‘সোশ্যাল মিডিয়ায় সব সমাধান হলে ফোরামের দরকার ছিল না!’ ‘রাতারাতি কিছুই পাল্টানো যায় না,’ সোশ্যাল মিডিয়া বনাম ফোরাম বিতর্কে মুখ খুললেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়!

বাংলার চলচ্চিত্র (Tollywood) ও টেলিভিশন জগতের শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষায় ‘আর্টিস্ট ফোরাম’ দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করে চলেছে। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee) ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি এবং শিল্পীদের অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, কোনো সমস্যার সমাধান যদি শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার মাধ্যমেই হয়ে যেত, তবে আজ এই দীর্ঘ সাতাশ বছরের পুরনো সংগঠনের কোনো অস্তিত্বের প্রয়োজন থাকত না। তাঁর এই বক্তব্যে একদিকে যেমন সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা ফুটে উঠেছে, অন্যদিকে তেমনই বর্তমান ডিজিটাল যুগের ট্রেন্ডের প্রতি একটি প্রচ্ছন্ন বার্তা নিহিত রয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রির শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সদস্যদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো সমস্যা দেখা দিলে অনেক সময়ই দেখা যায় শিল্পীরা সরাসরি সংগঠনের কাছে না গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াকে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। অভিনেতার মতে, জনসমক্ষে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ করার আগে যদি সংশ্লিষ্ট সদস্য ফোরামের এক্সিকিউটিভ কমিটির কাছে বিষয়টি জানান, তবে তা যথাযথভাবে ‘অ্যাড্রেস’ করা বা সমাধান করা সহজ হয়। ফোরামের প্রতিটি সদস্যই এই পরিবারের অংশ এবং তাদের যেকোনো যৌক্তিক দাবি বা অভাব-অভিযোগ শোনার জন্য কমিটির দরজা সবসময় খোলা রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ফোরামের দীর্ঘ ইতিহাস এবং শিল্পীদের সুবিধার্থে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর কথাও এই আলোচনায় উঠে আসে। প্রসেনজিৎ মনে করিয়ে দেন যে, আজ থেকে সাত বা দশ বছর আগে পেমেন্ট স্ট্রাকচার বা কাজের সময়সীমা নির্ধারণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা দূর করতে এই সংগঠন কঠোর পরিশ্রম করেছে। শিল্পীদের সঠিক সময়ে পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে সেটের কাজের পরিবেশ ঠিক করা প্রতিটি পদক্ষেপে ফোরাম ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকের প্রজন্মের অনেক শিল্পী হয়তো সেই কঠিন লড়াইয়ের কথা ভুলে গেছেন, কিন্তু সংগঠনের মূল ভিত্তি যে এখনও সেই সেবার মানসিকতাতেই টিকে আছে, সেটিই তিনি পুনরুচ্চারণ করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ইন্ডাস্ট্রির কিছু কঠিন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি অভিনেতা রাহুলের আকস্মিক প্রয়াণের প্রসঙ্গটি তোলেন। তিনি জানান, সেই ঘটনাটি এতটাই অপ্রত্যাশিত ছিল যে তার জন্য ফোরাম বা ইন্ডাস্ট্রি কেউই মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল না। সেই সময়টি ছিল অত্যন্ত সংকটপূর্ণ বা ‘ক্রিটিক্যাল’। নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা গুছিয়ে বসার আগেই এই ট্র্যাজেডি এবং পরবর্তীতে রাজ্যে নির্বাচনের ব্যস্ততা সব মিলিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে শত প্রতিকূলতার মাঝেও ফোরাম যে তার সদস্যদের পাশে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সেই বিষয়টি তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে তুলে ধরেন।

আরও পড়ুনঃ টিআরপি তালিকায় বাজিমাত ‘পরশুরাম’-এর! সেরা পাঁচে জায়গা করে নিল একসঙ্গে তিনটি ধারাবাহিক! দেখে নিন এই সপ্তাহের টিআরপি তালিকা!

পরিশেষে, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এই বার্তা দেন যে পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়। একটি বড় সংগঠন চালাতে গেলে ধৈর্য এবং পারস্পরিক আলোচনার প্রয়োজন হয়। তিনি মনে করেন, ফোরামে যারা দায়িত্বে আছেন তারা প্রত্যেকেই পেশাদার শিল্পী এবং নিজেদের কাজের ফাঁকে সময় বের করে সংগঠনের কাজ করেন। তাই কোনো সদস্যের যদি কোনো ‘মিনিংফুল’ বা অর্থবহ অভিযোগ থাকে, তবে তা নিয়ে কমিটির সাথে সরাসরি বসা উচিত। ঐক্যবদ্ধ থাকলে এবং সঠিক মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখলে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ আরও শক্তিশালী হবে—এই আশাবাদ ব্যক্ত করেই তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

Back to top button