‘হয় সিন বাদ দিন, না হলে আমাকে!’ ক্যামেরার সামনে ঘনিষ্ঠতায় স্ত্রীর ‘না’! স্ত্রীর জন্য হলিউডের মেগা প্রজেক্ট ফিরিয়ে বিস্ফোরক টোটা রায়চৌধুরী!

বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম প্রতিভাবান, সুপুরুষ এবং ফিটনেস আইকন হলেন অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরী (Tota Roy Chowdhury)। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে টলিউডে কেরিয়ার শুরু করার পর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি নিজের অনবদ্য অভিনয় দক্ষতা এবং বহুমুখী চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান তৈরি করে নিয়েছেন। ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘চোখের বালি’ চলচ্চিত্রে ‘বিহারী’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকের মনে দাগ কেটে রয়েছে। কেবল টলিউডেই নয়, বলিউডে করণ জোহরের ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’ ছবিতে আলিয়া ভাটের বাবার চরিত্রে কত্থক নৃত্যশিল্পী হিসেবে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বাঙালির আবেগ ‘ফেলুদা’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের জনপ্রিয়তাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছেন। সুদীর্ঘ কেরিয়ারে সবসময়ই বিতর্কহীন, মার্জিত এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য টোটা রায়চৌধুরীকে ইন্ডাস্ট্রির একজন আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হয়।

সম্প্রতি এই জনপ্রিয় অভিনেতা নিজের পেশাদারী সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিগত জীবনের এক চমকপ্রদ তথ্য শেয়ার করে নতুন করে চর্চায় এসেছেন। জনপ্রিয় টক-শো ‘Straight Up With Shree’-এর ৯৫তম পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে টোটা তাঁর জীবনের এক বড় সিদ্ধান্তের কথা খোলসা করেন। অভিনেতা স্পষ্ট জানান, কেরিয়ারের এই মধ্যগগনে দাঁড়িয়েও তিনি পর্দায় কোনোও ধরণের ইনটিমেট বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি এই নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলছেন। গ্ল্যামার দুনিয়ার ইঁদুরদৌড়ে শামিল না হয়েও যে স্রেফ নিজের অভিনয় ক্ষমতার জোরে টিকে থাকা যায়, তাঁর এই সাহসী স্বীকারোক্তি যেন সেটাই আরও একবার প্রমাণ করে দিল।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনোও পেশাগত বাধ্যবাধকতা নয়, বরং জড়িয়ে রয়েছে তাঁর দাম্পত্য জীবনের এক গভীর এবং মিষ্টি সমীকরণ। চ্যাট শো-তে অভিনেতা অত্যন্ত অকপটে জানান, পর্দায় তাঁর ঘনিষ্ঠ দৃশ্য অভিনয় করা তাঁর স্ত্রী একেবারেই পছন্দ করেন না। আর সেই কারণেই জীবনসঙ্গিনীর মানসিক শান্তি, তাঁর পছন্দ-অপছন্দ এবং আত্মসম্মানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। টোটার মতে, অভিনয় তাঁর পেশা হতে পারে, কিন্তু পরিবারের শান্তি ও স্ত্রীর মুখের হাসির চেয়ে কেরিয়ার কখনই বড় হতে পারে না। সম্পর্কের এই পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমতার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, সম্পর্কের নিয়ম ও শ্রদ্ধা দুজনের জন্যই সমান হওয়া উচিত।

স্ত্রীর দেওয়া এই শর্ত রক্ষা করতে গিয়ে যে তিনি আন্তর্জাতিক স্তরের লোভনীয় সুযোগও পায়ে ঠেলতে পারেন, তাঁর এক জলজ্যান্ত উদাহরণও এই সাক্ষাৎকারে দিয়েছেন অভিনেতা। টোটা জানান, সম্প্রতি তাঁর কাছে একটি অত্যন্ত বড় হলিউড ওটিটি (OTT) প্রজেক্টের প্রস্তাব এসেছিল, যা ২০২৭ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা। এই আন্তর্জাতিক প্রজেক্টের জন্য তিনি অডিশন দেন এবং একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের জন্য নির্বাচিতও হন। হলিউডের এই প্রজেক্টে সুযোগ পাওয়া যেকোনোও অভিনেতার জন্যই এক বিশাল মাইলফলক। কিন্তু চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে তাঁকে একটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করার কথা বলা হলে তিনি থমকে যান। প্রজেক্টের নির্মাতারা হলিউডের নিয়ম মেনে অত্যন্ত সুরক্ষিত পরিবেশে শুটিংয়ের আশ্বাস দিলেও টোটা নিজের নীতিতে অনড় থাকেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, হয় চিত্রনাট্য থেকে সেই বিশেষ দৃশ্যটি বাদ দিতে হবে, না হলে প্রজেক্ট থেকে তাঁকে বাদ দিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ অভিনয়ের আগে বদলে ফেলেছিলেন নিজের নাম! কিন্তু কেন? জানেন ‘পরাগ’ খ্যাত দ্রোণ মুখোপাধ্যায়ের আসল নামটা কি?

আন্তর্জাতিক স্তরের এমন একটি বড় কেরিয়ার ব্রেক এবং মোটা অঙ্কের অফার স্রেফ দাম্পত্যের সততা বজায় রাখতে ফিরিয়ে দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি এই বাঙালি অভিনেতা। টোটা রায়চৌধুরীর এই বিরল মানসিকতা দেখে শো-এর সঞ্চালিকা তাঁকে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একজন আদর্শ পুরুষ বা “গ্রিন ফরেস্ট” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। বর্তমান যুগে যেখানে কেরিয়ারের স্বার্থে মানুষ অনেক কিছুই আপস করতে প্রস্তুত থাকে, সেখানে টোটার এই সিদ্ধান্ত এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল। সমাজমাধ্যমে অভিনেতার এই সততা, নৈতিকতা এবং স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন অনুগামীরা।

Back to top button