একটি পদ্ম উধাও! শেষ রক্ষা হলো না, সব বাধা পেরিয়েও কুন্তলের শয়তানির মুখে দিতি-গোরা! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, গোরার দাদুর মনে এই অদ্ভুত ও রহস্যময় কাণ্ড দেখে গভীর খটকা লাগে। অভিজ্ঞ বৃদ্ধ হিসেবে তিনি বুঝতে পারেন যে এটা কোনো সাধারণ চোরের কাজ নয়। তাঁর সন্দেহ হয়, গোস্বামী বাড়ির পুরনো কোনো শত্রু, যে তন্ত্রমন্ত্র জানে, সে-ই হয়তো তাদের বড় কোনো ক্ষতি করতে আবার ফিরে এসেছে। এই মহাবিপদ থেকে পরিবারকে রক্ষা করতে এবং পুজোর পবিত্রতা ফিরিয়ে আনতে দাদু একটা উপায় বাতলে দেন।
দাদু জানান, এই অশুভ শক্তিকে রুখতে এবং অঘটন আটকাতে গেলে এখনই একটা বিশেষ ব্রত বা পুজো করতে হবে। আর সেই বিশেষ পুজোর জন্য প্রয়োজন ঠিক ১০৮টি পদ্ম ফুল। দাদুর মুখে এই কথা শোনার পর আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে, দিতি আর গোরা ফুল জোগাড় করার উদ্দেশ্যে তখনই রওনা দেয়।
পদ্ম ফুল আনার পথটা কিন্তু মোটেও সহজ ছিল না। সমস্ত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে ও নিজেদের প্রাণ বাজি রেখে দিতি আর গোরা শেষ পর্যন্ত সেই নির্দিষ্ট দিঘিতে গিয়ে পৌঁছায়। এক ভণ্ড সাধু তাদের আটকাতে নানা রকম অলৌকিক মায়াজাল ও বাধা সৃষ্টি করেছিল, কিন্তু দিতি আর গোরার অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে সে হেরে যায়। তারা একে একে ঠিক ১০৮টি পদ্ম ফুলই সংগ্রহ করে ফেলে।
ফুল নিয়ে যখন তারা বাড়ি ফেরার জন্য নিজেদের গাড়িতে এসে ওঠে, তখন তাদের রক্ত হিম হয়ে যায়। তারা দেখে, গাড়ির ভেতরে আগে থেকেই ওত পেতে বসে আছে এক অত্যন্ত বিষাক্ত সাপ। এমন চরম বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে দিতি চোখ বন্ধ করে স্মরণ করে যে, গত জন্মেও ঠিক এইরকম এক ঘটনা ঘটেছিল এবং তখন নিষ্ঠাভরে ডাকায় মা মনসা তাদের রক্ষা করেছিলেন। দিতির পরম প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে মা মনসা এবারেও তাদের রক্ষা করেন এবং দিতি মায়ের দেখাও পায়।
আরও পড়ুনঃ ধান ক্ষেতে বিধ্বংসী আগুন! ফসলের সাথে কি পু’ড়বে পারুলের স্বপ্ন? নিজের জীবন বাজি রেখে আগুনের দিকে ছুটল পারুল! কোন জাদুতে এই আগুন নেভাবে সে?
সব বাধা কাটিয়ে তারা বাড়ি ফিরে এলেও বিপদ কিন্তু পুরোপুরি কাটে না। বাড়িতে গিয়ে আবারো কুন্তল নিজের শয়তানি শুরু করে দেয়। গোস্বামী বাড়ির পুজোতে যাতে বড় কোনো বাধা পড়ে, সেই উদ্দেশ্যে সে চালাকি করে একটা পদ্ম ফুল সরিয়ে ফেলে। ১০৮টি ফুলের মধ্যে একটি ফুল কম থাকায় এখন পুজো কীভাবে সম্পূর্ণ হবে এবং আগামী পর্বে কী ঘটতে চলেছে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

