাঁর সাথে হাসিখুশিভাবে জীবনটা কাটানো যাবে। একই সাথে নিজের খাদ্যরসিক রূপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ডায়েটের কথা ভুলে তিনি প্রতিদিন আলু খেতে ভালোবাসেন এবং দিনে দুবার ভাত না হলে তাঁর চলেই না! মিষ্টির চেয়ে নোনতা খাবার পছন্দ করা এই অভিনেত্রী যে বাস্তব জীবনেও কতটা সাধারণ, তা তাঁর এই অকপট কথাবার্তা থেকেই বোঝা যায়।

